বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে ৬৩ শতাংশ

বার্ষিক গ্লোবাল চাইল্ড হুড রিপোর্ট

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
20

বাংলাদেশে বিগত বিশ বছরে শিশু মৃত্যুর হার ৬৩ শতাংশ কমিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০০০ সাল থেকে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশ শিশু মৃত্যু হ্রাসে যথেষ্ট উন্নতি করেছে যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অন্যতম। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ ‘বার্ষিক গ্লোবাল চাইল্ড হুড রিপোর্ট ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রিপোর্টের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালে গত দুই দশকে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা অনেক হ্রাস পেয়েছে। চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে, যেখানে ভুটানের শিশু মৃত্যুর হার কমেছে ৬০ শতাংশ, নেপালে ৫৯ শতাংশ এবং ভারতের ৫৭ শতাংশ। খবর বাসসের।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ডব্লিউএইচও গ্লোবাল হেলথ অবজারভেটরির মতে, এ কার্যক্রমে উন্নয়ন হলেও বাংলাদেশে এখনো নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি ঘন্টায় দুটি শিশুর মৃত্যু ঘটে। ২০১৬ সালে পাঁচবছরের নিচে মোট ১৬ শতাংশ শিশুর এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর মধ্যে মোট ৩০ শতাংশ শিশুর মৃত্যুর জন্য নিউমোনিয়া দায়ী। সংস্থার ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, অস্বাস্থ্য ও অপুষ্টি থেকে শুরু করে শিক্ষার অভাব, শিশুমৃত্যু ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শিশুর বিকাশে বাংলাদেশের বিশাল অগ্রগতিকে অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বাস্থ্যবান, সুখী, শিক্ষিত এবং সুরক্ষিত বেড়ে ওঠার সুযোগ অনেক বেশি। কিন্তু বিশেষ করে দূরবর্তী গ্রামগুলো এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বাংলাদেশ নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য মারাত্মক শৈশব রোগের বিরুদ্ধে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।
আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে গত ১ জুন ‘গ্লোবাল চাইল্ডহুড রিপোর্ট’ এ ‘এন্ড অফ চাইল্ডহুড ইনডেক্স’ রাখা হয়েছে। যা থেকে দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে ১৭৬টি দেশে শিশুদের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে। বর্তমান বিশ্বে বছরে ৪.৪ মিলিয়নের কম শিশু মৃত্যু ঘটছে। ৪৯ মিলিয়নের কম খর্বাকায় শিশু জন্মাচ্ছে। ১৩০ মিলিয়নের বেশি শিশু স্কুলে যাচ্ছে। ৯৪ মিলিয়নের কম শিশুশ্রমিক হচ্ছে। ১১ মিলিয়নের কম মেয়েদের জোরপূর্বক বাল্যবিয়ে হচ্ছে। প্রতিবছর ৩ মিলিয়নের কম মেয়ে বয়ো:সন্ধিতে মা হচ্ছে। প্রতিবছর ১২ হাজারের কম শিশু হত্যার শিকার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের সদিচ্ছা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নানা কার্যক্রমে বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রমসহ মা ও শিশুস্বাস্থের উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের ৬ মাসব্যাপী সিএসবি প্রশিক্ষণ, মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম ও ৩ বছর মেয়াদি মিডওয়াইফারি কোর্স চালু করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মায়েদের বিশেষ ভাতা দেয়া চালু রয়েছে। তবে, সরকারের পাশাপাশি পরিবারের অভিভাবকদের সচেতনতা, বিশেষজ্ঞ ধাত্রী দিয়ে প্রসব করানো, চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলার পাশাপাশি জনসচেতনা বাড়লে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস পাবে বলে তারা জানান।

x