ফ্যাটিলিভার লিভারের নীরব ঘাতক

ড. মো. আবদুর রব

শনিবার , ১০ নভেম্বর, ২০১৮ at ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
403

আমরা অনেকেই এখন এ শব্দটির সাথে পরিচিত। সহজ ভাষায় ফ্যাটিলিভার মানে লিভারে চর্বি জমা হওয়া। সাধারণত লিভারে অল্প কিছু ফ্যাট বা চর্বি থাকে কিন্তু বেশি পরিমাণে ফ্যাট জমলে এইটি একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা। অনেক দিন ধরে ফ্যাট জমা থাকলে এটি লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং এক সময় লিভার সিরোসিসও হতে পারে। তাই ফ্যাটি লিভার সম্বন্ধে আমাদের জানাটা জরুরি।
কি কি কারণে হয় : ফ্যাটি লিভারকে প্রধানত দুইভাগে বর্ণনা করা যায়।
১. এলকোহলিক
২. নন-এলকোহলিক
এছাড়াও গর্ভাবস্থায় একিউট ফ্যাটি লিভার অফ প্রেগনেন্সি হতে পারে এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার এলকোহল পান করার জন্যই হয়। নন এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার সাধারণত ডায়াবেটিস, রক্তে উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত ওজন, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস এবং পুষ্টিহীনতার কারণে হয়ে থাকে। এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ও ফ্যাটিলিভার হতে পারে। যেমন- Methotrexate, Tamoxifan, Amidoron, Valproic acid.
লক্ষণসমূহ : ফ্যাটিলিভার সাধারণত কোন লক্ষণ প্রকাশ করে না। লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে অনেক সময় এটি ধরা পড়ে। সাধারণ লক্ষণ সমূহ হচ্ছে-
১. খাবারে অরুচি
২. ওজন কমে যাওয়া
৩. পেটে ব্যথা
দুর্বলতা কিন্তু যদি লিভার সিরোসিস হয়ে থাকে তাহলে জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া ও রক্তবমি হতে পারে।
কিভাবে রোগটি নির্ণয় করা যায় : লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেলে রক্তে লিভার এনজাইমের বৃদ্ধি, আল্ট্রাসাউন্ড, ফাইব্রোস্ক্যান CT or MR ও করলে রোগটি ধরা পড়ে। এছাড়া লিভার বায়োপসি করলে এর সিভিয়ারিটি বুঝা যায়।
চিকিৎসা : এখন পর্যন্ত ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় কার্যকরী কোন ওষুধ নেই। রিক্স ফ্যাক্টরগুলো কমিয়ে আনলে ফ্যাটি লিভার অনেক সময় ভালো হয়ে যায়।
যেমন- শরীরের ওজন কমানো, এলকোহল পান বন্ধ করে দেওয়া, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ। খাদ্যাবাস পরিবর্তন করাটা জরুরি। চর্বি ও সুগার যুক্ত খাবার কম খেতে হবে। সবজি ও ফলমুল বেশী করে খেতে হবে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
কিছু কিছু ওষুধ আমরা রোগীদের দিয়ে থাকি যেমন Metformin, Vit-E, Atorvastatin এগুলো সেবন করলে কিছুটা ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে লিভার সিরোসিস হয়ে থাকলে তখন এগুলো কোন কাজে আসে না। লিভার সিরোসিরের একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে লিভার প্রতিস্থাপন। কিন্তু এটি জটিল ও ব্যায়বহুল চিকিৎসা। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে স্টেমসেল থেরাপি দেওয়া হচ্ছে লিভার প্রতিস্থাপনের বিকল্প হিসেবে। স্টেমসেল থেরাপিতে লিভারের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং নতুন লিভার কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে লিভারের কার্যকারিতা অনেকাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব। চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে আল-নূর বদরুন সেন্টারে ‘শিওরসেল মেডিকেল’ অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি ব্যাবহার করে স্টেমসেল থেরাপি চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এটির সুবিধা হলো কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং খরচ অনেক কম ও হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় না।
পরিশেষে বলতে চাই ফ্যাটিলিভার, লিভারের একটি নীরব ঘাতক। এটি টের পেতে অনেক সময় লেগে যায় তাই নিয়মিত লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং আপনার লিভার সুস্থ রাখুন এবং ভালো থাকুন।

লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও শিওরসেল মেডিকেল, চট্টগ্রাম। ইমেইল : imdrrob@gmail.com

x