ফিলিস্তিনকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট চায় বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল আজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
18

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যর্থতা কাটাতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা জিততে চায় বাংলাদেশ। তবে কাজটা মোটেও সহজ নয়। কারণ সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ যে শক্তি, সামর্থ, অভিজ্ঞতা আর র‌্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বেশ ভাল ভাবেই। তারপরও এই শক্তিশালী ফিলিস্তিনের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচেও জয় চান স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রধান কোচ জেমি ডে। আজ কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শীর্ষ র‌্যাংক ধারীদের মোকাবেলা করবে স্বাগতিকরা। দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
প্রথমবারের মত কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কোন আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর। আর সে আসরে বাংলাদেশ দলে রয়েছে কক্সবাজারের চার ফুটবলার। তাদের চোখেও স্বপ্ন অন্তত নিজ জেলার দর্শকদের সামনে একটি জয় তুলে নেওয়া। আর সে জয়টি তাদের নিয়ে যাবে ফাইনালে। তবে শুধু কক্সবাজারের দর্শকরা নয়, সারা দেশের ফুটবল প্রেমীদের চোখ এখন কক্সবাজারে। সবার প্রত্যাশা বাংলাদেশ দল সাফ ফুটবলের ব্যর্থতা ভুলে অন্তত বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইনালে জায়গা করে নেবে। তবে কাজটা মোটেও সহজ হবেনা জামাল ভুইয়াদের জন্য। কারণ ফিলিস্তিন বেশ শক্তিশালী দল। তারপরও স্বাগতিক বলে আশায় বুক বাঁধছে বাংলাদেশের দর্শকরা। আগের দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি ডে কে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। গতকাল আবার মাঠে ফিরেছেন কোচ। স্থানীয় বিজিবি মাঠে দলকে অনুশীলন করিয়েছেন জেমি ডে। এর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ছেলেরা মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। জয়ের জন্য আমাদের গোল দরকার। আশা করছি ফিলিস্তিনের বিপক্ষে আমরা সেটি করতে পারব। আমরা জানি ম্যাচটি আমাদের জন্য বেশ কঠিন হবে। তবে শেষ দুই ম্যাচে আমরা ভাল খেলেছি। এর আগের ম্যাচেও ছেলেরা ভাল করেছে। সুতরাং আবারো আমাদের ভাল ম্যাচ খেলতে হবে। প্রাপ্ত সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। যদিও শেষ ম্যাচে আমরা ফিলিপাইনের কাছে হেরে গেছি। কিন্তু ছেলেদের পারফর্মেন্স খুবই ভাল ছিল। আশা করছি সেই ধারা বজায় রাখতে পারব এবং সেই সঙ্গে গোল আদায় করতে হবে।
জেমি বলেন, প্রতিপক্ষ ফিলিস্তিন খুবই ভাল দল। সুতরাং এই ম্যাচে আমাদের কৌশলের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তবে বড় সমস্যা হচ্ছে তাদের দলে বেশ কজন দীর্ঘ দেহী খেলোয়াড় রয়েছে। তারা খেলছেও বেশ ভাল। সুতরাং তাদেরকে সঠিক ভাবে মার্ক করে খেলা নিশ্চিত করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমদের আগ্রাসী মেজাজেও খেলতে হবে। সেটি করতে পারলে আমার তরফ থেকে কোন অনুযোগ থাকবে না। সেট পিসে এখনো পর্যন্ত আমরা ভালই খেলেছি। আশা করি সেটি বজায় রাখতে পারব। সেমি ফাইনালে বাংলাদেশ দলের একাদশ গঠন প্রসঙ্গে স্বাগতিক কোচ বলেন, ফিলিপাইনের বিপক্ষে কয়েক জন বেশ ভাল খেলেছে। তারা ফিলিস্তিনের বিপক্ষেও একই রকম খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। যে কারণে আমার জন্য সেরা একাদশ গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য আমাকে দীর্ঘ সময় ভাবতে হচ্ছে। কারণ সবাই অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করেছে।
প্রথমবারের মত কক্সবাজার স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হচ্ছে। রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। তারপরও বাংলাদেশ দলের কোচ বলেন মাঠের অবস্থা দুই দলের জন্যই সমান। ফলে পরিস্থিতি যেমনই হোক সেখানে ফিলিস্তিনের তুলনায় আমরাই বেশী খাপ খাওয়াতে পারব। তবে পরিস্থিতি কি হবে আমি জানিনা। আমার চিন্তুা হচ্ছে মাঠে গিয়ে যতটুকু সম্ভব নিজেদের খেলাটি ভালভাবে খেলতে হবে। আমরা যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি। আগের ম্যাচে যেমনটি করেছি, তেমন মানসিকতাই প্রদর্শন করতে হবে। ছেলেদের কাছে আমি সেটিই চাই। আমাদের নিখুত পাস এবং সঠিক মাধ্যমে খেলতে হবে।
অধিনায়ক জামাল ভুইয়া এই ম্যাচে ফিলিস্তিনকে ফেভারিট মানলেও নিজেদের হোম ম্যাচে সেরাটাই খেলতে চান। কক্সবাজারের মাঠটি স্লো হবে কিনা সেটি বৃষ্টির উপর নির্ভর করবে। যদিও গতকাল বেশ ভাল বৃষ্টি হয়েছে সেখানে। তাই বলা যায় মাঠ ভারী থাকবে। তবে যেমনই হোক সেখান থেকেই সুবিধা আদায় করতে হবে। রোদ হলে আমাদের জন্য ভাল। ফিলিস্তিনিরা এমন পরিস্থিতিতে কেমন করবে সেটি নিয়ে আমি ভাবছি না। আমরা ভাবছি আমাদের নিয়ে। বিশাল দেহী প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আমাদের আগ্রাসী খেলা খেলতে হবে। নেপাল ও তাজিকদের বিপক্ষে তারা হেডে গোল করেছে। সুতরাং আমাদেরকে ছোট ছোট পাসে খেলতে হবে। সবাই জানে এমন পরিস্থিতিতে আমরাই আন্ডার ডগ। যখন আপনি আন্ডার ডগ হিসেবে খেলবেন তখন চাপ থাকবে না। আমাদের দলে প্রতিষ্টিত গোলদাতার ঘাটতি রয়েছে। ম্যাচ যদি৭০/৮০মিনিট গড়ায় এবং ফিলিস্তিনিরা ওই সময়ে গোল করতে না পারে, তাহলে আমরা আক্রমনের কৌশল পরিবর্তন করব। ফিলিপাইনের বিপক্ষে তিন চারটি সুযোগ আমরা হাতছাড়া করেছি। আমরা গোল করার ক্ষেত্রে এখনো পারদর্শী হয়ে উঠতে পারিনি। বাংলাদেশ দলের জন্য সেটিই বড় সমস্যা। ১০ থেকে ১৫ বছর ধরেই বাংলাদেশ দলে এমনটি হয়ে আসছে। তবে এখন সে সব কাটিয়ে আমাদের নতুন যাত্রা করার সময় এসেছে। যে যাত্রা আমাদের নিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইনালে।

x