বর্ষায় শুভলং ঝরনা (ভিডিও দেখুন)

সমির মল্লিক : খাগড়াছড়ি

সোমবার , ১৯ আগস্ট, ২০১৯ at ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
92

ফুরোমনের চূড়া থেকে পাখির চোখে মতো দেখা যায় কাপ্তাই লেকের বিস্তৃত জলরাশি। ভরা বর্ষায় প্রকৃতিতে বছরের এই সময়ে নীল জলরাশির কাপ্তাই লেক, স্বচ্ছ নীলাভ জল আর বিস্তৃতি দেখে মনে হতে পারে সমদ্দুর। পাহাড়ের মধ্যে সমুদ্রের তীরের পৌঁছে গেছি। তবে কাপ্তাই লেক পেরিয়ে পর্যটকদের মূল আর্কষণ শুভলং ঝরনা। উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে নেমে আসছে ঝরনার ফল্গুধারা। টানা বৃষ্টি হওয়ায় শুভলংয়ে বেড়েছে পানির ধারা। তাই পর্যটকরা বিমুগ্ধ হয়ে দেখছে শুভলং ঝরনা। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাথুরে পাহাড়ে বেয়ে নেমেছে অনেক মৌসুমী ঝরনা। বর্ষায় শুভলং যেন ঝরনার গ্রামের পরিণত হয়েছে।
বর্ষায় লেকের নীল জল, পাহাড় পেরিয়ে কাছে-দূরে কেবল নীল জলরাশি। জলরাশির মধ্যভাগে জেগে আছে ছোট ছোট সবুজ দ্বীপ। ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ছুটে চলছে জলের বুকে। আর দূরে যাত্রী বোঝাই করা দোতলা কাঠের লঞ্চ।
ছোট হরিনা, বরকল, জুরিছড়ি, মাইনী, লংগদু যেতে চোখে পড়বে এই ঝরনা। ৭২৫ বর্গকিলোমিটারের কাপ্তাই লেকে সবচেয়ে সুন্দর অংশ শুভলং । এখানে ছড়িয়ে আছে পাথুরে পাহাড়। রাঙামাটি থেকে দেড় ঘণ্টায় যাওয়ায় শুভলংয়ে ঝরনার রূপ দেখতে।
নীল জলরাশি আর পাহাড় ছুঁয়ে থাকা জনপথ বরকল। আরণ্যক রিসোর্টের ঘাট থেকে দেশি বোটে রওনা হলাম শুভলংয়ের পথে। পথের শুরুতেই স্বাগত জানাবে নীল জলরাশি। সামনের দিকে হাতছানি দিচ্ছে বিস্তৃতি জলাধার, দুপাশে সবুজ পাহাড় ছুঁয়ে চলছে নৌকা।
সামনে যেতে যেতে চোখে পড়বে মাছ ধরে ঘরে ফেরা মানুষ, ছোট ছোট টিলায় মানুষের বসতি। সাধারণত লেকের পাড়ে আদিবাসীদের বসবাস এ অঞ্চলে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা জুমঘরগুলো সাজানো চিত্রপটের মতো।
সবুজে ভরপুর পাহাড়। প্রকৃতিজুড়ে বর্ষায় স্নিগ্ধতা। পাহাড়-প্রকৃতি বৃক্ষরাজিতে নতুনের আগমন। জরের পথ পেরিয়ে চারপাশে কেবলই সবুজ। দিন-রাত ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরে। পাবদা, রুই, চিতল, বড় বোয়াল, শিং, মাগুর, চাপিলাসহ বহু রকমের তাজা মাছে সমাহার, দামও বেশ সস্তা।
পর্যটকরা দেশি বোটে ঘুরে বেড়ালেও এই পথে বাঘাইছড়ি-মাইনী এবং লংগদু অঞ্চলে সঙ্গে রাঙামাটির যোগাযোগের প্রধানতম মাধ্যম হল পাকিস্তান আমলের কাঠের তৈরি দোতলা লঞ্চগুলো।
লেকের ছোট ছোট মাছ ধরতে এখানে পাখিদের ঝাঁক চোখে পড়ে। সারস, সাদা বক, পানকৌড়ির চলাচল পুরো লেক জুড়ে। আকাশের নীল ছায়ায় লেকের জল বেশ স্বচ্ছ। লেকের গভীর দিয়ে ঘুরে ঘুরে চলছে যাত্রীবাহীগুলো লঞ্চ।
শুভলংয়ের পাশেই রংরাং পাহাড়। রংরাং শব্দের অর্থ ধনেশ পাখি, একটা সময়ে কাপ্তাই লেক কেন্দ্রিক পাহাড়গুলোতে ধনেশ পাখির বিচরণ ছিল। এখনও গভীর পাহাড়ে মাঝে মধ্যে ধনেশ পাখির দেখা মেলে। পুরোটা যাত্রা পথে প্রকৃতির সাজানো ল্যান্ডস্কেপ, অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপে সাজানো বিস্তৃত জলরাশি।
ভরা বর্ষায় শুভলং ঝরনার দেখার পাশাপাশি কাপ্তাই লেকে দেখা মিলবে অন্যান্য প্রকৃতি। তাই এখনই শুভলং দেখার মোক্ষম সময়।

সমির মল্লিকের ধারণ করা শুভলং ঝরনার ভিডিও দেখতে ক্লিক করুনhttps://bit.ly/2PaDCXM

x