বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি

বুধবার , ১৫ আগস্ট, ২০১৮ at ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ
199

বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যাঁর অবদান ছিল অসাধারণ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই অবদানের জন্য তিনি ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃত। বাঙালির হৃদয়ে এই ত্যাগী রাজনীতিবিদ ও মানবহিতৈষীর স্থান অমলিন। ইতিহাসেও তিনি হয়ে আছেন চিরভাস্বর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আজ ইতিহাসের সেই ভয়াবহ দিন।

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুরের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন তিনি, ছিলেন উদার ও মানবতাবাদী। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকেই সব সময় বড় করে দেখেছেন। এজন্য তাঁকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে। খাদ্য সংকটের জন্য বিক্ষোভের দায়ে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। কিন্তু বন্দি অবস্থায় এই আন্দোলনের সমর্থনে অনশন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ, নিপীড়ন থেকে মুক্তির অসামান্য দলিল ছয় দফার রূপকার ছিলেন শেখ মুজিব। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। সাতই মার্চে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। এই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের এক অসামান্য দলিল। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের নাজুক পরিস্থিতিতে শেখ মুজিব দেশ পরিচালনার ভার নেন। তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ এই চার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান রচিত হয়। বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্র্রাস্ট। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও শিশু একাডেমী প্রতিষ্ঠা তাঁরই অবদান।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে এদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুই প্রথম বাঙালি যিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে বিশ্বসভায় বাংলাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর চোখে ছিল সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হবার আগেই সেনাবাহিনির কিছু বিপথগামী তরুণ অফিসার ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বড়িতে স্ত্রী, তিন পুত্র, দুই পুত্রবধূ ও বেশ কজন নিকটাত্মীয় সহ বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলার ইতিহাসে এই কলঙ্কজনক ঘটনা এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে।

x