বই প্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে

বুধবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
10

গত ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার এক পর্যায়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক, বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক সুব্রত বড়ুয়া বলেছেন-বই মানুষকে মহান করে। জ্ঞান আহরণ করতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে বই পড়তে হবে। বই হচ্ছে পরম বন্ধু। বইয়ের তুলনা অন্য কোন কিছুর সাথে হতে পারে না। এখনো আমি বই পড়ি, যখন যেটি পাই, আমার চোখ এড়াতে পারে না। কোন রকম পুরস্কার পাওয়ার জন্য আমি বই পড়ি না। সুব্রত বড়ুয়ার প্রাঞ্জল সুন্দর বক্তব্যের জন্য আমরা অভিনন্দন জানাই। একটি বই লেখকের আহরিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, জীবন দর্শনের সমষ্টি। নিউটন, গ্যালিলিও, আইনস্টাইন, কিংবা রবীন্দ্র-নজরুল আনিসুজ্জামানসহ বিখ্যাতদের বড় হওয়ার পেছনে একটাই গল্প। আর সেটি হলো বই পড়া। বই আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে জীবন দর্শনে। উন্মুক্ত করে মুক্তবুদ্ধি চর্চার দ্বারকে, বৃদ্ধি করে সৃজনশীলতা ও নৈতিকতা। সুন্দর ও সাফল্য অর্জনের প্রেরণা ও শিক্ষা আমরা পেয়ে থাকি আমাদের পূর্ব পুরুষদের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার বই থেকে। জগতের মহান ব্যক্তিরা সবাই বই প্রেমি। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী বিল গেটস প্রতি বছর শতাধিক বই পড়েন। ওয়ারেন বাকেট প্রতিদিন একটি বই পড়েন। বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের কারাজীবনের একমাত্র সঙ্গী ছিল বই। আমাদের উচিত জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প সাহিত্য, ইতিহাস দর্শন ইত্যাদি জ্ঞানের মহাসাগরে বিচরণ করা। বই জ্ঞানের উৎকর্ষতা নির্মাণের হাতিয়ার। বই একটি জাতি ও একটি জনপদের ঊর্ধ্বমুখী উত্তরণের পরিচায়ক। যারা বই পড়েন, তারা পৃথিবীকে জানতে বুঝতে পারেন। আনন্দে থাকেন। তাই ছাত্র/ছাত্রীদের সত্যিকারের মানুষ হবার সুযোগ দিতে লাইব্রেরী অবশ্য অবশ্যই প্রয়োজন। বর্তমান সময়ের ছাত্র/ছাত্রীরা স্কুল কলেজে লেখাপড়া করছে শুধু পাস করার জন্য। তারা জানে না, লাইব্রেরী না থাকায় স্কুল কলেজের বাইরের কোন জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না। আমরা মনে করি লাইব্রেরীর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন দেশের কথা, মনীষীর জীবনী, তথ্য প্রযুক্তি ও জীবনের সফলতার কথা জানতে পারে।
এম.এ. গফুর, বলুয়ারদীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x