‘বাংলাদেশকে হারানোর রান হয়ে গেছে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৫:০২ পূর্বাহ্ণ
45

অসমান বাউন্স। আর সেই উইকেটেই শ্রীলংকা এগিয়ে গেছে ৩১২ রানে। রোশেন সিলভার বিশ্বাস, বাংলাদেশকে হারানোর রান হয়ে গেছে। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি করেছেন রোশেন। দলের ভরসা হয়ে টিকে আছেন এখনও। তৃতীয় দিন সকালে আরও বাড়াতে চাইবেন লিড। তবে এই ব্যাটসম্যানের বিশ্বাস, জয়ের মতো রান হয়ে গেছে। বাকি যত রান আসবে, তত বাংলাদেশের ওপর বাড়বে চাপ। ‘আমার মনে হয় না, এই উইকেটে ৩০০ রান করা সম্ভব। যথেষ্ট হয়ে গেছে আমাদের। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও জানে এই উইকেটে কাজটা কঠিন। আমাদের স্পিন আক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি অভিজ্ঞ। হেরাথের চারশর বেশি টেস্ট উইকেট আছে, দিলরুয়ান পেরেরার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭০০ উইকেট আছে। আমরা ম্যাচ জয়ের জন্য খুব ভালো অবস্থানেই আছি।’ ‘তবে ক্রিকেটে অভাবনীয় অনেক কিছুই হয়। ওদেরকে ১০০ রানে (১১০) রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর আমাদের প্রথম চাওয়া ছিল ৩০০ রানের লক্ষ্য দেওয়া। সেটা আমরা পেরেছি। কাল সকালে চেষ্টা করব আরও রান করে লক্ষ্য আরও বাড়িয়ে নিতে।’

মিরপুরের ব্যাটিং প্রতিকূল উইকেটে রান করার উপায় কি জানতে চাওয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে রোশেন সিলভা খানিকটা ভেবে বললেন, ‘উপায়, প্রার্থনা করা।’ শেরবাংলার এই উইকেটে রান করার উপায়টা সবচেয়ে ভালো জানার কথা রোশেনেরই। দুই দল মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মিরপুর টেস্টের সেরা ব্যাটসম্যান বলা যায় তাকে। প্রথম ইনিংসে দারুণ এক ফিফটিতে দলকে এনে দিয়েছিলেন ভালো রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও আরেকটি অসাধারণ ফিফটিতে করে দলকে নিয়ে গেছেন দুশর ঠিকানায়। শ্রীলঙ্কার লিড হয়ে গেছে ৩১২। কিন্তু কাজটা কতটা কঠিন ছিল, এটা ফুটে ওঠে রোশেনের কৌতুকময় উত্তরেই, ‘এখানে ব্যাট করতে যাওয়ার আগে, সবচেয়ে ভালো প্রয়োজন প্রার্থনা করা’। পর মুহূর্তে অবশ্য ক্রিকেটীয় উপায়ও বলেছেন, ‘স্রেফ মজা করছিলাম। এই উইকেটে আসলে ভালো বল পেলে কিছু করার থাকে না। একটিদুটি উইকেট দ্রুত চলে যেতে পারে। আলগা বল পেলে তাই সেটিকে কাজে লাগাতেই হবে।’ রোশেন সেই কাজ খুব ভালো করেছেন। শুধু দুই ইনিংসে ফিফটি করেছেন বলেই নয়, উইকেটে তাকেই মনে হয়েছে ভুগেছেন সবচেয়ে কম। ২৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান জানালেন, তার প্রস্তুুতিটা ছিল এরকম কিছুর জন্যই। ‘উপমহাদেশে স্পিন ও রিভার্স সুইংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতেই হবে। এখানে আসার আগে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমরা জানতাম এখানে কন্ডিশন কেমন হবে ও কোন ধরনের বোলারদের খেলতে হবে। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম।’ টার্নিং উইকেটে নিজেদের দেশেও খেলে শ্রীলংকা। তবে মিরপুরের উইকেটের রঙ দেখে রোশেন সিলভার মনে পড়েছে শ্রীলংকার রাস্তার কথা। শেরবাংলা স্টেডিয়ামের শুরু থেকেই উইকেটের রঙ কালচে। মাঝে একটু বদল হলেও চলতি টেস্টের উইকেট সেই চেনা চেহারায়। দুই ইনিংসেই ফিফটি করা রোশেন সিলভা অবাক উইকেটের চেহারা দেখে। ‘কখনও কখনও বাজে আবহাওয়া থাকলে এরকম উইকেট আমরা পাই। নইলে আমাদের দেশে লোকে যখন সড়ক বানায়, কিছু বালি ও অন্য জিনিসপত্র দেয়, তখন দেখতে এরকম দাঁড়ায়। এই চেহারার উইকেট দেখতে পাওয়া যায় না।’ তবে এমন উইকেটের কৌশল বাংলাদেশকে ফল দিচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের জয় অসম্ভবের কাছাকাছি। শ্রীলংকার মত স্পিন প্রধান দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশ কেন এমন উইকেট বেছে নিয়েছে, ভেবেই পাচ্ছেন না রোশেন। ‘আমি ভেবেছিলাম এটি বোধহয় ভালো ব্যাটিং উইকেট হবে। উপমহাদেশে সাধারণত অস্ট্রেলিয়া বা এরকম অন্য দলেরা এলে এমন উইকেট বানানো হয়। কিন্তু শ্রীলংকার স্পিন আক্রমণ ভালো। আমি জানি না, কেন তারা আমাদেরকে এমন উইকেট দিয়েছে’।

x