বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জের নাম আফগানিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ
35

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুটি দল আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ে। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ে দলের মাঠের চাইতে মাঠের বাইরের অবস্থাটা বেশি টালমাটাল। কাজেই জিম্বাবুয়েকে নিয়ে খুব একটা বেশি চিন্তা ছিলনা বাংলাদেশের। তারপরও জিম্বাবুয়ে কিন্তু ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিল স্বাগতিকদের প্রথম ম্যাচে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে এসে টাইগারদের ওজনটা পরিমাপ করতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি জয় নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফাইনাল। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মিলেছে সামান্যই। অনেক হিসাব চুকানোর বাকি আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ফাইনাল ম্যাচতো রয়েছেই। তার আগে লিগ পর্বে আফগানদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিও গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে সমীকরণ ছিল, মাঠের ক্রিকেটও এগিয়ে চলেছে সেভাবেই। প্রাথমিক পর্বের দুটি ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয়ে গেছে ফাইনালের লাইন-আপ। আগামী মঙ্গলবারের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।
তাই টুর্নামেন্টের চট্টগ্রাম পর্বের শেষ দুটি ম্যাচ বলতে গেলে কেবলই নিয়ম রক্ষার। তবে এর বাইরেও আছে কিছু বাস্তবতা। আজ শুক্রবার আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে দেড় যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তার জন্য জিম্বাবুয়ে দলের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ কিছু। পর দিন আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে হারের ধারা থেকে বেরিয়ে আসা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ চার টি-টোয়েন্টির সবকটিই হেরেছে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে ফাইনালে উঠলেও আফগানদের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচটিতে সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়তে পারেননি সাকিব- মুশফিকরা। অথচ কি দারুণভাবেই শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাট হাতে একজন মোহাম্মদ নবী আর বল হাতে একজন মুজিবুর রহমান সব এলোমেলো করে দেন। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বেই দেখা গেছে বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের। আর সে ম্যাচেই জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে আফগানরা। ্লটি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে র‌্যাংকিংয়ে আফগানদের চাইতে পিছিয়ে বাংলাদেশ। একই সাথে মানসিকভাবেও আফগানদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থেকে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সেটির প্রভাব দেখা গেছে পারফরম্যান্সেও। ফাইনালের আগে আরেকবার যদি হারতে হয় আফগানিস্তানের কাছে তাহলে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস নেমে যাবে আরও তলানীতে। আর সে হারের প্রত্যক্ষ প্রভাব গিয়ে পড়বে ফাইনালে। তাই পরের ম্যাচটি জিততে চায় বাংলাদেশ। যদিও ওই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে গেলেও ফাইনালে ফেবারিট থাকবে আফগানিস্তানই। কারণ আফগানরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা বেশ ভাল খেলে। তবে আফগানদের সমান্তরালে থেকে ফাইনালে ওঠতে পারলে সেটা হবে স্বস্তির। আর সে সাথে পাওয়া যাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও। যেভাবে টুর্নামেন্টটা শুরু করেছিল বাংলাদেশ, তাতে অবশ্য ফাইনালে ওঠা নিয়েও শঙ্কা ছিল বেশ। জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম ম্যাচে দল ছিল বিপর্যস্ত। দলে ফেরা তরুণ আফিফ হোসেন সেদিন উদ্ধার করেছিলেন। গত বুধবার অবশ্য দাপুটে পারফরম্যান্সেই জয় এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এই জয় থেকেই খানিকটা বিশ্বাস ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে। বুধবার ৪১ বলে ৬২ রানের ইনিংসে দলের জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহর মতে, ফাইনালের আগে আফগানদের বিপক্ষে জয় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন আমাদের পরবর্তী কাজ হচ্ছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে আরও ভালো পারফরম্যান্স করে জয় পাওয়া। যেন আমরা ম্যাচটা জিততে পারি এবং ফাইনালের জন্য তৈরি হতে পারি। সামনের জয়টি আমাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করবে। মাহমুদ উল্লাহ বলেন আমার কাছে মনে হয় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। চাওয়া থাকবে, আমরা সেরা পারফরম্যান্স দিয়েই যেন ম্যাচটা খেলতে পারি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমরা ম্যাচটা জিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেন ফাইনালে যেতে পারি। ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় অনেকটা নির্ভার থেকেই ম্যাচটি খেলার কথা বাংলাদেশ দলের। আফগানদের বিপক্ষে চাপমুক্ত থেকে নিজেদের সেরাটা দেখানোর সুযোগ এটিই। তাই টুর্নামেন্টের বাস্তবতায় ম্যাচের গুরুত্ব খুব না থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ম্যাচটিকে ঘিরে কৌতূহল থাকবে যথেষ্টই।

x