বখাটেদের কঠোর শাস্তি দেয়া হোক

শনিবার , ১১ মে, ২০১৯ at ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
26

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, ফটিকছড়ি উপজেলার আজিমনগর আহমদিয়া রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের দায়ে এক বখাটেকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত বখাটে উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মুহাম্মদ খোকন উদ্দিন (২৫)। খোকন উদ্দিন একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক। সে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতো বলে জানা যায়। আমাদের সমাজে এ অপরাধটি যেমন অপ্রতিরোধ্য তেমনি এর শাস্তিও তেমন দৃষ্টিগোচর নয়। ছেলেদের হাতে মেয়েদের নিগ্রহ শুধুই শারীরিক কারণে নয়। সামাজিক ও মনস্তাত্বিক প্রভাবও এখানে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে শিশুরা যে পরিবেশে বেড়ে উঠে, পরিবার মা-বাবার কাছে যে শিক্ষা বা মূল্যবোধ অর্জন করে সেটিও কম প্রভাব ফেলে না তাদের মনোজগতে। অতএব বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমাদের প্রধান সংকট হচ্ছে যে আইন আছে তারও তেমন যথাযথ প্রয়োগ নেই। অন্যদিকে আইনের ফাঁক ফোকর ছাড়া ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে এ ধরনের অপরাধীদের বিচার প্রহসনে পরিণত হয়। অনেক সময় মেয়ে নিগ্রহকারীরা রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতার কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। গত কয়েক বছর আগে এক শ্রেণির এই অপরাধের কারণে ৫০ জন তরুণীর খবর বের হয়েছিল পত্র-পত্রিকায়। এ সময় সারাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬০০ বখাটে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীর বেশির ভাগেরই শাস্তি হয় না। একদিকে আইনগত কাঠামোর কারণে অন্যদিকে সমাজের প্রতিষ্ঠিত অধিষ্ঠিত শক্তিধরদের হাতে অপরাধীরা পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন বলে। আমাদের মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে যদিও তারা জনসংখ্যায় অর্ধেক কিংবা তারও বেশি। তবু তারা পিছিয়ে আছে। জীবনের নানা ক্ষেত্রে শিক্ষা, দীক্ষা করে নানা পেশায় প্রবেশ করে মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। পুরুষের মতোই জীবনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। এ চ্যালেঞ্জে অনেকেই সফল। ঠিক এ মুহূর্তে প্রবল মহামারির মতো তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে এক শ্রেণির বখাটেরা। যার মূল উৎপাটন জরুরি। বহু সংখ্যক মেয়ে বখাটেদের উৎপাতে তাদের লেখাপড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বহু সংখ্যক মেয়ে লজ্জা ও যন্ত্রণায় আত্মাহুতি দিয়েছে। অনেক শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিবাদ করায় নিগৃহীত হয়েছেন। এদের কেউ কেউ জীবন দিয়েছে। কিন্তু কতজন তাদের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে তা কি আমরা বলতে পারব? পারবো না। কারণ একটি ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিক যে প্রতিক্রিয়া হয় আমরা তাতেই আশ্বস্ত হই নতুন ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত। এ প্রবণতা শুভ নয়। এটাকে রোধ করতেই হবে।
– এম.এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম
পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x