বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ২৭ নভেম্বর, ২০১৭ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
182

ব্যবসায়ীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার এবং এর সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। গতকাল দুপুরে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তাগাদা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি ও কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ‘পোর্ট অনেক ক্ষমতার মালিক। যাদের দিয়ে বন্দর পরিচালিত হয় তারা খুবই শক্তিশালী। আমাদের ব্যবসায়ীদের কথাবার্তায় তাদের কিছু আসে যায় না।’ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মতামত নিয়ে বন্দরের সাথে কথা বলা হলেও তা তেমন গুরুত্ব পায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশের স্বার্থে ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে তিনি ব্যবসায়ীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে চেম্বারের পরিচালক আমিনুজ্জামান ভুঁইয়া বন্দর সম্পর্কে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে বলেন, ‘বন্দরে উন্নয়ন যে হয়নি সে কথা আমরা বলব না। বন্দরে উন্নয়ন হয়েছে। বন্দরে আগে যেখানে মাত্র ২০০ টিইইউস পণ্য হ্যান্ডলিং হত, সেখানে এখন ২৩ লাখ টিইইউস হ্যান্ডলিং করতে পেরেছে। বন্দরকে সাপোর্ট দিচ্ছে ১৭টি অফডক (বেসরকারি ইয়ার্ডসমূহ)। এগুলো না থাকলে বন্দরের কার্যক্রম ১দিনও চলবে না। একঘন্টাও চলবে না। যারা এসব অফডক করেছে তারা এখন লোকসান গুনছে। এরপরও বন্দরকে সহযোগিতার জন্য বড় বড় কোম্পানীগুলো লজিস্টিক সহ প্রয়োজনীয় সাপোর্ট বন্দরকে দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, বন্দরে জায়গা আছে, টাকাও আছে। কালুরঘাট থেকে শুরু করে বন্দরে বিস্তীর্ণ জায়গা আছে, ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড জমা আছে। এসব বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যবসাবাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারত।’

আমিনুজ্জামান ভুঁইয়া আরো বলেন, গার্মেন্টসের সুবাদে বর্তমানে বাংলাদেশ বড় একটা অর্থনীতিতে দাঁড়িয়েছে। গার্মেন্ট রপ্তানির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য যে সক্ষমতা দরকার তা বন্দরকে দিতে হবে। বন্দর যত সম্প্রসারণ হবে বাণিজ্যও তত সম্প্রসারিত হবে বলে মত ব্যক্ত করেন তিনি।

বন্দর কার্যক্রম বিভিন্ন পণ্যের দামকেও প্রভাবিত করছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একটি জাহাজ আউটারে পৌছার পর বার্থের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে দরখাস্ত করতে হয়। ১০/১৫ দিন আউটারে পড়ে থাকার পর জাহাজটি বার্থিং করার সুযোগ পায়। এতদিন পড়ে থাকার জন্য ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে জাহাজটিকে। একটি জাহাজ ১৭ দিন আউটারে পড়ে থাকার জন্য অন্তত এক থেকে দেড় কোটি টাকা তিপূরণ দিয়ে মালামালগুলো ছাড়তে পারছে। আমদানিকারকের ক্ষতিপূরণ বাবদ বাড়তি যে অর্থ এখানে ব্যয় হচ্ছে পড়ে তা গিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামকে প্রভাবিত করছে। যদি জাহাজটি ১৭ দিন না থাকত তাহলে বিভিন্ন পণ্যের দাম আরও কম হতো।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিএমসিসিআই সহ সভাপতি মাহাবুব চৌধুরী, পরিচালক আব্দুস ছালাম, অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরী, ডব্লিউ আর আই মাহমুদ রাসেল, সুলতানা শিরিন আক্তার প্রমুখ।

x