বর্ষণে আরো বেহাল নগরীর সড়ক

হাসান আকবর

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
573

আরকান সড়ক চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক। ২৫ কোটি টাকা খরচ করে চার লেনের সড়কটি সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হয়েছিল। এখন এ সড়কের এক পাশ পরিত্যক্ত, অন্য পাশ খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে। শুধু আরকান সড়ক নয়, বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা শোচনীয়। বেহাল দশা আগ্রাবাদ এক্সেস রোডেরও। আর পোর্ট কানেক্টিং রোডের অবস্থা দেখে লোকজন বলে, এটা রাস্তা নয়, ধানের জমি। ট্রাংক রোডের কদমতলী থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত অংশে ছোটবড় অসংখ্য গর্ত। একাধিক স্থানে আছে বিপজ্জনক গর্ত। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে নগরীর বেশির ভাগ সড়কের অবস্থা শোচনীয়। সাগরে লঘুচাপের কারণে গত রোববার থেকে এক টানা ভারী বর্ষণ হয়েছে। যখনতখন সড়কে জলজট হয়। বর্ষণে সড়কের অবস্থা আরো বেহাল। বেহাল সড়কের কারণে প্রধান ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানজট হয়। এতে নগরবাসীর দুর্ভোগও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুদিনের ভারী বৃষ্টিতে নগরীর সড়কগুলোর আরো ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ান হাইওয়ে, পোর্ট কানেক্টিং রোড, ডিটি রোড, আরকান রোড, শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক, খাজা রোড, বায়েজিদ বোস্তামি রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের অবস্থা বেহাল। স্থানে স্থানে বিপজ্জনক গর্ত। এসব গর্তে পড়ে যানবাহন বিকল হয়। সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। স্থবির হয়ে পড়ছে নগরজীবন। গতকাল মঙ্গলবার ব্যস্ততম আরকান রোডের গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করতে দেখা গেছে। বৃষ্টির মধ্যে ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করছিল সিটি কর্পোরেশন। স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন এ সময় দৈনিক আজাদীকে জানান, বৃষ্টিতে ইট চলে যাবে। ইট দেয়ার সময় গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্র জানায়, বৃষ্টিতে ১৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৫শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

গত দুদিনে নগরীর ১০টি সড়ক ঘুরে দেখা হয়। কথা হয় এলাকাবসীর সঙ্গে। বেশির ভাগ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাস্তাঘাটের দিকে কারো নজর নেই মন্তব্য করে তারা বলেন, রাস্তা দেখলে মনে হয় পরিত্যক্ত কোনো এলাকায় বসবাস করছি। হালিশহরের নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে গেছে। পুরনো একটি গাড়ি আছে। গর্তে পড়ে প্রায় প্রতিদিনই নষ্ট হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোথাও চলে যেতে পারলে ভালো হত।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের অবস্থাও আগের চেয়ে বেহাল। বহদ্দারহাট মোড়, বহদ্দার বাড়ি পুকুর পাড়, এক কিলোমিটার, রাহাত্তার পুল, কালামিয়া বাজার, বাকলিয়া থানা, তুলাতলী, রাজাখালী সেতুসহ একাধিক স্থানে গর্ত। অনেক স্থানে বিটুমিন উঠে গেছে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের বাদামতলী মোড় থেকে ছোটপুল, বড়পুল এলাকা পর্যন্ত বেহাল দশা। গতকাল এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে সিটি কর্পোরেশনকে ইটের খোয়া দিতে দেখা গেছে।

আরকান রোড এবং শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক নিয়ে ক্ষোভ এলাকাবাসীর। মাসের পর মাস বেহাল অবস্থায় জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তারা।

গত সোমবার ঘুরে দেখা যায়, পোর্ট কানেক্টিং রোডের অবস্থা আরো বেহাল। ছোটপুল এলাকার বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, এখানে একসময় সুন্দর একটি রাস্তা ছিলণ্ডএটা এখন বিশ্বাস করা কঠিন।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, শহরের অনেক রাস্তায় বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। বিশেষ করে ওয়াসা ও সিডিএ কাজ করছে। এতে করে রাস্তার কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। আবার বৃষ্টির জন্য ঠিকভাবে কাজ করাও যাচ্ছে না। বৃষ্টি বন্ধ হলে কাজ শুরু করা হবে।

x