বন্দুকযুদ্ধ

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
60

দেশে সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে অনেক লোক মারা গেছে। বলা হচ্ছে এরা মাদক ব্যবসায়ী। মাদকদ্রব্য বিক্রি একটি খারাপ ব্যবসা। মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। মাদকসেবী লক্ষ লক্ষ যুবকযুবতী, মধ্যবয়সী নারীপুরুষ জীবনকে তিল তিল করে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদক চোরা কারবারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। মাদকের ছোবলে লণ্ডভণ্ড হয় একটি পরিবার, একটি সমাজ। বিশেষ করে বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে ও সেবনকারীদের তৎপরতায় দেশ এখন মাদকে টালমাটাল, মাদক যে একটা পরিবারে কী ধ্বংস ডেকে আনতে পারে তার প্রকৃত দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐশী রহমান নামে এক মেয়ের হাতে তার পিতা পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও মাতা স্বপ্না রহমানের খুন হওয়া। যে ঘটনায় পুরো দেশ শিহরে উঠেছিল। আতঙ্কিত হয়েছিল, ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল।

মাদক একটি খারাপ, একটি ভয়ংকর জিনিস, সব ঠিক আছে। কিন্তু আজকে আমার এ চিঠি লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিনা বিচারে এদের হত্যা না করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী এদের বিচার করা। যদি বর্তমানের আইন পর্যাপ্ত না হয়, তাহলে নতুন আইন করে হলেও মাদক ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ বিচারের ব্যবস্থা করা। সরকার তো বলছে, এদের মাদক ব্যবসায়ের প্রমাণ তাদের হাতে আছে। তাহলে আরও ভাল হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে এদের বিচার করা সম্ভব হবে। পত্রিকায় প্রকাশ গত ১৩ দিনে ৬৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে বন্দুক যুদ্ধে। প্রশ্ন হচ্ছে এরা কি সবাই দোষী? পত্রিকায় আরও প্রকাশ গত কয়েকদিন আগে এক মহিলা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, তার পিতা মাদক ব্যবসায়ের সহিত জড়িত নন। তাই জনগণের কথা হচ্ছে বিনা বিচারে কাউকে হত্যা না করা এবং প্রমাণ সাপেক্ষে বিচার করে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি দেখতে হবে নিরপরাধ কেউ যেন শাস্তি না পায়। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকারকেই এর দায় ভার নিতে হবে। তাছাড়া সরকারের জনপ্রিয়তাও কমবে।

রনধীর মল্লিক, শিক্ষক।

x