ফের উত্তাল হংকং

বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

মঙ্গলবার , ২ জুলাই, ২০১৯ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ
46

হংকং পুলিশ সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়েছে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে। হংকং’কে চীনের কাছে হস্তান্তরের বার্ষির্কী পালন উপলক্ষে গণতন্ত্রপন্থী বিশাল এক সমাবেশের প্রাক্কালে সোমবার তারা বিভিন্ন রাস্তা দখল করলে পুলিশ এভাবে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।
আধা-স্বায়ত্তশাসিত এ নগরীতে বিগত তিন সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এসব বিক্ষোভ থেকে হংকং’কে চীনের মূল ভূখন্ডের সঙ্গে একীভূত করার সুযোগ দেবে এমন আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের ছোট একটি গ্রুপ জনগণের যাতায়াতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখল করার পর সোমবার হংকংয়ে আবারো চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ গ্রুপের অধিকাংশই যুবক ও মুখোশ পরা ছিল। খবর বাসসের।
নগরীর অ্যাডমিরাল্টি ও ওয়ানচাই এলাকার রাস্তা দখল করে থাকা এসব বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের মাথায় হেলমেট ও হাতে ঢাল ছিল। এএফপি’র এক প্রতিবেদক ঘটনাস্থল থেকে জানান, হস্তান্তর বার্ষিকী পালন উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের স্বল্প সময় আগে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করে থাকা বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে গেলে এক নারী বিক্ষোভকারী আহত হয়। পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত ওই নারীর মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। হংকংয়ের বেইজিংপন্থী নেতাদের সহযোগিতায় এখানকার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির ওপর চীনের নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানাতেই এসব বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
তবে সর্বশেষ কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে গত ৯ জুন রাতে অঞ্চলটির রাজপথে নামে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ঢল টানা কয়েক দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অঞ্চলটির সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে রাখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। মাসজুড়ে সেই্‌ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ১২ জুন তা সহিংস হয়ে উঠে। আন্দোলকারীদে;র ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। আন্দোলনাকারীরাও বিভিন্ন বস্তু ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানায়। ব্যাপক গণআন্দোলনের তীব্রতায় বিলটির কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।
হংকংয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ হলেও, ১২শ’ জনের একটি বিশেষ কমিটি নেতা বাছাইয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। অঞ্চলটির নেতা বা প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের দাবি, হংকং যে বিশেষ স্বাধীনতা উপভোগ করে, নতুন আইনের ফলে তার কোনও ক্ষতি হবে না। তবে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা বলছেন, আইনটির মাধ্যমে অঞ্চলটির রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে বেইজিং। এর প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাজপথের বিক্ষোভে শামিল হন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং ব্রিটেনের হাত থেকে চীনা শাসনে ফিরে গেলেও একটি বিশেষ বন্দোবস্তের আওতায় নগরীটি এখনো পৃথকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।

x