বখে যাওয়া এক যুবকের অপহরণ গল্প

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া

রবিবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
210

বখে যাওয়া বন্ধুদের খপ্পরে পড়ে রাসেল নামে এক যুবক নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে নাটক সাজায় অপহরণের। এমনকি কথিত অপহরণকারী চক্রের সদস্য সেজে একটি বিকাশ নম্বর থেকে বাবার মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয় নগদ ৫ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত বাবা কামাল উদ্দিন কোনো উপায় না দেখে দ্বারস্থ হন পুলিশের।
অভিযোগ পেয়ে চকরিয়া থানার পুলিশ বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে অপহরণ চক্রের সদস্যদের ধরতে মাঠে নামে। অপরদিকে কথিত অপহৃত রাসেলের বাবা মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার জন্য অপহরণচক্রের সদস্যদের বিকাশের দোকানে যেতে বলেন। তখন সেই দোকানের আশপাশে অবস্থান নেন বাবাসহ পুলিশ সদস্যরা। এই অবস্থায় কোনো অপহরণকারী নয়, রাসেলই বিকাশের দোকানে উপস্থিত হলে হতবাক হয়ে পড়েন বাবা কামাল উদ্দিন। এরপর সাদা পোশাকের পুলিশ চারদিক থেকে রাসেলকে ঘিরে ফেলে। এই
ঘটনা গতকাল শনিবার দুপুরের। ঘটনাটি লোহাগাড়া উপজেলার
আমিরাবাদ স্টেশনের একটি বিকাশের দোকানে ঘটে। এতে ৩৬ ঘণ্টা ধরে চলমান কথিত অপহরণ নাটকের ইতি ঘটে।
পুলিশ জানায়, কথিত অপহৃত মো. রাসেল উদ্দিন (২৫) চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের করাইয়াঘোনার কামাল উদ্দিনের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে পৌর শহরের চিরিঙ্গা থেকে একদল দুর্বৃত্ত অপহরণ করেছে বলে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে বাবাকে জানায় রাসেল। তখন চিন্তিত কামাল উদ্দিন দ্বারস্থ হন থানার। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর রাসেলকে উদ্ধারে এবং অপহরণচক্রের সদস্যদের ধরতে দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর আলমকে। এর পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে মোবাইলের (বিকাশ নম্বর) স্থান শনাক্তের পর মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার জন্য বাবার মাধ্যমে ফাঁদ পাতে। সেই ফাঁদে ধরা পড়ে রাসেল।
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর আলম বলেন, বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ছেলে রাসেল নিজেই এই অপহরণের নাটক সাজায়। তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করায় তাড়াতাড়ি তাকে উদ্ধার ও আসল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী আজাদীকে বলেন, বকে যাওয়া বন্ধুদের খপ্পরে পড়েও রাসেল এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে। পিতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছেলের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

x