ফের ২ ঘণ্টার জন্য অচল কক্সবাজার সদর হাসপাতাল

রোগীদের চরম দুর্ভোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ৯ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:১৫ অপরাহ্ণ
79
চিকিৎসকদের চারদিনের ধর্মঘটের পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা সোমবার সকালে সচল হলেও তার একদিন পরে আজ মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) ফের ২ ঘণ্টার জন্য অচল হয়ে পড়ে।
রোগীর স্বজনদের সাথে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বার বার অচল হয়ে পড়ছে কক্সবাজার জেলার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। ফলে অসংখ্য গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিসহ শত শত সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে এক চিকিৎসকের সাথে এক রোগীর স্বজনের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও চিকিৎসকরা হাসপাতাল গেইটে তালা লাগিয়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা হয়। এসময় এক রোগীর স্বজন আবদুল্লাহ এমডি ম্যাক্স নামের এক যুবককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, এক শিশু রোগীর চিকিৎসা দেয়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে বহির্বিভাগের চিকিৎসক আনিসুর রহমানের সাথে কক্সবাজার শহরের রুমালিয়া ছড়া এলাকার বাসিন্দা ও এক রোগীর স্বজন আবদুল্লাহ এমডি ম্যাক্স নামের যুবকের সাথে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জড়ো হয়ে আবদুল্লাহ এমডি ম্যাক্সকে মারধর করে আটকে রাখে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক যুবকটি ডা. আনিসুর রহমান, ডা. জামসেদসহ তিন চিকিৎসককে মারধর করেছে। তাই তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে আটক আবদুল্লাহ এমডি ম্যাক্স এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি দাবি করেন, তার স্বজন এক শিশু রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে তিনি বহির্বিভাগের দায়িত্বরত ডা. আনিসুল হোসেনের চেম্বারের যান। এতে শুরুতেই রেগে যান ডা. আনিস। এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে পরিস্থিতি তিক্ততার পর্যায়ে চলে যায়। সাথে সাথে ডা. আনিস খবর দিয়ে ১৫/২০জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে তার চেম্বারে নিয়ে আসেন। এসেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাকে মারতে শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাকে ওই কক্ষ ও কক্ষের বাইরে কিল, ঘুষিসহ ব্যাপক মারধর করে আটকে রাখার পর পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে এই ঘটনার সাথে সাথে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেন। এসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজাও তালাবদ্ধ রাখা হয়। দরজায় টাঙানো হয় চিকিৎসা বন্ধের নোটিশ। পরে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের লোকজন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান পালের সাথে সাক্ষাত করে মতবিনিময়ের পর জরুরি বিভাগ খুলে দেয়া হয়।
আটক আবদুল্লাহ এমডি ম্যাক্স’র বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান ও চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ এনে হাসপাতালের পক্ষ থেকে মামলা করার কথাও জানান হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান পাল।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দরকার জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেই আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
x