বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ রণকৌশলে অসাধারণ

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটে কথামালা অনুষ্ঠানে অনুপম সেন

রবিবার , ১১ মার্চ, ২০১৮ at ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
78

আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার পরিচয় দিয়েছেন। রণকৌশলের দিক থেকে এই ভাষণ অসাধারণ। এই বক্তৃতা এখনো মানুষকে শিহরিত করে। ৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বের ১০টি ভাষণের অন্যতম। মাত্র ১৮ মিনিটের এই ভাষণটি ছিলো বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে অমোঘ নির্দেশনা এবং জেগে ওঠার মন্ত্র। মহাকাব্যিক এই ভাষণে একটি কথাও কম ছিলো না, বেশি ছিলো না। সেদিনের উত্তাল জনতরঙ্গে সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় যা অনিবার্য তাই বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল। গতকাল শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত নগরীর জেলা শিশু একাডেমী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মূল্যায়নমূলক ‘বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জেগে ওঠার মন্ত্র’ শীর্ষক কথামালা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, একটি অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি মহান মুক্তির সংগ্রামকে যৌক্তিক পরিণতির এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠে। বজ্রকণ্ঠে দৃপ্ত ঘোষণা ‘আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবানা’ বাঙালিকে সাহস ও শক্তিতে উজ্জীবিত করেছিলো। সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণটি বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছিলো এবং ভাষণটির ফলে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র হয়েছিলো। পৃথিবীতে আর কোন নজীর নেই, একটি মাত্র ভাষণে কোন জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার। স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, আব্রাহাম লিংকন, মাটির লুথার কিংবা জন এফ কেনেডির মতো নেতার ভাষণ বিশ্বখ্যাত, কিন্তু সবকটিই ছিল লিখিত ভাষণ। বঙ্গবন্ধু তাঁর চশমাটা সেদিন ডায়াসের উপর রেখে ১৮ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার পুরোটাই অলিখিত।

সংস্কৃতিকর্মী নাজমুন নাহার সেজুতির সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সংস্কৃতিকর্মী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল চৌধুরী, পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার কামাল উদ্দিন, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বশর, আকবর শাহ থানা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাংস্কৃতিক সংগঠক শওকত আলী সেলিম, কুমকুম বড়ুয়া, আবদুল খালেক। এতে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী মুজিবুর রহমান, তানভীরুল ইসলাম নাহিদ, বিপ্লব চৌধুরী, বাবলু দাশ, কৃষ্ণা বিশ্বাস, কাজী শামীমা আলম ও পীযুষ সরকার প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x