বইমেলা: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসংগে

রবিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ
21

একুশের বই মেলা শুরু হয়েছে। গত ১ লা ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাংগনে অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন: বইমেলা বাঙালির ‘প্রাণের মেলা।’ যতই আমরা যান্ত্রিক হই না কেন বইয়ের চাহিদা কখনো শেষ হবে না। নতুন বইয়ের মলাট, বই সেলফে সাজিয়ে রাখা, বইয়ের পাতা উল্টে পড়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে আমরা সব সময় তা দেখতেই চাই। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন আগে যখন ক্ষমতায় ছিলাম না তখন এই মেলায় অনবরত ঘুরে বেড়াতাম। আর এখন অনেকটা বন্দি জীবন। এখন ইচ্ছা থাকলেও আসা যায় না। আর আসলেও অন্যের অসুবিধা হয়। সত্যি কথাটি কি মনটা পড়ে থাকে বইমেলায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রাঞ্জল সুন্দর বক্তব্যের জন্য আমরা অভিনন্দন জানাই। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন চট্টগ্রাম একাডেমি, সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদসহ অন্যান্য প্রকাশনী সংস্থা প্রতি বছর এই বই মেলার আয়োজন করে থাকে। বই মেলার কারণেই দেশে বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহের একটা জায়গাক্রমেই সৃষ্টি হচ্ছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। বই মানুষকে মহান করে। জ্ঞান আহরণ করতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে বই পড়তে হবে। বই হচ্ছে পরম বন্ধু। বইয়ের তুলনা অন্য কোন কিছুর সাথে হতে পারে না। একটি বই লেখকের আহরিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা জীবন দর্শনের সমষ্টি। নিউটন, গ্যালিলি ও আইস্টাইন, কিংবা রবীন্দ্র-নজরুল আনিসুজ্জামানসহ বিখ্যাতদের বড় হওয়ার পেছনে একটাই গল্প। আর সেটি হলো বই পড়া। বই আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে জীবন দর্শনে। উন্মুক্ত করে শুভমুক্তি চর্চার দ্বারকে বৃদ্ধি করে সৃজনশীলতা ও নৈতিকতা। সুন্দর ও সাফল্য অর্জনের প্রেরণা ও শিক্ষা আমরা পেয়ে থাকি আমাদের পূর্ব পুরুষদের অভিজ্ঞতার ভান্ডার বই থেকে। জগতের মহান ব্যক্তিরা সবাই বই প্রেমি। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী বিল গেটস প্রতি বছর শতাধিক বই পড়েন। ওয়ারেন বাকেট প্রতিদিন একটি বই পড়েন। বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের কারাজীবনের একমাত্র সংগী ছিল বই।আমাদের উচিত জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প সাহিত্য, ইতিহাস দর্শন ইত্যাদি জ্ঞানের মহাসাগরে বিচরণ করা। বই জ্ঞানের উৎকর্ষতা নির্মাণের হাতিয়ার। বই একটি জাতি ও একটি জনপদের উর্ধ্বমুখী উত্তরণের পরিচায়ক। যারা বই পড়েন, তারা পৃথিবীকে জানতে বুঝতে পারেন। আনন্দে থাকেন। বর্তমান সময়ের ছাত্র/ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করছে শুধু পাস করার জন্য। তারা জানে না, লাইব্রেরী না থাকায় স্কুল কলেজের বাইরের কোন জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না। আমরা মনে করি, লাইব্রেরীর মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীরা বিভিন্ন দেশের কথা, মনীষির জীবনী, তথ্যপ্রযুক্তি ও জীবনের সফলতার কথা জানতে পারে। তাই আমরা চাই মানুষ বই পড়ুক। মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাক, মানুষ প্রকৃত অর্থে মানুষ হয়ে উঠুক।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

- Advertistment -