বাঁশ ও বেত শিল্পে স্বাবলম্বী শাহজালাল

লিটন কুমার চৌধুরী : সীতাকুণ্ড

সোমবার , ২৪ জুন, ২০১৯ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
36

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কুটির শিল্প নানাবিধ শিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য। এক সময়ে বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে পুরানো এ শিল্পের বেশ কদর থাকলেও বর্তমান আধুনিক জিনিসপত্রের প্রচলনে বাঁশ বেতের তৈরি শিল্পের পণ্য মানুষের আগ্রহ তেমন পরিলক্ষিত হয় না। তবে পরিবর্তিত আধুনিক সভ্যতার এ যুগেও গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া এ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। তেমনি হারিয়ে যাওয়া কুটির শিল্পের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের পাশাপাশি এ শিল্পের তৈরি পণ্য বিক্রির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন সীতাকুণ্ডের পরিশ্রমী যুবক শাহজালাল। তার এ সফলতায় বর্তমানে এ শিল্পের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেকে।
জানা যায়, সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের উত্তর মাহামুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা শাহজালাল ২০০৭ সালে ৩০ হাজার টাকা পুঁজিতে স্থানীয় শুকলাল হাটে বাঁশ, বেতের তৈরি লাই, খাঁচা, টুকরি, কুলাসহ বিভিন্ন পণ্যর ব্যবসা শুরু করেন। এ শিল্পের তৈরি জিনিসের উপর প্রথমে মানুষের আগ্রহ কম দেখে তিনি কিছুটা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। তবে ফসল ও সবজির আবাদসহ নির্দিষ্ট মৌসুমে এ শিল্পের তৈরি জিনিসের প্রতি মানুষের চাহিদার কারণে তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যবসার আরো প্রসার ঘটান। এতে কয়েক বছরের মধ্যে এ ব্যবসায় লাভের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেন তিনি। বর্তমানে এ ব্যবসায় তার লক্ষাধিক টাকা পুঁজি রয়েছে বলে জানান তিনি। মহাসড়কের পাশে তার সাজিয়ে রাখা বাঁশ ও বেতের তৈরি লাই, খাঁচা,টুকরিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস গৃহস্থালী ও কৃষিকাজে ব্যবহারে কিনতে ক্রেতাদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।
আলাপকালে ব্যবসায়ী শাহজালাল জানান, বছরের অর্ধেক সময় এ ব্যবসায় ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকলেও শীতকালিন সবজি এবং ধানের মৌসুমে এ শিল্পের তৈরি জিনিসের প্রতি ক্রেতাদের প্রচুর চাহিদা থাকে। উপজেলার বড় দারোগারহাট ও মাহামুদাবাদ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিস পাইকারী কিনে আনেন। প্রতি সপ্তাহে দু’দিন বসা শুকলাল হাট বাজারে দোকান সাজিয়ে পণ্যগুলো বিক্রি করেন তিনি। তিনি আরো জানান, মৌসুমকালীন সময়ে প্রতি জোড়া বড় লাই দু’শ টাকা, মাঝারি ও ছোট লাই দেড়শ থেকে ১’শ বিশ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া বাঁশের তৈরি প্রতি জোড়া খাচা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, প্লাস্টিক খাঁচা প্রকার ভেদে ৫০০ থেকে ৩৫০ টাকা,টুকরি জোড়া ৩০০ টাকা, কুলা ১০০/১২০ টাকায় বিক্রি হয়।
বাজারে খাঁচা কিনতে আসা বাড়বকুণ্ডের ভায়েরখীল এলাকার বাসিন্দা রফিক উদ্দিন ছিদ্দিকী জানান, এ শিল্পের সাথে জড়িত পরিবারগুলোকে পরিবারভিত্তিক ব্যাংক ঋণ ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করলে বাঁশের তৈরি কুটির শিল্পটাকে একমাত্র অবলম্বন করে টিকে থাকা এখনও সম্ভব। তিনি কুটির শিল্প ব্যবসায় স্বাবলম্বী শাহজালালের প্রশংসা করে আরো বলেন,ব্যবসার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া কুটির শিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তার নিরন্তর চেষ্টা আমাদের এ শিল্পের প্রতি আরো অনুপ্রাণিত করবে।

x