বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড লড়াইয়ে এগিয়ে নিউজিল্যান্ডই

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ
88

নিজেদের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করার রেকর্ড রয়েছে টাইগারদের। কিন্তু তাদের মাটিতে এখনো কোন জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা কিউইদের বিপক্ষে। এবারের সফরে অতীতের সে ইতিহাস বদলাতে চাইছে টাইগাররা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এবারের সফরে তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এবারই প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা। আগামীকাল বুধবার নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। এর আগে কিউইদের মাঠে তেমন কোনো সফলতা না থাকলেও এই সিরিজটা টাইগারদের জন্য যে বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে সেটা বলাই যায়। বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড দুই দলের মুখোমুখিতে কারা এগিয়ে সেটা পরিসংখান থেকে পরিষ্কার হয়ে যাবে। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ক্রাইস্টচার্চে। আর ২০ ফেব্রুয়ারি ডানেডিনে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি ।
রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে এর আগে ২৬ বার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। যেখানে ২১টি ম্যাচ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। আর বাংলাদেশ জিতেছিল ৫টি ম্যাচে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি। হ্যামিল্টনে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরু হবে এই ম্যাচটি। এরপর সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ওয়েলিংটনে ৮ মার্চ থেকে। আর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে ক্রাইস্টচার্চে আগামী ১৬ মার্চ। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মোট সাতটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবকটি সিরিজই ছিল দুই ম্যাচের। তবে কোনো সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। ড্র হয়েছে একটি সিরিজ। ২০০১ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথমবার টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। হ্যামিল্টনে সেই টেস্টে ইনিংস ও ৫২ রানের ব্যবধানে হারতে হয়েছিল সফরকারী বাংলাদেশকে। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল স্বাগতিক কিউরা। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২০৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ দল। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ করতে পেরেছিল মাত্র ১০৮ রান। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজটি সেবার ২-০ তে জিতেছিল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। এরপর ২০০৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে আসে কিউইরা। সেই সিরিজেও ২-০তে হারে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এর প্রায় তিন বছর পর ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডে আবারো দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়ে ২-০ তে সিরিজ হারে সফরকারী বাংলাদেশ।
এরপর ২০০৮ সালে আবারো বাংলাদেশ সফরে এসে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে আসে কিউরা। ঘরের মাঠে এই সিরিজের এক ম্যাচ ড্র ও একটি ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। তাতে ১-০ তে সিরিজ জেতে নিউজিল্যান্ড। পরের বছর কিউইদের মাঠে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে ১-০ তে হারে সফরকারী বাংলাদেশ। এরপর ২০১৩ সালে বাংলাদেশের মাটিতে সফরে আসে নিউজিল্যান্ড। আর এই সফরে এসে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলে কিউইরা। যেখানে দুটি ম্যাচ শেষ হয় ড্র দিয়ে। কিউইদের বিপক্ষে এটাই ছিল টেস্টে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডে সফরে গিয়ে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ২-০ তে হারে টাইগাররা। টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের তেমন কোনো অর্জন না থাকলেও সামপ্রতিক দলীয় পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে এই সিরিজটি যে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিাপূর্ণ হবে বলাই যায়। যদিও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে খুব কম দলই ভাল করতে পারে। ভারতের মত দলকে নাকানি চুবানি খাইয়ে ছেড়েছে কিউইরা। তারপরও এবারের সিরিজে ভাল কিছু করার প্রত্যাশা টাইগার শিবিরের। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে ব্যাট করাটা কঠিন হয়ে পড়ে ব্যাটসম্যানদের জন্য। আর তাদের সুইং বোলারদের দাপট অব্যাহত থাকে মাঠে। এবারের টাইগাররা কেমন করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদিও পরিসংখ্যান মোটেও কথা বলেনা টাইগারদের পক্ষে। তবে মাঠের লড়াই হলো আসল কথা। আর সে আসল কাজটা কেমন করতে পারে তামিম-সাকিবরা সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

x