ফ্লাইওভার থেকে ফেলে দেওয়া ইয়াবা ভারতে পাচার হচ্ছিল

গ্রেপ্তার আসামি জয়নালের স্বীকারোক্তি

ঋত্বিক নয়ন

রবিবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
759

পণ্য পরিবহনের আড়ালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে ইয়াবা যাচ্ছে ভারতে। আর তা পাচার করছে পিতা পুত্র মিলেই। গত ২৯ আগস্ট দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার থেকে নিচে ফেলে দেওয়া বস্তাভর্তি ৪০ হাজার ইয়াবা মামলার প্রধান আসামি জয়নাল আবেদীন (৪৮) সেই কাভার্ডভ্যানসহ (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-০১০১) ধরা পড়ার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেন বলে আজাদীকে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়নালকে সিটিগেইট এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানসহ আটক করা হয়। এসময় তার ছেলে আবদুল্লাহ পালিয়ে যায়। গতকাল শনিবার বিকেলে মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে জয়নাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তিনি আরো বলেন, আমরা গাড়ির মালিক হযরত ও জয়নালের ছেলে আবদুল্লাহকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছি। জবানবন্দিতে তিনি জানান, জয়নাল এবং তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ দুই বছর ধরে কাভার্ড ভ্যানটি চালান। গাড়ির মালিক যশোর বেনাপোলের মো. হযরত আলী জয়নালের পূর্ব পরিচিত ও প্রতিবেশী। প্রতি মাসে একাধিকবার তিনি ও তাঁর ছেলে চট্টগ্রাম আসেন গাড়িসমেত পণ্য আনা নেওয়ার কাজে। যাওয়ার পথে পণ্যের আড়ালে নিয়ে যান ইয়াবার চালান। গাড়ির মালিক হযরত আলীর নির্দেশে তিনি এ কাজ করে থাকেন। প্রতি চালানে তারা পিতা পুত্র ২০ হাজার টাকা করে পান।
জয়নাল আরো জানায়, রোজার ঈদের কিছু দিন আগে নগরীর মাদারবাড়ি এলাকার জনৈক শানু বা শাহিনের সাথে যোগাযোগ করতে বলে হযরত আলী। তার সাথে যোগাযোগ করে তিন দফায় ইয়াবার চালান পৌঁছে দেন হযরত আলীর কাছে। গত ২৯ আগস্ট মাদারবাড়ি নিউ যমুনা ট্রেডার্স এন্ড পার্সেল অফিস থেকে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিয়ে ফরিদপুর, মাগুরা এবং যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে শানু / শাহিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ৪ টি প্যাকেটে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা দেন হয়রত আলীকে দেওয়ার জন্য।
রাত আনুমানিক পৌনে দশটার দিকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে অলংকারের দিকে যাওয়ার পথে সাদা একটি মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন নেমে গড়ি থামানোর সংকেত দেন ফ্লাইওভারের উপরে। তখন গাড়ি চালাচ্ছিলেন জয়নালের ছেলে আবদুল্লাহ। তাদের দেখে ভয়ে তিনি ইয়াবার বস্তাটি ফ্লাইওভারের নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেন। এরপর মাইক্রোবাস আরোহীরা আমাদের কাভার্ডব্যানসহ মনসুরাবাদ নিয়ে পুরো গাড়ি তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে ছেড়ে দেন। বিষয়টি গাড়ির মালিক হযরত আরীকে জানানো হয়।
জয়নাল জানায়, হয়রত আলীর মাধ্যমে ইয়াবার চালান বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারতে অবস্থানরত জালালউদ্দিনের কাছে যায়। ইয়াবার চালান স্থানান্তরের সময় সার্বক্ষনিক যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করে জয়নালের ছেলে আবদুল্লাহ।

x