‘বানোয়াট’ খবর প্রচার করায় রিজভীকে উকিল নোটিস

আজাদী অনলাইন

রবিবার , ২৫ নভেম্বর, ২০১৮ at ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
1038

নির্বাচনে ‘কারচুপির ষড়যন্ত্র করতে’ ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে ‘গোপন বৈঠকের’ যে খবর বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী দিয়েছেন তা বানোয়াট দাবি করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব যে কর্মকর্তাদের নাম বলেছিলেন, তারা সবাই রবিবার একযোগে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন রিজভীকে। বিডিনিউজ

তার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন এই আইনি নোটিস পাঠান। এতে বলা হয়, ‘নোটিস পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আপনার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হবো।’

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি।

এর মধ্যেই শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেছিলেন, গত ২০ নভেম্বর রাতে অফিসার্স ক্লাবের চার তলায় পেছনের কনফারেন্স রুমে একটি ‘গোপন বৈঠক’ হয়।

ওই বৈঠকে ইসি সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, পানি সম্পদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেছিলেন, ‘আমাদের কাছে বিভিন্ন সূত্রে এই খবর এসেছে। রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টার ওই বৈঠকে সারাদেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সেটআপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। সারাদেশে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে যে ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে।‘

রিজভীর এসব বক্তব্য ‘ভিত্তিহীন ও ভুল’ দাবি করে নোটিসে বলা হয়, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আমার মক্কেল জড়িত নন। এমন কোনো বৈঠকও ওইদিন হয়নি। এই ধরনের ভিত্তিহীন ও ভুল বক্তব্যের কারণে আমার মক্কেলের সম্মান ও মানহানি হয়েছে।’

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও বিএনপি নেতার অভিযোগ নাকচ করে বলেছিলেন, ‘সবই প্রপাগান্ডা, মিথ্যাচার। বিতর্কিত ও হেয় করার জন্যে এবং চাপে রাখতে উদ্দেশ্য নিয়েই মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে।’

ইসি সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, ডিএমপি কমিশনারসহ বেশ কয়েকজন জেলা প্রশাসককে সরানোর দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দিয়েছে বিএনপি।

বৈঠকের খবর অস্বীকার করে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেছেন, ২০ নভেম্বর তিনি অফিসার্স ক্লাবেই ছিলেন না, ফলে বৈঠকে অংশ নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

রবিবার জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে তিনি বলেন, ‘কল্পিত ঘটনায় জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদকে জড়িয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। যে তারিখ ও সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই তারিখ ও সময়ে জনপ্রশাসন সচিব মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন শেষে রাত ৮টায় পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অফিস ত্যাগ করেন। ওই দিন তিনি অফিসার্স ক্লাবেই যাননি অথচ তাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে যা তার সুনাম ও সম্মানের হানিকর।‘

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক জানিয়েছেন, ২০ নভেম্বর তিনি সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ছিলেন।

মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, মহিবুল হক ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হোটেল প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও-এ হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (হিল) এর পূর্বনির্ধারিত বার্ষিক সাধারণ সভা ও পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, ‘ঢাকা অফিসার্স ক্লাব সরকারের বিভিন্ন পদে কর্মরত ও প্রাক্তন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ক্লাব। অফিস সময়ের পরবর্তীতে অবসর সময়ে ক্লাবের সম্মানীত সদস্যরা এ ক্লাবে খেলাধুলা, বিনোদনসহ অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন, এ বিষয়টি প্রাত্যহিকভাবে ঘটে থাকে। তাই সন্ধ্যার পর ক্লাবে উপস্থিত থেকে বিনোদন ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মতো অতি স্বাভাবিক একটি কার্যক্রমকে রাজনৈতিক রং লাগিয়ে প্রকাশ করা চরম বিভ্রান্তিকর এবং একজন ক্লাব সদস্যের জন্য অবমাননাকর।‘

বিএনপি নেতা রিজভীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিবের একান্ত সচিব আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ কাজী নিশাত রসুল।

আলাদা প্রতিবাদপত্রে তারা বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও কল্পনাপ্রসূত। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অধিকার কারও নেই।

মারুফ খান প্রতিবাদলিপিতে বলেন, যে তারিখ ও সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই তারিখ ও সময়ে তিনি অফিসার্স ক্লাবেই যাননি।

নিশাত রসুলও প্রতিবাদলিপিতে বলেন, ‘যে তারিখ ও সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই তারিখ ও সময়ে আমি অফিসার্স ক্লাবে যাই নাই। এধরনের তথ্য প্রচারের পূর্বে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কোনো সংবাদ মাধ্যম থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। আমি মনে করি অসত্য বক্তব্য দিয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অধিকার কারও নেই।‘

x