বন্ধু নির্বাচনের ১০টি উপায়

রুহি আফরোজ

রবিবার , ২০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
64

চাইলেই কি কাউকে বলা যায়, ‘আমার বন্ধু হবে’। মোটেও না। বন্ধুত্ব তৈরি করতে প্রয়োজন উপোযোগী পরিবেশ। ছোটবেলায় শিশুদের মধ্যে নতুন বন্ধু তৈরির একটা স্বাভাবিক দক্ষতা থাকে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই দক্ষতাও হারিয়ে যায়। প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় সেটা হয়ে পড়ে আরও দূরূহ। সেজন্য বিশ্বে প্রাপ্তবয়স্কদের একাকীত্বের সমস্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশটির ২৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তীব্র একাকীত্ব সমস্যায় ভুগছে। আপনিও যদি এমন একাকীত্বে ভোগেন তাহলে নিচের ১০টি টিপসের মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন কীভাবে আপনিও সহজে বন্ধু বানাতে পারেন।
দল বা সংগঠনে যোগ দিন
নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ে নতুন বন্ধুত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এজন্য কোন দল, সংগঠন বা পছন্দের কোন বিষয়ের ওপর কোর্সে যোগদান করতে পারেন। সেখান থেকেই হয়তো পেয়ে যেতে পারেন আপনার প্রিয় বন্ধুটি। একসঙ্গে মেলামেশা করলে আপনার সহকর্মী বা সহপাঠীরা জানতে পারবে আপনার কিসের প্রতি আগ্রহ। আপনার আগ্রহের সঙ্গে যখন আরেকজনের আগ্রহ মিলে যাবে তখনই বন্ধুত্বের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করুন
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা মানে, মানুষের প্রতি আপনার মমত্ববোধ আছে। এখন এই সেবা আপনার স্থানীয় কমিউনিটির প্রতি হোক বা আরও বড় পরিসরে সেটা বিষয় না। বিষয় হল, এই কাজের মাধ্যমে আপনার নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে। এবং এই মানুষগুলো তারাই হবে যাদের মন উদার। এবং একজন বন্ধুর ভেতরে এই গুণটাই সবচেয়ে বেশি থাকা চাই।
যোগাযোগ তৈরি করুন
নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হলে তাঁর ফোন নম্বর বা ই-মেইল চেয়ে নিতে পারেন। কারণ তাঁর সঙ্গে আপনার আবার দেখা হবে কিনা সেটার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের একটা মাধ্যম বের করা জরুরি। তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার আপনার অনুভূতি জানান তাকে। মাঝে মাঝে কোথাও খেতে অথবা ঘুরতে যাওয়ার জন্য ডাকতে পারেন তাকে।
‘হ্যাঁ’ বলতে শিখুন
নতুন পরিচিত কেউ আপনাকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানালে বা কোন অফার করলে হ্যাঁ বলুন। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আপনি তাকে ভদ্রভাবে না বলুন। তবে সেই না বলার মধ্যেও ইতিবাচক ভাব রাখুন। তাকে এভাবে বলুন যে ভবিষ্যতে সে যদি আপনাকে আমন্ত্রণ জানায় তাহলে আপনি সেটা সাদরে গ্রহণ করবেন।
প্রত্যাখ্যানের ভয় কাটান
সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রচেষ্টাই যে কাজে লাগবে, এমন কোন কথা নেই। তবে প্রত্যাখ্যানের ভয় করা ঠিক হবে না। সাহসী হন এবং নিজের প্রতি আস্থা রাখুন। নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের পর তার সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দিলে উত্তর যদি ‘না’ সূচক হয়, তাহলে ভেঙ্গে পড়বেন না। কেননা এটাই শেষ নয়। হতে পারে, সেই ব্যক্তিটি হয়তো আপনার জন্য উপযুক্ত ছিল না।
সহকর্মীদের বন্ধু বানান
ব্যস্ত এই জীবনে পরিবারের চাইতে আমাদের বেশি সময় কাটানো হয় কর্মক্ষেত্রে। কাজেই এই সহকর্মীদের বন্ধু বানানোর চেষ্টা করুন। সহকর্মীর সঙ্গে কাজের পর কোথাও খেতে যাওয়ার মতো পরিকল্পনা গুলোতে যোগ দিতে পারেন। সহকর্মীদের, প্রকৃত বন্ধুতায় হয়তো অনেক কঠিন কাজও সহজ হয়ে যেতে পারে। বিশ্বস্ত কোন সহকর্মীর কাছে নিজেকে একটু প্রকাশ করার চেষ্টা করুন।
কৌতূহলী হন
বেশি লাজুক স্বভাবের হলে, সেই জড়তা কাটিয়ে ওঠার সহজ উপায় হল অপর পাশের মানুষের বিষয়ে জানতে চাওয়া। কেননা অধিকাংশ মানুষই নিজের বিষয়ে কথা বলাটা উপভোগ করে। আপনি যদি ভাল শ্রোতা হন এবং ভবিষ্যতে তার সেই বিষয়গুলো টেনে আনেন, তাহলে বুঝে নিন যে আপনি খুব দ্রুত বন্ধু পেতে যাচ্ছেন।
প্রয়োজনে এগিয়ে আসুন
জন্ম তারিখ মনে রাখা বা তার প্রয়োজনীয় কোন কিছু কিনে দেয়ার মতো ছোট ছোট বিষয়গুলো মনে রাখা, বন্ধুত্ব গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একই সঙ্গে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করার মোক্ষম সুযোগ পাওয়া যায় খারাপ সময়গুলোতে। যদি আপনার পছন্দের মানুষটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যান তাহলে তার সাহায্যে এগিয়ে আসুন।
খোলা মনের মানুষ হন
ভিন্ন ব্যক্তিত্ব আমাদের আকর্ষণ করে বেশি। তাই প্রথম দেখাতেই কাউকে বিচার করা ঠিক হবেনা প্রত্যেককেই একটা সুযোগ দিন। একজন নতুন বন্ধুর প্রকৃতি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যে সতেরো বছরের হতে পারে আবার সত্তরও হতে পারে, তার বেড়াল পছন্দ হতে পারে আবার শুধু কুকুর পছন্দ হতে পারে। তার পছন্দের গান হতে পারে মেটাল বা ক্লাসিক্যাল।
পর্যাপ্ত সময় দিন
রাতারাতি কারো বন্ধু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব কমই থাকে। বন্ধুত্বকে লালন করতে হয়। এজন্য নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুতা গডে তোলার ক্ষেত্রে, সেটাকে বাড়িয়ে তুলতে এর পেছনে আপনার সময় আর যত্ন বিনিয়োগ করতে হবে। কেননা, বিশ্বাস ও ভরসার ভিত্তি সময়ের সাথে সাথে মজবুত হয়ে ওঠে। নতুন বন্ধু তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল আপনি তাকে যা দিতে পারবেন, সেটার প্রতি বিশ্বাস রাখা।

x