বাংলাদেশের নারীদের হোয়াইট ওয়াশই করল ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
16

ভারতের নারী ‘এ’ দলের কাছে হোয়াইট ওয়াশই হতে হলো বাংলাদেশের নারী ‘এ’ দলকে। দুই দলের ব্যবধানটা বেশ ভাল ভাবেই বুঝিয়ে দিল ভারতের মেয়েরা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের মেয়েরা একটি ম্যাচেও দাড়াতেই পারলনা। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা দিয়েছেন চরম ব্যর্থতার পরিচয়। ফলে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করা ভারতের মেয়েদের সামনে হাতছানি ছিল গতকাল স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েদের হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা দেওয়ার। আর শেষ পর্যন্ত সেটা করে দেখাল ভারতের মেয়েরা। জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জেতার পাশাপাশি ৩-০ ব্যবধানে স্বাগতিকদের হোয়াইট ওয়াশ করেছে ভারতের নারী ‘এ’ দল। গতকালের ম্যাচে ব্যাটে বলে একেবারে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতীয় নারী দলের অধিনায়ক দেবিকা বিদ্যান। তার অল রাউন্ড নৈপূন্যে সহজ জয় তুলে নেয় ভারতের মেয়েরা।
সকালে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। ২৬ রানের মাথায় ৫ রান করে ওপেনার শারমিন আকতার ফিরে এলেও মুরশিদা এবং ফারজানা মিলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ দুজন ৩০ রান যোগ করার পর ফিরেন ফারজানা। ১৬ রান করা ফারজানা ফিরেন সুশ্রির বলে। এরপর মুরশিদা এবং সানজিদা মিলে চেষ্টা করেন এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু দলকে ৭২ রানে পৌছে দিয়ে বিচ্ছিন্ন হন দুজন । এবার ফিরেন ওপেনার মুরশিদা। ৫৬ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করে ফিরেন মুরশিদা। ৭২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর শুরু হয় স্বাগতিক দলের ব্যাটিং বিপর্যয়। ভারতের মেয়েদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর আসনে আর দাড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ দলের পরের ব্যাটসম্যানরা। তবে একজন সানজিদা ইসলাম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অপর প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিতে পারেনি কেউই। ৭২ রানে ৩ উইকেট হারানো স্বাগতিকরা পরের ৭টি উইকেট হারিয়েছে ৫৬ রান যোগ করতেই। যেখানে সানজিদার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ৬ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হলো। কারন অপর প্রান্তে সঙ্গীরা কেবলই আসা যাওয়া করায় ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে ফিরেন সানজিদা। তার ৮৭ বলের ইনিংসটিতে ৩টি চারের মার ছিল। এছাড়া শেষ দিকে ১০ রান আসে ফাহিমা খাতুনের ব্যাট থেকে। স্বাগতিকরা থামে ১২৮ রানে। যা সিরিজে বাংলাদেশের মেয়েদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ভারতের নারী ‘এ’ দলের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন তনুশ্রী সরকার এবং রাশি কানুজিয়া। ২টি উইকেট নিয়েছেন অধিনায়ক দেবিকা বিদ্যান। একটি উইকেট নিয়েছেন সুশ্রী।
১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ভারতকে শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছিলেন খাদিজা তুল কুবরা। দলীয় ২৫ রানের মাথায় ১৯ রান করা মেঘনাকে ফেরান এই স্পিনার। অধিনায়ক শায়লা শারমিনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে তনুশ্রী সরকার যখন ফিরেন তখন ভারতের সংগ্রহ ৩৭ রান। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান ওপেনার ইয়াস্তিকা ভাটিকা এবং অধিনায়ক দেবিকা বিদ্যান। এ দুজন ৬৯ রান যোগ করে দলকে জয়ের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল। নিজের হাফ সেঞ্চুরি থেকে যখন মাত্র ২ রান দুরে ইয়াস্তিকা তখন অধিনাকের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ফিরেন ভারতীয় দলের এই ওপেনার। তার ৯১ বলের ইনিংসটিতে ৫টি চারের মার ছিল। এরপর অবশ্য মিন্নু মানিকে নিয়ে নির্বিঘ্নে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেন। ৭৩ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক দেবিকা বিদ্যান। আর মিন্নু মানি অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে। ব্যাটে এবং বলে অল রাউন্ড নৈপূন্য প্রদর্শন করায় ভারত নারী দলের অধিনায়ক দেবিকা বিদ্যান ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। তার হাতে পুরষ্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস। এ সময় সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শহীদুর রহমান, বিসিবি কর্মকর্তা সাইফুল আলম বাবু এবং জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারী খান রুবেল উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ ভারতের নারী দলের ক্রিকেটারদের হাতে সিরিজ জয়ী ট্রফি তুলে দেন। চট্টগ্রামে তিন ওয়ানডে সিরিজ শেষে দু দল চলে গেছেন কঙবাজারে। সেখানে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ এবং ভারত নারী ‘এ’ দল।

x