ফের সড়ক-রেলপথ অবরোধে পাটকল শ্রমিকরা, দুর্ভোগ

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ
42

বকেয়া বেতন, মজুরি কমিশন, গ্র্যাচুইটি ও পিএফ’র টাকা প্রদানসহ ৯ দফা দাবিতে দেশব্যাপী পাটকল শ্রমিকদের ফের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘট চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিকলীগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সিবিএ ও নন-সিবিএ শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ একসাথে এ ধর্মঘট কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দেশব্যাপী সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে জনসাধারণকে। গতকাল সোমবার থেকে চট্টগ্রামের নয়টিসহ দেশের ২৬টি পাটকলে এ আন্দোলন শুরু করেছেন পাটকল শ্রমিকরা।
গতকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর আমিন জুটমিলের শ্রমিকরা টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে দুর্ভোগে পড়েন মুরাদপুর-অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের যাত্রীরা। দুপুর ১২টার পর অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আগামী ১৮ এপ্রিল (প্রতিদিন ৮টা থেকে দুপুর ১২টা) পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। এরপর ২৬ এপ্রিল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল পাটকল ধর্মঘটের সাথে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
আমিন জুট মিলস লিমিটেডের সিবিএ-২৪৬ এর সভাপতি আরিফুর রহমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, ২৬ মার্চ বিজেএমসির চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা ফরপ্রসূ না হওয়ায় আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ২০১৩ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আমিন জুট মিলস লিমিটেডের নন-সিবিএ-৯৮০ এর সাধারণ সম্পাদক সামশুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাতা না পাওয়ায় শ্রমিকরা পরিবারের চিকিৎসা খরচ পর্যন্ত চালাতে পারছেন না। আমাদের মধ্যে এমনও অনেকে আছেন, যারা বেতন ছাড়াই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন। অপেক্ষায় থেকে এমনকি অনেকের নমিনি পর্যন্ত মারা গেছেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, গ্র্যাচুইটি, পিএফ’র টাকা পরিশোধ, ২০০৮ সাল থেকে শ্রমিকদের মৃত্যুদাবি পরিশোধ, অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, ক্যাজুয়েলভিত্তিক বন্ধ করে বদলি শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ, টোকেন ক্লার্ক হিসেবে কর্মরতদের স্থায়ীকরণসহ পদায়ন করা, পাট ক্রয়ের টাকা যথাসময়ে মিল গুদামে প্রেরণ, স্ব স্ব মিলে স্টাফ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিজেএমসির পাঠকলগুলোর মধ্যে আছে আমিন জুট মিলস লিমিটেড, গুল আহমেদ জুট মিলস লিমিটেড, হাফিজ জুট মিলস লিমিটেড, এমএম জুট মিলস লিমিটেড, আর আর জুট মিলস লিমিটেড, বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড, কর্ণফুলী জুট মিলস লিমিটেড, ফোরাত কর্ণফুলি কার্পেট ফ্যাক্টরি, গালফ্রা হাবিব লিমিটেড ও মিলস ফার্নিসিং লিমিটেড।
আমাদের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, ৯ দফা দাবিতে সীতাকুণ্ডে রাষ্ট্রায়ত্ব ৫টি মিলে গতকাল সোমবার থেকে লাগাতার ৯৬ ঘণ্টার মিল ধর্মঘট শুরু হয়েছে। অপ্রীতিকর যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় এসময় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। হাফিজ জুট মিলস এলাকায় সকাল থেকে শিল্প পুলিশ ও সীতাকুণ্ড মডেল থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। এছাড়া মিল এলাকায় জলকামান ও সাজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
শ্রমিকরা জানান, বিগত চার বছর ধরে বিজেএমসি মজুরি কমিশনসহ শ্রমিকদের দাবি পূরণের কথা বললেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এছাড়া বকেয়া মজুরি, পিএফ’র টাকা প্রদান ও বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে দাবি আদায়ে ৯৬ ঘণ্টা ধর্মঘটের কর্মসূচি দেওয়া হয়। পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। আর্থিক সঙ্কটে কাঁচা পাট কিনতে না পারায় পাটকলগুলোর উৎপাদনে ধস নেমেছে।

x