বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট : নব যুগের সূচনা

সোমবার , ২১ মে, ২০১৮ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ
63

মহাকাশে বংগবন্ধু১ স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে অনেক দূর এগিয়ে গেল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পরিপূর্ণভাবে চালু হওয়ার পর স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে আমাদের পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবাসহ টেলিমেডিসিন ইলার্নিংই এডুকেশন, ডিরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) সেবা পাওয়া যাবে। এই স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এর মধ্যে ২০টি রাখা হবে বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য। সাটেলাইট ডিজাইন লাইক ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের জনগণের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে এই ২০টি ট্রান্সপন্ডার যথেষ্ট। বাকি ২০ টি ভাড়া বা বিক্রি করা হবে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। নিজেদের ২০টি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে দেশের টেলিভিশন চ্যানেল এবং ডিটি এইচ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া নিতে পারবে। বিটিআরসি জানিয়েছে বর্তমানে টেলিফোন, রেডিওসহ অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা চালানো হচ্ছে। এতে প্রতি বছর ভাড়া বাবদ বাংলাদেশ থেকে ১৪ মিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু১ স্যাটেলাইটের কার্যক্রম শুরু হলে এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত অংশ নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করা যাবে। তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অগ্রগামী দেশ। ধাপে ধাপে এর উন্নতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফোর জি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো একের পর এক প্রযুক্তি গত সেবা যুক্ত করছে। তবে ইন্টারনেটের যে প্রত্যাশিত মান, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যথেষ্ট অসন্তোষ রয়েছে। ইন্টারনেটের শ্রেনী ভিত্তিক যে ধরনের স্পিড থাকা প্রয়োজন তা যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তথ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের মান ও স্পীড বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এ নিয়ে আরও অনেক কাজ করা দরকার। প্রযুক্তি শুধু আনলেই হবে না। তার মাধ্যমে কার্যকর সেবা দেয়া অপরিহার্য। তা না হলে গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা দেখা দেবে। আমরা মনে করি বঙ্গবন্ধু১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশে তথ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে নবযুগের সূচনা হলো, তা যথাযথভাবে ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সচেতন থাকবে। এর মাধ্যমে যাতে দেশের প্রযুক্তি সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়, সেদিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x