ফুটপাত : পথচারীদের চলাচল উপযোগী করতে ব্যবস্থা নিন

বুধবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
136

নগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যস্ত সড়কের ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজ এখন যেন জমজমাট বাজার। যা আবার অধিকাংশ সময় চাঁদাবাজ, ফেরিওয়ালা, মাদক সেবী এবং কোথাও কোথাও ভবঘুরে ছিনতাইকারীদের দখলে। বিশেষ করে নগরীর ফুটপাত এখন পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্যস্ত সড়কের ফুটপাতগুলো পরিণত হয়েছে বিস্তৃত বাজারে। কোথাও কোথাও এই বাজার ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। এর ফলে ওই ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচল দূরে থাক, কোথাও কোথাও ফুটপাত সংলগ্ন রাস্তা দিয়েও হাঁটার কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি ‘হেলদি ওয়ার্ড’ হিসেবে পরিচিতি জামালখান এলাকার রাস্তাগুলোও এখন হকারদের দখলে। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাগুলোর সম্প্রসারণ করা হলেও তাতে সুফল মিলছে না। রাস্তা যতই বড় করা হয় হকারদের উপস্থিতি ততই বাড়তে থাকে। এ বিষয়ে ‘ফুট আছে পথ নেই /দুর্ভোগের শেষ নেই’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক আজাদীতে গতকাল মঙ্গলবার। এতে বলা হয়েছে, রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসা এসব হকারদের ঘিরে পুরনো কায়দাতেই চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ক্যাডার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। এদের সাথে যোগ হয়েছে মার্কেট মালিকরাও। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে যেন ‘ফুট আছে পথ নেই’ অবস্থা। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীপথচারীরা। এছাড়া এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানের ফলে সৌন্দর্য্য ম্লান হচ্ছে এই এলাকার। সরেজমিনে দেখা গেছে, আন্দরকিল্লা মোড় থেকে শুরু করে মোমিন রোডের কদম মোবারক বাই লেন, চেরাগী পাহাড় মোড়, সিঁড়ির গোড়া ও জামালখান মোড় সংলগ্ন এলাকার ফুটপাত ও রাস্তার ওপর এখনো বিভিন্ন ভাসমান দোকান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত ভ্যানগাড়িতে করে বেশিরভাগই ভাসমান ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ ঝুঁড়ি কিংবা মাটিতে বস্তা বা পাটের থলে বিছিয়ে পণ্য বিকিকিনি করছেন।

আমরা দেখেছি, জামালখান সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে হাঁটার কোনো অবস্থাই নেই। শীতের পোশাক এবং বিভিন্ন জামা কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেন ফেরিওয়ালারা। ঠিক এইভাবে বসে মাছ, সবজি ও ফলমূলের কাঁচাবাজার। এর ফলে এই এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তাকর্মচারী, স্কুলকলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং বিভিন্ন কাজে আসা হাজার হাজার মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারেন না। অধিকাংশ সময় ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কগুলো পার হন। তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হয় বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, সড়কে চলাচলকারী পথচারীসহ সবাইকে।

স্থায়ী স্থাপনা না হলেও ভাসমান এসব দোকানে অন্যান্য সাধারণ দোকানগুলোর মতোই ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে আজাদীতে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ভাড়া কারা নিয়ে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে চান না। প্রতিদিন সময় হলে কিছু লোক এসেই এসব টাকা নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন তারা। যদিও জানা যায়, রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও পুলিশ হকারদের কাছ থেকে এইসব অবৈধ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেছেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা মিলেমিশে চাঁদাবাজি করছে।

সম্প্রতি জামালখান ওয়ার্ডটির ছোট্ট একটি অংশে সাজানো সবুজের সমারোহ, দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা ও স্থাপনাগুলো এই এলাকাকে নতুনভাবে পরিচয় করে দিচ্ছে। পুরো ওয়ার্ডটিকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়তে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও এখানকার ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত না হওয়ায় তার সুফল ভোগ করতে পারছে না এলাকাবাসী। পথচারীরা যেন স্বচ্ছন্দে ফুটপাত ধরে হাঁটতে পারে এ লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের সর্বাত্মক অভিযানের ফলে নগরবাসী একসময় আশ্বস্ত হয়েছিলেন। নানা এলাকায় ফুটপাত হকারমুক্ত করার পর একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন তারা। কিন্তু সে স্বস্তির রেশ বেশিদিন টিকল না; এখন তা আবার পুরোপুরি বেদখলে চলে গেছে। হকাররা দ্বিতীয়বার বসার সাহস না পেলেও খোলা মাঠ পেয়ে সেখানে একেবারে জাঁকিয়ে বসে চুটিয়ে ব্যবসা করছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা। ফলে নগরবাসীকে সিটি কর্পোরেশনের দখলমুক্ত ফুটপাত উপহার দেওয়ার প্রয়াস অনেকটা ভেস্তে গেল। ফুটপাত এবং সড়ক পথচারীদের চলাচলের উপযুক্ত রাখার জন্য চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

x