বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ
31

লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল : লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান সিএলএফ ভবনের হালিমা রোকেয়া হলে অনুষ্ঠিত হয়। পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন রোকেয়া হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লায়ন গভর্নর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিজি (ইলেক্ট) লায়ন কামরুন মালেক, ফার্স্ট ভাইস গভর্নর (ইলেক্ট) ডাক্তার সুকান্ত ভট্টাচার্য, সেকেন্ড ভাইস গভর্নর (ইলেক্ট) লায়ন আল সাদত দোভাষ, কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, কেবিনেট ট্রেজারার লায়ন মোসলেহউদ্দিন খান, জয়েন্ট কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন আশরাফুল আলম আরজু, লায়ন ইসমত আরা বেগম, লায়ন একিউএম মুকিত, লায়ন তারেক কামাল, লায়ন হাসান আকবর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি লায়ন হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন লিও ক্লাবের সদস্য সদস্যা ছাড়াও বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী মানস পাল সংগীত পরিবেশন করেন।
খুলশী ক্লাব : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নগরীর খুলশী ক্লাব পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব সামশুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পহেলা বৈশাখের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন আইপিপি আহমেদুল হক, ভাইস প্রেসিডেন্ট মুরতুজা আলী, নজরুল ইসলাম, ক্লাবের সেক্রেটারি ডাক্তার এম এ করিম, ডিরেক্টর ডাক্তার শংকর ঘোষ, সাংবাদিক হাসান আকবর, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কাদের, ব্যাংকার রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আমীর আলী, মহিউদ্দিন খসরু, পারভেজ আহমেদ, অমল কান্তি দাশ প্রমুখ। পহেলা বৈশাখের সংগীত পরিবেশন করেন যুথিকা দাশ, বিথী দাশ, পাপড়ি আহমেদ, শামীমা নার্গিস প্রমুখ। ক্লাব সদস্যদের স্ত্রী-সন্তানদের বিভিন্ন পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি উৎসব মুখর হয়ে উঠে।
চিটাগাং ক্লাব : ঐতিহ্যবাহী গ্রামবংলার চিরায়ত দৃশ্যের আদলে সাজসজ্জা, গ্রামীণ খেলাধুলা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিশু স্বাস্থ্য পরামর্শ , র‌্যাফেল ড্র ও সংগীতানুষ্ঠানের মধ্যদিযে নগরীর চিটাগাং ক্লাবে দিনব্যাপি পালিত হল পহেলা বৈশাখ। গত ১৪ এপ্রিল বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ক্লাব চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচিতে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা পরস্পর সম্প্রতির বন্ধন অটুট রাখতে পারি। বিনোদন বিভাগের মেম্বার ইনচার্জ মোসলেহউদ্দিন আহমেদ অপু সকলকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে ক্লাবের ভাইস চেয়ারম্যান আল সাদাত দোভাষ সাগর, সিসিএল নির্বাহী কমিটি মেম্বার এস এম শফিউল আজম, সালাউদ্দিন আহমেদ, সুলতানুল আবেদীন চৌধুরী, আবু আহমেদ হাসনাত, নুরুদ্দিন জাবেদ, মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া বাবুল, ডাঃ অলক নন্দি, জাহিদ সুলতান টিপু, সাব কমিটির কনভেনার আমান উল্লাহ আল ছগির ছুট্টু সহ ক্লাব সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব : চিটাগাং সিনিয়রস’ ক্লাবে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণ উপলক্ষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৪ এপ্রিল ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্লাবের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। ক্লাব প্রেসিডেন্ট ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে উত্তরীয় পরিধান করান ক্লাবের সসদস্যদের। বোধন কবিতা আবৃতি সংসদের মিলি চৌধুরী ও ফারুক তাহের এর কবিতার মধ্যে অনুষ্ঠানের পদযাত্রা শুরু হয়। রাঙামাটি জেলার উপজাতি ছোট ছোট নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানকে প্রাণ এনে দেয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন রাখি শবনম, প্রেম সুন্দর, নিলিমা ও আবহমান পল্লী বাংলার সুর নিয়ে বাউল গান করেন রাজ্জাক পরবাসী সহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। ক্লাবের সদস্যরা এ অনুষ্ঠানে পরস্পরের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং এক নৈশভোজেও মিলিত হন।
এতে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট বেলায়েত হোসেন, সদস্য- মোহাম্মদ আব্বাস, এম.এ. কবির মিল্কি, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, গোপাল কৃষ্ণ লালা এবং ওয়ালিউল আবেদীন সাকিল।
মেম্বারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এম.এ মালেক, গোলাম মোস্তফা কাঞ্চন, পরিমল কান্তি চৌধুরী, ডাঃ এল.এ কাদেরী, ডাঃ সরফরাজ খান চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল আলম, প্রদীপ কুমার দত্ত, মোঃ মোরশেদ, ক্যাপ্টেন আমিরুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম খান, নোয়েল জি. ম্যান্ডিস, সালে আহম্মদ, ডাঃ ললিত কুমার দত্ত, উৎপল রক্ষিত, এ.কে.এম. শাহ্‌্‌ আলম, কাজী মোহাম্মদ ইমাম, ডাঃ শেখ শফিউল আজম, ডাঃ শ্রী প্রকাশ বিশ্বাস, মোঃ মফিজুর রহমান, শওকত আলী চৌধুরী (মামুন), ডাঃ ইমাম হোসেন রানা, চিরঞ্জীব চৌধুরী, মনতোষ বড়ুয়া, শেখ মোঃ ইয়াকুব, অমর কৃষ্ণ ভট্টচার্য্য, অঞ্জন শেখর দাশ, ডাঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী, নুরুল আবছার মজুমদার (স্বপন), জাহেদ হোসেন, ডাঃ রেজাউল করিম, ডাঃ সেলিম, কাজী আফতাবুর রহমান, জাহাঙ্গীর খালেদ, এ.কে.এম. আবু তাহের, জাহিদুল ইসলাম মিরাজ, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম, সৈয়দ মনোয়ার হাসান (মনি), ডাঃ সাইফুল হক, এ.এইচ.এম. মঞ্জুরুল আলম, মোঃ খালেদ মাহমুদ, আকতার আহমদ চৌধুরী, রফিকুল আলম, পান্নালাল সেনগুপ্ত, মিজানুর রহমান, লিয়াকত আলী হাওলাদার, তারিকুল ইসলাম খান, টিপু সুলতান, মোঃ মুছা, সিরাজুল হক আনসারী, সিরাজুল ইসলাম, মো. আইয়ুব খান, মো. ছৈয়দ, মো. এয়াকুব চৌধুরী, মির্জা আকবর আলী চৌধুরী, মুহিতুল আলম, সরওয়ার আলম, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, লাল মিয়া, কামরুল হুদা, সাহাবুদ্দিন আহম্মদ, আবুল হোসেন, সেকান্দর আলী, আজিজুর রহমান, মোঃ কামাল উদ্দিন, শফিকুল আলম, প্রফেঃ ডাঃ জসিম উদ্দিন, ইফতেখার হোসেন, ওমর ফারুখ চৌধুরী (সবুজ), শেখ জোবায়েদ হোসেন, মোঃ আলাউদ্দিন, মারুফ আহম্মদ রাজু, ফাহিম চৌধুরী, মোরশেদ ইকবাল, শফিকুল আলম জুয়েল, মাসুদ পারভেজ চৌধুরী, জেসমিন আকতার মুক্তা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী গরীব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করেন। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চেক প্রদান করেন প্রথম মহিলা নবনির্বাচিত লায়ন গভর্নর কামরুন মালেক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লুবাবা ফেরদৌসী সায়কা।
আইআইইউসি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে। পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে গত ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে বৈশাখী র‌্যালি, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ। এ উপলক্ষে স্টুডেন্ট এ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আইআইইউসি’র বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. দেলাওয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর এবং হল প্রভোষ্টগণ উপস্থিত ছিলেন।
সিআইইউ : নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে (সিআইইউ) বাংলা নবর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। এই উৎসবে শামিল হয়েছিলেন ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-অভিভাবকরা।
সকাল থেকেই জামালখানখানের সিআইইউ ক্যাম্পাসে ভিড় করতে থাকেন প্রত্যেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় যেন ক্যাম্পাসের করিডোর অতিক্রম করে চলে যায় মূল সড়কে।
সকালে সবার অংশগ্রহণে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, গান, নাচ, লোকজ মেলাসহ অনেক কিছু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, অতীতের গ্লানি, দুঃখ, জরা মুছে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ-হানাহানি ভুলে গিয়ে সুন্দরের জন্য কাজ করতে হবে সবাইকে।
তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখের সংস্কৃতি আমাদের মূল্যবোধকে জাগ্রত করে। প্রতিবছর দিনটি মানুষকে ভালো কাজে জড়িত হওয়ার ডাক দিয়ে যায়। আমাদের উদার হতে শেখায়।
সভাপতির বক্তব্যে সিআইইউর কালচারাল ক্লাবের উপদেষ্টা ড. রোবাকা শামসের বলেন, বাংলা নববর্ষ নিছক কোনো উৎসব নয়। এই উৎসব উদ্‌যাপনের ভেতর দিয়ে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বাঙালি সংস্কৃতির গ্রামীণ চেতনার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ সেতুবন্ধন রচনা করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজনেস স্কুলের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আইয়ুব ইসলাম, ডিন ড. মোহাম্মদ নাঈম আবদুল্লাহ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মীর মোহাম্মদ নুরুল আবসার প্রমুখ। দু’পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ছাড়াও ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন পর্বে যারা অংশ নিয়েছেন তারা হলেন: অমিতাভ, অনিন্দিতা, মিতু, অপূর্বা, অন্তরা, নুসরাত, শাহাদাত, সামিহা, অনির্বাণ, আতিয়া, আসিব, তাসরিন, রাইয়ান, তায়েব, মারিয়া, নাবিলা, জাওয়াদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন তাফরিহা ও ইশরাত।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি : প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপন করা হয়েছে। অর্থনীতি বিভাগ, আইন বিভাগ, ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদ ও ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নগরীর হাজারী গলিস্থ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ভবনে অর্থনীতি বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার, চবি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এ.কে.এম তফজল হক। তিনি বাংলা নববর্ষকে ‘বাঙালির সর্বজনীন লোকউৎসব’ মন্তব্য করে বলেন, ‘এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি বাঙালির কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তিনি বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসবে বাংলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-মুসলমানের অর্থাৎ সকল ধর্মাবলম্বীর মিলন ঘটে। এই মিলনের মধ্য দিয়ে উক্ত উৎসব যে অসাম্প্রদায়িক তাও প্রকাশিত হয়।’
তিনি বাংলা সনের ইতিবৃত্ত বর্ণনা করে বলেন, ‘সুদূর অতীত থেকে পহেলা বৈশাখে বর্ণাঢ্য আচার আনুষ্ঠানিকতায় বর্ষবরণ উৎসব করছে বাঙালিরা। এই উৎসব গ্রামে-গঞ্জে-নগরে লোকজ ঐতিহ্যমণ্ডিত খাবার, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে ভরপুর থাকে। বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার খুরশিদুর রহমান। বিভাগের ছাত্রী শান্তা বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের প্রক্টর আহমদ রাজীব চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক হিল্লোল সাহা, বিদ্যুৎ কান্তি নাথ, প্রভাষক বদরুল হাসান আউয়াল, অর্পিতা দত্ত, ফারিয়া হোসেন বর্ষা, সুদীপ দে ও নাহিদা আক্তার প্রমুখ।
আইন বিভাগ : প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বৈশাখী সাজে সেজেছে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি আইন বিভাগ। আইন বিভাগের ২৭তম ব্যাচের উদ্যোগে প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরেই চলেছে এই আয়োজন। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ জাতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় বিশ্বাস, হিল্লোল সাহা, হোমায়রা নওশিন উর্মি, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নোমান, প্রভাষক তাহমিনা সানজিদা। এছাড়াও রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রারও আয়োজন করা হয়।
ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদ : এই অনুষদের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে রবীন্দ্র সঙ্গীত, লোকজ, ব্যান্ড, আধুনিক গান পরিবেশন করা হয়। গান পরিবেশনায় ছিলেন শিক্ষার্থী আনিকা বুশরা, তুতুল নাথ, ফয়সাল, শামীমসহ আরো অনেকে। নৃত্য পরিচালনায় ছিল শিক্ষার্থী সুমনা চৌধুরী। নাটক পরিচালনায় ছিল শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ, কেয়া ও দেবদিপ। আকর্ষণীয় র‌্যাম্প শো পরিচালনায় ছিল শিক্ষার্থী জোবায়ের চৌধুরী ও তানজিনা তাহি। আবৃত্তি পরিচালনায় শিক্ষার্থী প্রিয়রাজ। মঞ্চ সজ্জার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষার্থী গালিব ও প্রিতুল।
ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি : বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে পুরো জাতি মেতে ওঠে প্রাণের উৎসবে। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতেও। সারা দেশের মতো ইডিইউ পরিবার নানা আয়োজনে উদযাপন করেছে নতুন বছরের আগমন। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা ও বৈশাখী মেলা। এতে ছিলো বিভিন্ন রকমের হস্তশিল্প, পিঠাসহ নানা পদের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার ও কাপড়। এছাড়া গানে, নাচে, নাটক আর আবৃত্তিসহ আরো হরেক রকমের বিচিত্র আয়োজনে সারাদিনই মেতে ছিলো সবাই। ফ্যাকাল্টি ও শিক্ষার্থীরা একই মঞ্চে, একই সঙ্গে অংশ নিয়েছে নানা কার্যক্রমে। বিকেল চারটায় ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বৈচিত্র্যময়তায় পূর্ণ এই আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সামস উদ-দোহার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মু. সিকান্দার খান। প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান, বলেন বাংলা নববর্ষের প্রধান দিক হলো এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এছাড়া প্রধান বক্তা ছিলেন মহাপরিচালক সৈয়দ শফিকউদ্দীন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার সজল কান্তি বড়ুয়া, স্কুল অব লিবারেল আর্টসের অ্যাসোসিয়েট ডিন মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মো. নাজিম উদ্দিন, স্কুল অব বিজনেসের অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মোহাম্মদ রকিবুল কবিরসহ ফ্যাকাল্টি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ : চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের পহেলা বৈশাখ বাদশা মিঞা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, ছাত্রী ও কর্মচারিদের অংশগ্রহণে এক মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন চৌধুরী। তিনি পহেলা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
এতে অধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন চৌধুরী বিগত বছরের সকল কালিমা ও জড়তা দূর করে নতুন চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তাহমিনা আক্তার নূর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সুবীর কান্তি দাশ। এতে পহেলা বৈশাখ নব্বর্ষ উদযাপনের ইতিহাস ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন ড. অরূপ কুমার বড়ুয়া। এছাড়া ছাত্রী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে বৈশাখের ঐতিহ্য ও তাৎপর্য ভিত্তিক এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
সাদার্ন ইউনিভার্সিটি : বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিলো সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিভিন্ন বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের। সকাল থেকেই ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণজুড়ে সাজ সাজ রব। নববর্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাদার্ন ইউনিভার্সিটির উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর সরওয়ার জাহান। আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, উপদেষ্টা, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিক্ষার্থীরা। মানুষের করতালে এবং বিভিন্ন রঙের সাজে শিক্ষার্থীদের নাচ গানের ছন্দে ছন্দে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে এক বর্ণিল রঙে রঙিন। বর্ষকে বরণ করে নিতে ইউনিভার্সিটি প্রঙ্গণে আয়োজন করা হয় মেলা, গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি, ফ্যাশন শোসহ হরেক রকম উৎসব ও প্রতিযোগিতা। মেলায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ৯টি স্টল অংশ নেয়। স্টলগুলোতে স্থান পায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার ও পণ্যসামগ্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হরেক রকমের গ্রামীণ পিঠা, মাটি, বাঁশ,বেতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের তৈজষপত্র। সেরা তিনটি স্টল ও তিনটি বিভাগকে তাদের সুন্দর পরিবেশনার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। সেরা স্টলের পুরস্কার লাভ করে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ। দ্বিতীয় ফার্মাসি ও তৃতীয় হয়েছে যৌথভাবে আইন ও ইসলামিক স্টাডিস। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে ইংরেজি বিভাগ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করে কম্পিউটার সায়েন্স ও পুরকৌশল বিভাগ।
ইউসিটিসি : নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি)। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোল সংগীতের তালে নেচে-গেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু করে। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ। গত রোববার সকালে ইউসিটিসির বহদ্দারহাটস্থ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল এফেয়ারস ডিভিশনের উদ্যোগে এবং ইউসিটিসি কালচারাল ক্লাব, ক্রিয়েটিভ বিজনেস ক্লাব ও কম্পিউটার ক্লাবের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় বর্ষবরণ উৎসব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের বৈশাখী স্টলে পান্তা-ইলিশ, পিঠা উৎসব আর সাপের খেলার আয়োজন করা হয়। স্টল উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ উসমান। শোভাযাত্রা ও স্টল উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল একাডেমিক ভবনে শুরু হয় বর্ষবরণ উৎসবের মূল আকর্ষণ ইউসিটিসি কালচারাল ক্লাব পরিবেশিত বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x