বন্দরে জাহাজ জটের শঙ্কা

তিতলির প্রভাব ।। তিনদিন ধরে বহির্নোঙরে পন্য খালাস বন্ধ

হাসান আকবর

শনিবার , ১৩ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
105

ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জাহাজ জট সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত তিনদিন ধরে বহির্নোঙরে সব ধরনের পণ্য হ্যান্ডলিং কাজ বন্ধ থাকায় জাহাজ জট প্রকট হয়ে উঠবে। বন্দরের ভিতরেও খোলা পণ্যবাহী জাহাজে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে জেটিতে কন্টেনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম চলেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে দেখা দেয়া জট সামলাতে আগামী অন্তত এক মাস সময় লাগবে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দর দিয়ে বছরে গড়ে দশ কোটি টনের মতো খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়। সিমেন্ট ক্লিংকার, সার, খাদ্য শস্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিশ্বের নানা দেশ থেকে জাহাজে বোঝাই করে আমদানি করা হয়। এসব জাহাজের বেশির ভাগ পণ্যই বহির্নোঙরে খালাস করা হয়। লাইটারেজ জাহাজে পণ্যগুলো খালাস করে বিদেশী মাদার ভ্যাসেলগুলো ফিরতি পথ ধরে। আবার কোন কোন মাদার ভ্যাসেল বহির্নোঙরে কিছু পণ্য খালাস করে অনুমোদিত ড্রাফট নিয়ে বন্দরের ভিতরে প্রবেশ করে। তবে লাইটারেজ জাহাজই বন্দরের বহির্নোঙরের মূল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। বন্দরের বহির্নোঙর থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য দেড় হাজারের মতো লাইটারেজ জাহাজ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সাগর অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠায় গত তিনদিন ধরে বহির্নোঙরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শত শত লাইটারেজ জাহাজ অলস বসে আছে। উত্তাল সাগরে লাইটারেজ জাহাজগুলো মাদার ভ্যাসেলের পাশে নোঙর করে পণ্য বোঝাই করতে পারেনা। আবার বৃষ্টির জন্য মাদার ভ্যাসেল এবং লাইটারেজ জাহাজের হ্যাজও খোলা সম্ভব হয়না। এতে করে জাহাজগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। এগুলো অলস বসে থাকে। গত তিনদিনে চল্লিশটিরও বেশি মাদার ভ্যাসেলের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এর মধ্যে গত তিনদিনে আরো নতুন নতুন মাদার ভ্যাসেল পণ্য নিয়ে এসেছে। সব জাহাজই বহির্নোঙরে অলস বসে আছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে খোলা পণ্যবাহী জাহাজ হ্যান্ডলিং এর জন্য বার্থ অপারেটর রয়েছে পাঁচটি। এসব বার্থ অপারেটর একই সাথে পাঁচটি জাহাজে পণ্য হ্যান্ডলিং করতে পারে। বহির্নোঙরে কিছু পণ্য লাইটারেজ করে যেসব জাহাজ জেটিতে প্রবেশ করে সেগুলো গত তিনদিন ধরে প্রবেশ করতে পারেনি। এতে করে একটি দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিরিয়ালে পড়া জাহাজগুলোকে আগামীতে জেটিতে এনে পণ্য খালাস করতে হবে। এই তিনদিনের ধকল সামলাতে আগামী অন্তত এক মাস সময় লাগবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।
অপরদিকে তিতলি ভারতের উড়িষ্যা অঞ্চলে আঘাত হানলেও এর প্রভাব এখনো সাগরে রয়ে গেছে। প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে সাগরে। বড় বড় ঢেউও সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে আজও কাজ হবে কিনা তা নিয়ে লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কর্মকর্তারা সংশয় ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, সাগরের অবস্থা ভয়াবহ। এই উত্তাল সাগরে পণ্য হ্যান্ডলিং করা অসম্ভব। তবে সাগর শান্ত হয়ে বৃষ্টি বন্ধ হলে জাহাজগুলোতে পুরোদমে কাজ শুরুর প্রস্তুতি ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের রয়েছে বলেও তারা জানান। শুধু ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলই নয়, একই সাথে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা পণ্যের এজেন্টের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ আছে তারাও কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে। প্রকৃতি শান্ত হলে কাজ শুরু হবে বলেও তারা জানিয়েছেন। তিতলির প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় বন্দর চ্যানেলে তিন শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ অলস বসে আছে বলেও ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কর্মকর্তারা দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তিতলির প্রভাবে বহির্নোঙরে কাজ হচ্ছেনা। ভারী বর্ষণের জন্য বন্দরের অভ্যন্তরে জেটিতে বার্থিং নেয়া খোলা পণ্যবাহী জাহাজগুলোতেও কাজ বিঘ্নিত হয়েছে। এসব বিঘ্নের ধকল আগামী বেশ কিছুদিনে সামাল দিতে হবে। তবে বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেনার জাহাজে কার্যক্রম পুরোদমে চলেছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

x