বাঁশখালীতে ভোগান্তির অপর নাম বিদ্যুৎ

আকাশে মেঘ বা ঝড়বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ উধাও

বাঁশখালী প্রতিনিধি

বুধবার , ২০ জুন, ২০১৮ at ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
117

বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বাঁশখালীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। লোডশেডিংয়ের কারণে এবার ঈদে বাড়িতে আসা লোকজনের অন্তহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য লোকজন মরিয়া হয়ে পড়লেও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে জেনারেটর ভাড়া করে খেলা দেখতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা যখন শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে তখন বাঁশখালীবাসী নিয়মিত বিদ্যুৎ পেতে কাতর হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ধরণা দিচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের যেন গা ছাড়া ভাব। যদি ঝড়বৃষ্টি বা একটু বাতাস হয় সাথে সাথে উধাও হয়ে যায় বিদ্যুৎ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর বিদ্যুৎ আসে না। আসলেও শুরু হয় নানা ভেল্কিবাজি। এক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আসতে না আসতেই বন্ধ হয়ে যায় অন্য এলাকার সরবরাহ।এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসাযাওয়ার কারণে লাইট, টিভি, ফ্রিজ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রিক জিনিস নষ্ট হয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে গ্রাহকদের। অপরদিকে কভারবিহীন তারে প্রতিনিয়ত সংগঠিত হচ্ছে নানা দুর্ঘটনা। পল্লী বিদ্যুৎ বাঁঁশখালী জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার। তৎমধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৫২ হাজার, বাণিজ্যিক ৫ হাজার, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ১ হাজার, বিভিন্ন ধর্মীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ৪ শ ও সেচ সংযোগ রয়েছে ৪৮৩ টি। বাকিগুলো নতুন সংযোগ।এছাড়া রয়েছে পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক বাতি। ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র ১টি (২০এমভিএ)। বর্তমানে বাঁশখালীতে উপজেলা ও পৌরসদর জলদী, কালীপুর গুনাগরী, বৈলছড়ী ও নাপোড়ায় ৪টি সাব স্টেশন করা হলেও তার মধ্যে নাপোড়ারটি ছাড়া বাকি ৩ টি চালু আছে। জানা যায়, বাঁশখালীর সাব স্টেশনগুলোতে সর্বোচ্চ লোড ১৭.৫০ মেগাওয়াট। ১৪ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ ৩৯৭ বর্গকিলোমটার আয়তনের এ উপজেলার প্রায় ১৫০ টিরও অধিক গ্রামে বিদ্যুতায়ন করা হলেও এসব এলাকর গ্রাহক দৈনিক কয়েক ঘন্টাও বিদ্যুৎ পায়না। আগের ৬২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ৬ হাজার নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি১ বাঁশখালী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ নাইমুল ইসলাম জানান, বাঁশখালীতে চাহিদা অনুসারে দৈনিক ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎতের প্রয়োজন। কিন্তু তার পুরোটা পাওয়া যায়না বলে তিনি জানান। আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাঁশখালীর বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি জানান।

জানা যায়, উপজেলা সদরের জোনাল অফিস ও সাব স্টেশনসহ ৫ টি অফিসে মিলে মাত্র ৬০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন। লাইনম্যান আছেন মাত্র ২২ জন, স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে গেলে আরো ৮ থেকে ১০ জন লাইনম্যান প্রয়োজন। ইলেকট্রেশিয়ান রয়েছেন মাত্র ২৪ জন।

x