বর্ধিত মেয়াদেও শেষ হচ্ছে না পটিয়া কৈয়গ্রাম সেতুর কাজ

জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি, কাজে ধীরগতি

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
129

পটিয়ায় শিকলবাহা খালের উপর নির্মিতব্য কৈয়গ্রাম সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ধীরগতিতে চলছে কাজ। প্রকল্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে এক বছর বাড়ানো হলেও ৮ মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। বর্ধিত মেয়াদেরও মেয়াদ রয়েছে মাত্র চার মাস। বর্তমানে সেতুর নির্মাণ কাজ ৩০-৩৫ শতাংশ এগিয়েছে। পটিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ করছে।
জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা না গেলেও সেতুর এক অংশে কাজ করা গেছে। কিন্তু শুরু করা যায়নি সেতুর আরেক অংশের কাজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ(এলডিইডি) জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি শেষ করতে না পারায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকে দুষছেন। অবশ্যই জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা বলছে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে জমি হস্তান্তর করা যায় না। আইন মেনে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই পটিয়া কৈয়গ্রাম সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
জানা যায়, পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের সর্ব দক্ষিণে শিকলবাহা খালের উপর ৩৯০ মিটার (প্রায় ১২৮০ ফুট) দৈর্ঘ্য ও ৯.৮ মিটার (প্রায় ৩২ ফুট) প্রস্থ পিসি গ্রাডার সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। এছাড়াও সেতুর পূর্বাংশে ৪০০ মিটার এবং পশ্চিমাংশে ৯০০মিটার সংযোগ সড়কও স্থাপন করা হবে। এতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি ২৫ লাখ ৪২২৭৮ টাকা। দুই পাশে সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় ২১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সেতুটির পূর্বাংশে পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়ন হলেও পশ্চিমাংশের কিছু অংশ কর্ণফুলী উপজেলার সাথে সংযুক্ত। তাহের এন্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই কাজটি শুরু করলে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর শেষ হলে বাড়ানো হয় আরো এক বছর। এদিকে আট মাস অতিবাহিত হলেও কাজের ধীরগতির কারণে অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি তারা।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নুর মোহাম্মদ জানায়, ইতিমধ্যে সেতুটি ১০টি পিলারের মধ্যে ৫টি পিলার এবং ৪৫টি গ্রাডারের মধ্যে ২০টির অধিক গ্রাডার বসানো হয়ে গেছে। সেতুর একাংশের কাজ শেষ করতে পারলেও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আরেক অংশের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। জমি হস্তান্তর না হওয়ায় মূলত কাজের ধীরগতি। অন্যথায় সেতুর অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে বলা যায়। তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণে ৫০জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। নির্মাণ সামগ্রীও মজুদ রাখা হয়েছে। জায়গা বুঝিয়ে দিলে সেতুর অপর অংশের কাজও দ্রুত শেষ করা হবে। জিরি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, সেতুর একাংশের কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আরেক অংশের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। সেতুর দুই পাশে প্রায় শতাধিক পরিবার রয়েছে। শুধুমাত্র জমি অধিগ্রহণের লিখিত কোন কাগজ পত্র না পাওয়ায় সেতুর পশ্চিমাংশের কিছু পরিবার কাজ করতে দিচ্ছে না। জমি হস্তান্তরের বিষয়টি দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, কৈয়গ্রাম সেতুটি নির্মিত হলে কর্ণফুলী নদীর নিচে নির্মিত ট্যানেলের সুবিধা পাবে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাঁচ উপজেলার মানুষ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ পটিয়ার প্রকৌশলী বিশ্বজিত দত্ত বলেন, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে না পারার কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদে শেষ করা যাচ্ছে না কৈয়গ্রাম সেতু প্রকল্পের কাজ। জমি বুঝিয়ে দিতে পারলে ঠিকাদার সেতুর কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করতে পারবে। উপ-সহকারী প্রকৌশরী সংকর নন্দী বলেন, প্রকল্পটির প্রথম মেয়াদ শেষ হলেও দ্বিতীয় মেয়াদেও বর্তমানে প্রকল্পের কাজ মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ এগিয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অবহেলার কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বুঝিয়ে দিতে না পারায় মূলত তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারছে না। এজন্য কাজ ধীরগতিতে চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও এখনো পর্যন্ত ব্যয় বাড়েনি।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের জমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আসিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘জমি হস্তান্তর বিষয়ে গাফিলতি কিংবা অবহেলা করার প্রশ্নই আসে না। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা, এর আগে কাজ শুরুই করা যায় না। তা না মেনে এলজিইডি কাজ শুরু করেছে।
আমাদের আইন মেনে কাজ করতে হয়। জমির মালিকদের জমি হস্তান্তরের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর আপত্তি কিংবা অভিযোগ আসে কিনা সেজন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে জমি হস্তান্তর করা যায় না। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জমি হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান’।

x