বন্দরের গেটে বসছে আরো ২ স্ক্যানার মেশিন

বাড়বে কাজের গতিশীলতা

জাহেদুল কবির

শুক্রবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ
129

চট্টগ্রাম বন্দরের দুই গেটে স্ক্যানার মেশিন বসানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। স্ক্যানার মেশিন দুটিসহ বর্তমানে বন্দরে ফিক্সড স্ক্যানারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। এছাড়া আরো দুটি মোবাইল স্ক্যানার দিয়ে কন্টেনার স্ক্যানিংয়ের কার্যক্রম চলছে। কাস্টমস কর্তারা বলছেন, বন্দরের এক নম্বর গেটে ইতোমধ্যে স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন শেষ হয়েছে। এছাড়া এনসিটি-৩ গেটে অপর মেশিনটি স্থাপনে কাজ চলছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে মেশিন দুটি এই মাসেই চালু করা হবে। তবে আসছে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই নিশ্চিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে বলে জানান কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, স্ক্যানার দুটির কার্যক্রম শুরু হলে বন্দরের কন্টেনার জট কমে গিয়ে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরের ৪ নম্বর, ৫ নম্বর এবং সিসিটি-২ গেটে একটি করে ফিক্সড স্ক্যানার মেশিন রয়েছে। এই তিনটি মেশিন দিয়ে কার্যক্রম চালাতে গিয়ে কন্টেনার জট লেগে যেতো। ফলে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়। তবে স্ক্যানার মেশিন দুটি চালু হলে বন্দরের কাজের গতিশীলতাও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি পণ্য শতভাগ স্ক্যানিং করে হলে কোনো আমদানিকারক আর এক পণ্য এনে অন্য পণ্য ঘোষণা দিয়ে খালাস করতে পারবে না। এছাড়া কন্টেনারে অস্ত্র, গোলাবরুদ কিংবা বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য থাকলে তা সহজেই স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়বে। আবার কেউ বেশি দামের পণ্য এনে কম দামি পণ্য হিসেবে অথবা উচ্চ শুল্ককরের পণ্য আমদানি করে বিনা শুল্ক অথবা কম শুল্কের পণ্য হিসেবে ছাড় করাতে পারবেন না। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি অর্থপাচার কমবে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের আওতায় অঘোষিত ও বিস্ফোরকজাতীয় পণ্য আমদানির পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি কমাতে ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক করা হয়। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) মাহবুবুর রহমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের টার্গেট হচ্ছে নতুন স্ক্যানার মেশিন দুটির অপারেশনাল কার্যক্রম চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু করা। তবে অনেক সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমাদের মেশিন স্থাপন কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তবে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে স্ক্যানার দুটি চালু হচ্ছে বলা যায়। নতুন এই দুটিসহ বন্দরে স্ক্যানারের সংখ্যা এখন পাঁচটি। এছাড়া ১২টি গেটের সবগুলোতে স্ক্যানার মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাকি সাতটি গেইটের জন্যও মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সম্পন্ন হয়েছে।

x