বাঁশখালীর একাধিক ফিশিং বোটে হানা, গুলি

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুর উৎপাত

বাঁশখালী প্রতিনিধি

শনিবার , ২০ এপ্রিল, ২০১৯ at ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
166

বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার পাশাপাশি বেড়েছে জলদস্যুদের উৎপাত। জলদস্যুদের উৎপাত ও ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জেলে, মাঝিমাল্লাসহ ফিশিং বোটের মালিকেরা। সংঘবদ্ধ জলদস্যু ও ডাকাত দল যে কোনো সময় ফিশিং বোটে হানা দিয়ে ডাকাতি ও সর্বস্বান্ত করছে জেলেদের। ভুক্তভোগীদের মতে, জলদস্যুরা কেবল ফিশিং বোটে রক্ষিত মাছ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে কান্ত হচ্ছে না, তাদের কথা মত অন্য ফিশিং বোট ডাকাতি কাজে সহযোগিতা না করলে গুলি করাসহ হাত-পা বেঁধে মাঝি-মাল্লাদের সাগরে ফেলে দিচ্ছে।
জানা যায়, বাঁশখালীর চাম্বল বাংলা বাজার এলাকার মোহাম্মদ হোছাইনের মালিকানাধীন এফবি আল্লাহ মালিক দুইদিন আগে বঙ্গোপসাগরে কুতুবদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এ সময় ফিশিং বোটের মাঝি নেজাম উদ্দিনকে ডাকাতরা গুলি করে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাঁশখালীর ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. এয়ার আলীর মালিকানাধীন ফিশিং বোট এফবি ইসলামের মাঝি মো. জসীমকে গুলি করে বাকি জেলেদের জিম্মি করে মাছসহ সব কিছু নিয়ে যায় ডাকাতদল। এদিকে শেখেরখীল এলাকার আবদুর রশিদ ও কালু মাঝির মালিকানাধীন এফবি এলাহি বক্স নামে একটি ফিশিং বোট এক সপ্তাহ ধরে লাপাত্তা বলে জানান বাঁশখালীর ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ভুট্টো। তিনি বলেন, বর্তমানে যে হারে জলদস্যুদের উৎপাত বেড়েছে তাতে মাছ ধরা দূরের কথা সাগরে যেতেও ভয় পাচ্ছে জেলেরা। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও চকরিয়া ভিত্তিক চিহ্নিত জলদস্যুরা প্রতিনিয়ত এ ডাকাতি করে যাচ্ছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি। সাগরে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে প্রশাসনকে সময় মত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা সম্ভব হয় না বলে জানান তারা। সাগরে নিরাপদে মাছ ধরা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন জেলেরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, অধিকাংশ ঘটনা মাঝ সাগরে সংঘটিত হয় বলে অনেক সময় আমরা এ্যাকশানে যেতে পারি না। তবে জেলেদের সহযোগিতায় পুলিশ সবসময় প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

x