বাংলাদেশে বয়স্কভাতার টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হউক বেকারভাতা চালু করা হউক

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ
24

(১) বর্তমানে বাংলাদেশে বয়স্কভাতা চালু করা হয়েছে। উহাতে শর্ত দেওয়া আছে যে একজন পুরুষ লোক ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বৎসর হলে, একজন মেয়ে লোক ৬২ (বাষট্টি) বৎসর হলে বয়স্কভাতা পাবে। বাংলাদেশে বর্তমানে একজন পুরুষ ও একজন মেয়ে লোক প্রতিমাসে ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা করে প্রতি ছয়মাস পর পর বয়স্কভাতা সরকারি ব্যাংক সোনালী ব্যাংক মারফত গ্রাহকদেরকে প্রদান করা হচ্ছে। এ বয়স্কভাতা পৃথিবীর অন্য অন্যান্য দেশ যথা-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ কতিপয় দেশে চালু আছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে যে বয়স্কভাতা প্রদান করা হচ্ছে। জনপ্রতি টাকার পরিমাণ বাংলাদেশের জনপ্রতি টাকার পরিমাণ হইতে অনেক বেশী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রতি মাসিক বয়স্কভাতার পরিমাণ এক হাজার ডলার ও ভারতে জনপ্রতি মাসিক বয়স্কভাতা বারশত কপি বলে শুনা যাচ্ছে। একজন লোক চাকরি হতে অবসর গ্রহণ করলে বেসরকারী কর্মচারীগণ বয়স্কভাতা পান। কারণ বেসরকারী ‘কর্মচারীগণ’ ‘সরকারি’ কর্মচারীর মত পেনশন পান না। অনেক বয়স্ক কর্মচারীর ছেলে-মেয়েগণ তাদের মাতা-পিতার জন্য পারিবারিক খরচের জন্য টাকা পাঠাতে পারে না বা কেহ কেহ ইচ্ছা করে টাকা পাঠান না। সুতরাং উক্ত বয়স্কব্যক্তি তাদের পারিবারিক খরচ পরিচালনার জন্য সরকারের প্রদত্ত বয়স্কভাতার উপর নির্ভর করতে হয়। সুতরাং বর্তমান সরকার বর্তমান বিশ্বের এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বয়ষস্কভাতা বৃদ্ধি করলে বাংলাদেশের প্রায় ৩০ (ত্রিশ) লক্ষ বয়স্কব্যক্তি আনন্দিত, উপকৃত ও বাধিত থাকবে। (২) বেকারভাতা চালু করা হউক ঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও রাজনৈতিক দলের নেতার উক্তিমতে বাংলাদেশে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমপক্ষে এককোটি পঁচাত্তর লক্ষ। যদি প্রত্যেক বেকার ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ২,০০০/- (দুই হাজার) টাকা করে বেকারভাতা দেওয়া হয়, তাহলে প্রতি বৎসর ৪২,০০০ (বিয়াল্লিশ হাজার) কোটি টাকার প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে চলতি বৎসরের বাজেট হচ্ছে ৪ (চার) লক্ষ ৬০,০০০ (ষাট হাজার) কোটি টাকার উর্দ্ধে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য বেকার ভাতা চালু হয়নি। ফলে দেশে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একজন লোকের বাঁচতে মৌলিক চাহিদা হচ্ছে (১) অন্ন (২) বস্ত্র, (৩) বাসস্থান (৪) চিকিৎসা (৫) শিক্ষা। এ মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে পৃথিবীতে মানুষ বাঁচতে পারবে না। তখন দেশের বেকার যুবক সম্প্রদায় বাচবার তাগিদে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির মত অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। তাই উপরোক্ত বিষয়গুলোর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিশেষ করে জন প্রতিনিধিমূলক সরকার বর্তমানে দেশে চালু করা বয়স্কভাতার টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করা সহ বেকারভাতা চালু করলে পৃথিবীর সর্বত্র বর্তমান সরকারের কর্মসূচি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হবে বলে মনে হয়।
পরিতোষ কুমার পালিত, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, রাউজান, চট্টগ্রাম।

x