বন্দীদের নানাবিধ সমস্যা

বুধবার , ২৮ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
23

চট্টগ্রাম কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারসমূহ বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়। চট্টগ্রাম কারাগার প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পরও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দীদের কারাবিধি অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারছে না কারা কর্তৃপক্ষ। ধারণ ক্ষমতার তিনগুণের বেশি বন্দীর চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের গলদঘর্ম অবস্থা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় চাপ সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারে যুক্ত হয় শত শত বন্দী। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কোনো কোনো কারাগারে তিনগুণের বেশি বন্দী আটক থাকায় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। জেলকোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দীর জন্য জায়গা বরাদ্দ ৩৬ বর্গফুট। সে অনুযায়ী দেশের ৬৮টি কারাগারে বন্দী ধারণ ক্ষমতা ৩৪ হাজার ৪৬০ জন। তিল ধারণের ঠাঁই না থাকলেও প্রতিদিনই বাড়ছে বন্দীর সংখ্যা। দেশের কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দীর অবস্থান একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। কারাগারে অপরাধীদের নেয়া হয় শোধরানোর জন্য কিন্তু কারাগারে শোধনের পরিবেশ না থাকলে সে উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। ধারণ ক্ষমতার বেশি বন্দী আটক থাকলে তাদের ওপর কর্তৃপক্ষীয় নজরদারী ব্যাহত হয়। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে গণগ্রেপ্তার বন্ধ কিংবা দেশে কারাগারের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা ভাবা যেতে পারে। জেল কোড অনুযায়ী বন্দীরা যাতে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। কারাগারে পদে-পদে চলে দুর্নীতি আর অনিয়ম। কারা কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে দাগী অপরাধীরা বেপরোয়া। কুখ্যাত অপরাধীরা কারা অভ্যন্তরেও রাজকীয় জীবন যাপনের সুযোগ পায়। কারাগারে যারা আটক থাকেন তাদের দেখতে প্রতিদিন হাজির হন সহস্রাধিক দর্শণার্থী। টাকার বিনিময়ে তারা হাজতি-কয়েদীদের দেখা পান, টাকা থাকলে কারাগার থেকে মোবাইলে কথা বলা যায় স্বজনদের সঙ্গে। টাকার বিনিময়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়েও অসুস্থ সেজে কারা হাসপাতালে থাকার সুযোগ পায়। কারাগারে বসে মাদক সেবন তো অতি সাধারণ ব্যাপার। অপরাধীদের সংশোধনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু কারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতির জন্য কারা অভ্যন্তরে আত্ম সংশোধনের কোনো উদ্যোগ কাজে লাগছে না। কারাগারগুলোতে বন্দীদের অপরাধ প্রবণ মনকে সংশোধন করার উদ্যোগ নিলে কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে দেয়া গেলে তাদের সবাই না হোক অনেকেই পরবর্তী জীবনে অপরাধ জগৎ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এ কারণে কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারাগারগুলোকে সংস্কার করতে হবে।
-এম. এ. গফুর, বলুয়ারদীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x