ফিলিস্তিনের কাছে হেরে আবার স্বপ্ন ভঙ্গ বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
20

এবারেও হলো না। আরো একবার হতাশ হতে হলো বাংলাদেশকে। সাফ ব্যর্থতার বলয় থেকে বের হয়ে আসতে পারলনা বাংলাদেশের ফুটবলাররা। গোল করতে না পারার যে হতাশা তা আরো একবার ভোগাল বাংলাদেশকে। বড় ম্যাচে সুযোগ আসে কম। কিন্তু প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগাতে হয়। আর সেটা পারেনি বাংলাদেশের স্ট্রাইকাররা। যার ফল আরো একবার ফাইনালের আগে বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট বিদায় জানাতে হলো। আবারো ফিরতে হলো খালি হাতে ব্যর্থতাকে সঙ্গী করে। সেমিফাইনাল থেকে টুর্নামেন্টকে বিদায় বলে দিতে হলো স্বাগতিক বাংলাদেশকে। গতকাল কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিন। গতবার বাহরাইনের অনূর্ধ্ব-২২ দলের কাছে হেরে সেরা চার থেকে বিদায় নিয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। আর এবারে আরেক আরব দেশ ফিলিস্তিনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো।
শক্তিমত্তা, শারিরীক গঠন আর দক্ষতায় ঢের এগিয়ে ছিল ফিলিস্তিনিরা। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের লম্বা খেলোয়াড়দের নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হলো ম্যাচের শুরুর দিকে। শুরুতেই পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ বাকিটা সময় দারুণ লড়াই করলেও আর পেরে ওঠেনি। সেমি-ফাইনালে হেরে ২০১৫ সালের পর বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে স্বাগতিকদের।
আগামীকাল শুক্রবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার পঞ্চম আসরের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফিলিস্তিন এাবং তাজিকিস্তান। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে কক্সবাজারে গতকাল সারাদিন টিপটিপ বৃষ্টির কারণে মাঠ ভারী ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। শুরু থেকে তাই লম্বা পাসে খেলার সিদ্ধান্ত নেয় ফিলিস্তিনি। কিন্তু বাংলাদেশ শুরুতে তাদের কৌশল ধরতে পারেনি। আর সে সুযোগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার আগেই গোল করে বসে ফিলিস্তিন। খেলার অষ্টম মিনিটেই ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা মুসাব বাতাত দারুণ এক ক্রস করেন অপর প্রান্তে। অপর প্রান্তে অনেকটা ফাঁকায় থাকা মোহাম্মদ বালাহ অসাধারণ এক হেডে বলে জালে জড়িয়ে দেন। পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো ফিলিস্তিন। এবং জোনাথন গোরিল্লার কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে আব্দুল লাতিফ আলবাহাদারি আরো একটি চমৎকার হেড নিয়েছিলেন। কিন্তু তার সে হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। সে যাত্রায় বেশ ভালভাবেই বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
গোল হজমের পর বাংলাদেশ যেন নড়ে চড়ে বসে। এবার আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। আর সে সুবাদে খেলার ২১ মিনিটে সহজ একটি সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি সুফল। মিনিটে বিপলু আহমেদের কাছ থেকে থেকে পাওয়া বল নাবীব নেওয়াজ জীবন বাড়ান ডি-বক্সের মধ্যে থাকা মাহবুবুর রহমান সুফিলকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু ফিলিস্তিনের তামের সালেহ বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলরক্ষকের উদ্দেশ্যে ব্যাকপাস দিলে ভারী মাঠে তা আটকে যায়। সুফিল শট আটকে বাংলাদেশকে সমতায় ফিরতে দেননি ডিফেন্ডার মুসাব। অবশ্য খেলার ৩৪ মিনিটে দাব্বাঘ ওদেইয়ের কাছের পোস্টে নেওয়া শট ফেরান গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে সুফিলের বাড়ানো বলে জীবনের জোরালো শট বাইরের জালে লাগলে গ্যালারি ভরা স্বাগতিক সমর্থকদের হতাশা আরও বাড়ে।
ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৯৩ ধাপ এগিয়ে ফিলিস্তিন। কিন্তু র‌্যাংকিংয়ের সেই পার্থক্যের ছিটেফোঁটা ছিল না মাঠে। বল দখলের লড়াই ছিল প্রায় সমানে সমান দুদল। ফিলিস্তিন যেখানে ৫১ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণ রেখেছে সেখানে বাংলাদেশ রাখে ৪৯ শতাংশ। পুরো ম্যাচেই তীব্র লড়াই করেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। কিন্তু বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি জীবন-সুফিলরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দশেক আগে বিপলুর পরিবর্তে কোচ মাঠে নামান কক্সবাজারের ছেলে তৌহিদুল আলম সবুজকে। দুই স্ট্রাইকার ব্যবহার করেও গোল বের করতে পারেনি বাংলাদেশ।
ফিলিস্তিন শুরুতেই প্রাপ্ত দুই সুযোগের প্রথমটি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ তার চেয়ে বেশি সুযোগ পেয়েও পারেনি কাজের কাজটি করতে। গোল করার দক্ষতা কি তাহলে নেই বাংলাদেশের স্ট্রাইকারদের সে প্রশ্নটা আবারো বড় হয়ে দেখা দিলো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ই বল দখল আর সুযোগ প্রাপ্তিতে ফিলিস্তিনের চেয়ে এগিয়েছিল স্বাগতিকরা। ২১ মিনিটে জীবনের পাস থেকে বল ধরে সুফিল দুইজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকেও ঠিকমতো শট নিতে পারেননি। দুই মিনিট পর নাবীব নেওয়াজ জীবন বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে একা পেয়েছিলেন গোলরক্ষককে। দুরূহ অ্যাঙ্গেল থেকে জীবন শট নিলে বল আছড়ে পড়ে সাইডনেটে। ২৯ মিনিটে বিপলু আহমেদ বাম দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে দারুণ ক্রস দিয়েছিলেন সুফিলকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু ফিলিস্তিনের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে তার পক্ষে হেড নেয়া সম্ভব হয়নি। ৩৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ফিলিস্তিন। গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার দৃঢ়তায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দাবাগ যে শট নেন তা লুফে নেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধের শেষ দুই মিনিটে দুটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ৪৫ মিনিটে বাম দিক থেকে ওয়ালির ক্রস গোলমুখে পড়লে লাফিয়ে বল-মাথায় সংযোগ ঘটাতে পারেননি জীবন। পরের মিনিটে ম্যাচের সহজ সুযোগ পান সেই জীবন। এবার ডান দিকে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে কোনাকুনি শট নিলে তা কাঁপায় সাইডনেট। বাংলাদেশের আক্রমণগুলোর বেশিরভাগ ভেস্তে যায় জীবনের ব্যর্থতায়। ৫৮ মিনিটে বিশ্বনাথের ক্রসে ভালো সুযোগ আসলে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি তিনি। দুই মিনিট পরই দ্বিতীয় গোল পেতে যাচ্ছিল ফিলিস্তিন। এ যাত্রা দলকে বাঁচিয়েছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। খালেদ সালেম ছোট বক্সে ঢুকলে দুর্দান্তভাবে বল ক্লিয়ার করেন তপু। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ করেও গোল আদায় করতে পারেনি। তবে অলআউট খেলতে গিয়ে ইনজুরি সময়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। তাতেই বেজে উঠে বাংলাদেশের বিদায় ঘণ্টা।
শেষের বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে দুটি কর্ণার পেলেও প্রতিপক্ষের লম্বা খেলোয়াড়দের ডিঙিয়ে হেড করতে পারেননি সবুজরা। উল্টো সতীর্থের থ্রো ইন দাব বাঘ হেড করে নামিয়ে দেওয়ার পর নিখুঁত শটে বল জালে পৌঁছে ফিলিস্তিনের জয় নিশ্চিত করেন বদলি ফরোয়ার্ড মারাবাহ সামেহ। এ নিয়ে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য ধরে রাখল ফিলিস্তিন। আগের তিন দেখায় দলটি জিতেছিল ২টিতে। আর ২০০৬ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অন্য ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়েছিল।

x