বহমান সময়

ফজলুল হক

সোমবার , ১১ জুন, ২০১৮ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ
27

তরুণ সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে নেতারা ভেবে দেখেছেন?

(এক)

দক্ষিণ খুলশীর একটি দশ তলা ফ্ল্যাট বাড়ির নীচে নাজিমের রিক্সা থামে। নাজিমের সাথে আছে এক সঙ্গী। বয়সে তরুণ, সাদা শার্ট কালো প্যান্ট পরনে। এইটি পুষ্পাদের বাড়িসাদা শার্ট জানায়। নাজিম বলে, শিউর? ভরসা রাখেন, বলে সাদা শার্ট। দশতলা ভবনের টপ ফ্লোরে পুষ্পারা থাকে। নাজিম অবাক সুরে বলে, এতবড় বাড়ি সাদা শার্ট বলে, উপর থেকে নীচে ত্রিশটি এপার্টমেন্ট, কোনটা ভাড়া দেয়নি। সব ফ্লোর পুষ্পার বাবা নিজে ব্যবহার করেন। হয়ত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। দুজন লিফটে চড়ে। কলিং বেল শুনে দরজা খোলেন পুষ্পার পলিটিশিয়ান বাবা। বোঝা যাচ্ছে পোড় খাওয়া মানুষ। নাজিম ও তার সাথী ফ্ল্যাটের বিশাল ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে। পরিস্থিতি গুমোট হয়ে আছে। সাংবাদিক এখানে কি চায়? মনে হচ্ছে, পুষ্পার পলিটিশিয়ান বাবা নাজিমের কাজেদেয়ালের মতো নয়, হিমালয় পর্বতের মতো বাধা হবেন এবং কঠিন বাধা হয়ে পাশের সোফায় বসে আছেন। নাজিমের বক্তব্য শুনে উনি ক্ষিপ্ত মহিষের মতো ফুঁসছেন। ভদ্রলোক চিৎকার করে বল্লেন, বল্লাম তো, আমার মেয়ে আপনাদের সাথে দেখা করবেনা। কথা বলবেনা। বলতে পারবেও না। সে বাসাতে নাই। তয় পুষ্পা কোথায় গেছে? প্রশ্নটা শান্ত ভাবে করল নাজিম। কোথায় গ্যাছে মানে? হুংকার ছাড়লেন পুষ্পার বাবা। তারপর কি মনে করে সুর নরম করে বল্লেন, চাচুর বাসায় গ্যাছে। চাচার বাড়ি কি চাটগাঁতে? বিনীত ভাবে বলে নাজিম। যদি তা হয়, তাহলে তারে বলেন এক ঘন্টার জন্য আসতে। আমি তার সাথে কিছু কথা বলব। কথা বলে চলে যাব। পুষ্পার বাবা চুপ করে বসে থাকেন। রাগে কাঁপছেন। দল ক্ষমতায়। এত সাহস দেখায় এসব সাংবাদিক? নাজিম এই ঘরে আসার পর পুষ্পার পলিটিশিয়ান বাবা একজন মন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন, বলেছেন, তার মেয়েকে এক সাংবাদিক কিছু জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছে। মন্ত্রী জানতে চান, কিসের ব্যাপারে? পুষ্পার বাবা বলেন, মাদকের ব্যাপারে। মন্ত্রী বলেন, আচ্ছা তুমি বাসায় থাক, আমি দেখছি। পুষ্পার বাবা বলেন, যে ভাবেই হোক এটা থামান। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন। সাংবাদিকরা কম না। যায় কেঁচো খুঁড়তে, বের করে আনে সাপ। সরকার প্রধান মাদকের দৌরাত্ম্য চাননা। অনেকের এটা বুঝতে দেরী হচ্ছে। কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখনো উপরের মহল থেকে ফোন আসেনি। পুষ্পার বাবা নাজিমকে ফোন রিসিভ করতে দেখেননি। আপনাকে কেউ ফোন দেয়নি? অবশেষে কথাটা বলে ফেললেন ভদ্রলোক। কিসের ফোন? অবাক সুরে বলে নাজিম। এই তো এই ব্যাপারে, ভদ্রলোক বল্লেন। নো ফোন, বল্ল নাজিম। এই ব্যাপারে কে ফোন দিবে? কথাটা বলে তার সঙ্গীর দিকে তাকাল নাজিম। এখানে আসার আগে এ রকম কিছু আঁচ করেছিল সাদা শার্ট পরা ক্রাইম রিপোর্টার আবসার অপু। সে এডিটর স্যারের সাথে সাক্ষাৎ করেছিল। চট্টগ্রামের একটি জনপ্রিয় দৈনিকপত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার অপু। সে জানে তার এডিটর আইজি স্যারের ফুফা। সে এডিটরকে বলেছে, স্যার, আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার নাজিম শ্যামল আমাকে নিয়ে দক্ষিণ খুলশীতে এক লিডারের বাসায় যাবেন। এসাইনমেন্ট শেষ করার জন্য উনার মেয়েকে কিছু প্রশ্ন করা দরকার। আমরা নিশ্চিত উপরের চাপ আসবে। এডিটর বলেন, অপু গো এহেড। কিছু হবেনা। নাজিম বুঝে গেছে উপরের ফোন আসবেনা। নেতাদের দাপট কখনো কখনো মুখ থুবড়ে পড়ে। পুষ্পা ইয়াবার ব্যাপারে কি জানে? নাকি নাজিম ওই লিডার পর্যন্ত পৌছতে চাচ্ছে? পুষ্পার বাবার এত সম্পদের উৎস কি? ওয়ান ইলেভেনের সময় তার ঘরটা তো সেমি পাক্কা ছিল? মানুষ সব দেখে। বোঝে কিন্তু কিছু বলেনা। রাতারাতি কোটিপতি হওয়া লোকেরা বলে, এটা আল্লাহর দান।

নাজিম বলে, দয়া করে আপনার মেয়েকে ফোন করুন। আসতে বলুন। আমরা সাধারণ সাংবাদিক। দু’একটা কথা জিজ্ঞেস করে চলে যাবো। পুষ্পার বাবা বলেন, আমার মেয়েকে প্রশ্ন করতে চাচ্ছেন, কোন প্রমাণের ভিত্তিতে? আহা, আপনি তো ব্যাপার বুঝতেই পারছেন না। বরিশাল কলোনীতে রেইড হয়েছে, শুনেছেন? এটা এখন মাদকের স্বর্গ। সোনিয়া নামে এক মেয়ে এ্যারেষ্ট হয়েছে। সোনিয়াসাদ্দামের বান্ধবী। সাদ্দামকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে পাওয়া গেলে স্কুল কলেজে ইয়াবা ক্যামনে যায় তা জানা যাবে। সোনিয়া বলেছে পুষ্পা সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ। সাদ্দামের ফ্ল্যাটে পুলিশ তল্লাশী করে ইয়াবা পেয়েছে। এক লক্ষ পিস। আপনার মেয়েকে জিজ্ঞেস করব, সাদ্দাম এখন কোথায়। আপনি আমার কথা বুঝতে পারছেন? কিছু সময় সবাই চুপচাপ বসে থাকে। এবার নাজিম বলে, আমরা কেউকেটা নই। পুলিশ, র‌্যাব নই। মানুষ আমাদের ভয় পায়না। আমরা তো কেবল স্টোরী বানাতে পারি। আপনার মেয়েকে কথা জিজ্ঞেস করব। জানলে, বলবে। না হয় চলে যাব। পুষ্পার বাবা বলেন, আমার মেয়ের সাথে ওই ছেলের যোগাযোগ আছে, এটা মিথ্যাও তো হতে পারে? নাজিম বলে, হতে পারে। যেটা সত্য আমরা সেটা লিখব। আপনি কি আমাদের বিপজ্জনক মানুষ ভাবছেন? নাজিম হাসে। রহস্যে ভরা হাসি। সাদা দাঁত এখনো বের হয়ে আছে। হাসতে হাসতে নাজিম বলে, আপনি শুধু শুধু বিরক্ত হচ্ছেন। পুষ্পার বাবার মুখ লালচে হয়ে যায়। মনে হচ্ছে যেন উনার মেয়ের উপর উনার খুব রাগ হচ্ছে। নাজিম নিরীহ ভঙ্গিতে বলে, জানেন তো, চট্টগ্রামে কয়েকটি পত্রিকা আছে। অনেক সাংবাদিক চট্টগ্রামে আছে। প্রেস ক্লাবে দেখা হয়। কাতলা মাছের হা দেখেছেন? জনগণ ইয়াবার খবর শোনার জন্য কাতলা মাছের মতো হা করে আছে। আমি যদি নেগেটিভ নিউজ করি আপনি ঝামেলায় পড়বেন। আপনার সাথে আমার শত্রুতা নাই। ঘটনা ইয়াবা থেকে অন্য দিকে চলে যাবে। আপনার তো বন্দরে বড় ঠিকাদারী কাজ আছে। লোকে কানাঘুষা করেকাজ ভাগ বাটোয়ারা হয়। আপনাকে আমি তিনজন রাজনৈতিক নেতার নাম বলতে পারি। বঙ্গবন্ধু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা ভাসানী। বঙ্গবন্ধুর কোন সম্পদ আছে বলে শুনেছেন? তিনি আজীবন কষ্ট করেছেন। জেল খেটেছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শহীদ সাহেব ল’ইয়ার হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার দিনে এক মামলায় এক লক্ষ টাকা ফিস নিতেন। তিনি শূন্য হাতে কাটিয়েছেন শেষ জীবন।মাওলানা ভাসানীর কখনো টাকা পয়সা ছিলনা। আপনিও রাজনৈতিক নেতা, অষ্ট্রেলিয়াতে আপনি কত সম্পত্তি কিনেছেন? মাদক নির্মূলে আপনি সরকারকে সাহায্য করবেন না? এই কথা শুনে পুষ্পার বাবা যেন অপমানিত বোধ করেন। তিনি বুঝতে পারেন, এরা ঝামেলা করবে। বিদেশে টাকা ট্রান্সফারের কথা তুলবে। চাল আমদানি নিয়ে প্রশ্ন করবে। এভাবে কথা বলে পুষ্পার বাবাকে মানসিকভাবে দুর্বল করার আইডিয়া দিয়েছে অপু। নাজিম মাথা নাড়ে। পুষ্পার বাবা বলার চেষ্টা করেন, আগের রাজনীতি এখন অচল। কিন্তু জোর পায়না। তার মানসিক শক্তির ভিত দুর্বল হয়ে গেছে বলে মনে হলো। নাজিম বলে, প্রেস ক্লাবে ক্রাইম রিপোর্টারদের সাথে কথা হয়েছে। পুষ্পার ব্যাপারটা সবাই জানে। সাদ্দামের সাথে তার এফেয়ার আছে। সাদ্দাম ইয়াবা ব্যবসায়ী। আমাকে ওরা বলবে, নাজিম কি তথ্য পেয়েছ? আমি হয়ত বলব, পুষ্পার বাবা নেতা। উনার সামনে আমি কি? উনি উনার মেয়ের সাথে কথা বলতে দিবেন? এখন রাজনীতি আগের জায়গাতে নেই। তখন অনেক সাংবাদিক আপনার পেছনে লাগবে। আগের ত্যাগী নেতারা মাঠ থেকে উধাও হয়ে গেছেন। ব্যবসায়িক মনের রাজনৈতিক নেতারা, হাইব্রিড ছাত্র ও যুব নেতারা সব কিছু খেয়ে ফেলতে চাইছেন। গণতন্ত্র এখন সোনার হরিণ। পুষ্পার বাবা বলেন, আমি কি ননকোঅপারেট করছি? আমি কি বলেছি, আপনারা এখান থেকে চলে যান? নাজিম বলে, আপনি তেমন কিছু বলেন নাই, তবে কিন্তু দেখাও করতে দেন নাই। পুষ্পার বাবা বলেন, ও তো নাই। চাচুর বাসায় গ্যাছে। এই কথা বলে ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন। বল্লেন, একটু বসেন। আমি আসছি। এবার অপুর দিকে তাকায় নাজিম। ঠোঁট উল্টে, মাথা উচিয়ে নাজিম বোঝাতে চাইল, কাহিনী কি? মনে হয়না ফোন টোন করবে, অপু বল্ল। নাজিম বলে, হয়ত আরো উপরে ফোন দিতে গ্যাছে। পলিটিশিয়ানদের লিংক আমরা কি বুঝব? আগের আমলে যা মন্ত্রী পারে নাই তা পারত হাওয়া ভবন। এখন তেমন কিছু আছে? এর হাত মনে হচ্ছে অনেক অনেক লম্বা। চেনা শত্রু বিপজ্জনক। স্বার্থপর বন্ধু আরো বিপজ্জনক। দশ মিনিট পর এলেন পুষ্পার বাবা। হেসে বল্লেন, এবার নির্বাচন করব। কোন আসনে লড়বেন? হেসে বলে নাজিম। নেত্রী আমাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন, বলে পুষ্পার বাবা। নেত্রী মনোনয়ন দিলে আমি ফাইট করতে পারব। রাজনীতিতে আগে নিজের অবস্থান পাকা পোক্ত করতে হয়। নাজিম বলে, সরকার প্রধান মাদকের বিস্তার চান না। অবৈধ টাকার মালিকদের দাপট চান না। সৎ জনপ্রতিনিধি থাকলে মাদক বিস্তার লাভ করে কি ভাবে? পুষ্পার বাবা দশ মিনিট ভেতরে ছিলেন। কি করেছেন কে জানে? বলেন, আপনারা কাল সকালে আসুন। আমি তাকে চাচুর বাসা থেকে চলে আসতে বলেছি। আজ রাতে চলে আসবে। আপনারা কষ্ট করে কাল সকালে আসুন। রোজার দিন বলে কিছু খাওয়াতে পারলাম না।

নাজিম নড়ল না। যে ভাবে বসেছিল সে ভাবে বসে থাকল। সে নির্বিকার। পুষ্পার বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল কয়েক সেকেন্ড, বল্ল, কাল কষ্ট করে আসতে চাচ্ছি না। রোজার দিন। সকালে ঘুম ভাঙগেনা। আপনি এখনই তাকে ডাকেন। কিছু জিজ্ঞাসা করি, তারপর চলে যাই। আপনার মান সম্মান নষ্ট হবে না। এই কথা শুনে পুষ্পার বাবা এবং অপু দুজনে বিস্মিত হলেন। ভাবলেশহীন কণ্ঠে নাজিম বলে, পুষ্পাকে ডাকেন। এইখানে আসুক। চেহারা দেখে মনে হলো নেতা গর্জে উঠবেন। দুই সাংবাদিককে গলাধাক্কা দিয়ে দশতলা থেকে নীচে নামিয়ে দিবেন। কিন্তু না, তিনি সে রকম কিছু করলেন না। নীরবে ভেতরে চলে গেলেন।

অপু বল্ল, নাজিম ভাই কি ভাবে বুঝলেন, পুষ্পা ঘরে আছে? নাজিম বলে, এর নাম অভিজ্ঞতা। তোমরা ভোট দিয়ে আমাকে সাংবাদিকদের নেতা বানিয়েছ কেন? অপু বলে, কিন্তু এত নিশ্চিত কি করে হলেন? নাজিম বলে, পলিটিশিয়ানরা সত্য কথা বলে না। উনি যখন বলেছেন, মাইয়া বাসাতে নাই, তখন বুঝেছি উনার কথা মিছা। অপু বলে, নাজিম ভাই, এটা রিস্কি। যদি পুষ্পা বাসায় না থাকত? আমরা অপদস্ত হতাম। আমরা তো পুলিশ নই, র‌্যাব নই? আমরা সাংবাদিক। আমরা গালি শুনি, মার খাই, আমরা সত্য উদঘাটন করি। নাজিম বলে, অপুনো রিস্ক, নো গেইন। এসময় পুষ্পা ও তার বাবা ঘরে প্রবেশ করে। নাজিম ভাবে, সত্য বলতে চাই। আফসোস কিছু লোক তা অপছন্দ করে। রাজনীতি মিথ্যার খেলা। সর্বত্র মিথ্যা। পুষ্পা চাচুর বাসায় আছেএমন মিথ্যা কি করে বলা সম্ভব হলো? এই মিথ্যেবাদীরা একদিন মন্ত্রী হবে। দেশ রক্ষার শপথ নেবে।

(দুই)

নাজিম নিশ্চিত, পুষ্পার বাবা পরীক্ষিত আওয়ামী লীগার নন। আগে অন্য দল করতেন। পুষ্পা সদ্য “ও” লেভেলে উঠা এক মেয়ে। পরনে টি শার্ট আর ট্রাউজার। মাথায় চুল ঝুটি করে বাঁধা। চোখের নীচে কালি পড়ে গেছে। মনে হচ্ছে ক্লান্ত, চিন্তিত। রাতে ঘুমায় নি। শরীর হালকা পাতলা, রোগাটে বলা চলে। পুষ্পা ও তার বাবা সোফায় নাজিমের মুখোমুখি বসেন। যা বলবেন। আমার সামনে বলুন, পুষ্পার বাবা বলেন। নাজিম বলে, পুষ্পা? আপনি ভাত খান? না রুটি? পুষ্পা বলে, ভাত। নাজিম বলে, ভাত মুখে দিলে আপনার কি মনে হয় আপনি কেঁচো মুখে দিচ্ছেন? পুষ্পা বলে, হ্যাঁ মনে হয়। নাজিম বলে, আপনার কি মনে হয়, যে আপনার মাথায় উকুন কিলবিল করছে, আর হাত দিয়ে আপনি উকুন মারবেন? পুষ্পা বলে, হ্যাঁ, মনে হয়। পুষ্পার বাবা চিৎকার করে বলে, এই সব কি জিজ্ঞেস করছেন? নাজিম বলে, ঠিক আছে জিজ্ঞেস করবনা। আপনি সাদ্দামের বাসা চিনেন? পুষ্পা বলে, চিনি। পুষ্পার বাবা চিৎকার করেন, সাদ্দাম কে? পুষ্পা কথা বলে না। নাজিম বলে, সাদ্দামের বাসায় পুলিশ যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে আপনি ওই বাসায় গিয়েছিলেন? পুষ্পা বলে, হ্যাঁ। কেন গিয়েছিলেন? নাজিমের প্রশ্ন। পুষ্পা চুপ মেরে যায়। বলেন, কেন গিয়েছিলেন? কি করেছিলেন সাদ্দামের সাথে? শুধু কথা বলেছিলেন? মেয়েটি বলে, গিয়েছি কথা বলার জন্য। নাজিম প্রশ্ন করে, সেদিন আপনি সাদ্দামের সাথে কি নিয়া কথা বলেছিলেন? মেয়েটা ডান হাতের বুড়ো আংগুল কামড়ে ধরে, তেমন কিছু না। নাজিম চোখ বড় বড় করে পুষ্পার বাবার দিকে তাকায়, আপনি ভেতরে যান, আপনার সামনে বলবে না। বললে, আপনি কষ্ট পাবেন। দুনিয়া চালান, রাষ্ট্র চালাননিজের মেয়েকে চালাতে পারেন না। পুষ্পার বাবা উঠে চলে যায়। নাজিম বলে, পুষ্পা, সাদ্দামের সাথে কি নিয়া কথা হইছে? পুষ্পা বলে, সোনিয়াকে নিয়া। নাজিম বলে, আপনি জানতেন, সাদ্দাম অনেক মেয়ের সাথে রাত কাটায়? পুষ্পা বলে, জানতাম না। আমি সোনিয়ার কথা কেবল জানতে পারি। নাজিম বলে, ওই দিন, ওই সময় আপনি কই ছিলেন? পুষ্পা বলে, কখন? নাজিম বলে, যেদিন রেইড হয় সাদ্দামের ঘর? মেয়েটা মনে করার চেষ্টা করল, ওই সময় তো আমিএকটু ভেবে নিল, তারপর বল্ল, ওই দিন বাসায় ছিলাম। কোচিং এ গিয়েছিলাম, খবর পেয়ে চলে আসি। নাজিম চোখ কপালে তোলে। অপুর সাথে চোখাচোখি হয়। খবর কি ভাবে, কার কাছ থেকে পেলেন? রেইড করার আগে পুলিশ মানুষকে জানায় নাকি? পুষ্পা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। বুঝতে পারছে সে ফেঁসে গেছে। নাজিম বলে, আপনার বাবার এপিএস জানিয়েছে? পুষ্পার উত্তর দীর্ঘশ্বাসের মতো শোনালো, বল্ল হুঁ। নাজিম বলে, তখন সাদ্দাম কি আপনার ঘরে ছিল? পুষ্পা কাঁপতে শুরু করেছে, বল্ল, হুঁ। আপনার বাবা জানতে চাননি, সে কে? পুষ্পা বলে, বলেছি, আমার বন্ধু। নাজিম বলে, সাদ্দাম কি আপনাদের স্কুলে ইয়াবা সাপ্লাই দিত? পুষ্পা চুপ। নাজিম বলে, স্কুলের অনেকে বলেছে দিত। নাজিম আরো বলে, কত দিন ধরে আপনি এসব খাচ্ছেন? পুষ্পা চুপ। কাচু মাচু করে ও বলল, এক বছর ধরে। এখন ইয়াবা না পেলে ভাত খাওয়া যায়না। ভাতকে কেঁচো মনে হয়? নাজিম বলে। পুষ্পা মাথা নাড়ে, হ্যাঁ। সোনিয়া কোথায় থাকে?পুষ্পা বলে, জানি না। পুষ্পা বলে, সোনিয়া আমাকে ফোন করে বলেছিল, সাদ্দাম বাজে ছেলে, মেয়েদের সর্বনাশ করে। প্রশ্ন উত্তর থেকে জানা গেলো, পুষ্পা যখন সাদ্দামের ঘরে গিয়েছিল তখন তারা দুজনে ইয়াবা সেবন করেছিল। শুধু ইয়াবা সেবন না, অন্য কিছুর তাড়না অনুভব করেছিল পুষ্পা। সে জন্যই সাদ্দামের কাছে গিয়েছিল তা নাজিম জানে। পুষ্পার মনে হয়, তার মাথায় উকুন কিলবিল করছে। জামার ভিতরে ও কি যেন হচ্ছে। তখন সে সঙ্গী খোঁজে। এরকম হয়।

পুষ্পার বাবাকে নাজিম বলে, আপনার মেয়ের পাশে থাকুন। তাকে রিহ্যাব করুন। তাকে সাহায্য করুন। আপনি এবং আপনার মেয়ে কোন পথে যাচ্ছেন, কখনো ভেবে দেখেছেন? (এটি এমন এক গল্প, এটি এমন ঘটনা, যা সমাজে ঘটছে। এই গল্প কল্পিত। বাস্তব কোন মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।)

লেখকঃ সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

x