ফিটনেসবিহীন যানচলাচল প্রতিরোধে বিআরটিএকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

বুধবার , ৬ জুন, ২০১৮ at ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
43

ফিটনেসবিহীন যান চলাচল প্রতিরোধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এগুলোর দায়িত্ব ছিল বিআরটিএ’র। তারা এ ব্যাপারে কেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছে? গত ১ জুন ঢাকার মাতুয়াইলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি তৈরির কারখানায় অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ প্রশ্ন করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আসন্ন ঈদ যাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে জানান। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশ ও বিআরটি এর প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি ঈদের আগে ঢাকার রাস্তাগুলোতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ বন্ধ রাখারও অনুরোধ করেন। এবারে ঈদের সময় রাস্তার কারণে কোথাও যানজট হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, রাস্তার জন্য এবার যানজট হওয়ার কোন কারণ নেই। বাংলাদেশের কোথাও রাস্তার জন্য যানজট হবে না। কিন্তু এ ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো যানজট সৃষ্টি করতে পারে। রাস্তায় এসব গাড়ি বিকল হলে তা রেকার দিয়ে সরাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ কারণে যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। ঈদের আগে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে বলে মন্ত্রী জানান। পত্রিকান্তরে গত ১ জুন এ খবর প্রকাশিত হয়।

ঈদ মৌসুমে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ বেশি থাকায় স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ যাত্রী ভালো মানের বাসে অগ্রিম টিকেট কিনতে পারেন না। সেসব যাত্রীকে টার্গেট করে বরাবরই বাড়তি ব্যবসার সুযোগ নিতে তৎপর থাকেন কিছু অসাধু পরিবহন মালিক। চলাচলের অযোগ্য ফিটনেসবিহীন পুরানো বাসগুলো নতুন সাজে টার্মিনালে এনে জড়ো করেন তারা। আর অসহায় মানুষ ঝুঁকি নিয়েই এসব বাসে যেতে বাধ্য হন। আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এবারো এই চেনা দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বাড়তি টাকার আশায় পুরানো, ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ গাড়িতে রঙের প্রলেপ লাগিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে ঈদমুখী যাত্রী বহনের জন্য। ফলে প্রতি বছরের মতো এবারো ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটের অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এ ধরনের যান চলাচল প্রতিরোধের দায়িত্ব সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের। কিন্তু কর্তৃপক্ষের শৈথিল্যের কারণে এবারো ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কগুলোয় এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। তাই স্বাভাবিক কারণেই বিআরটিএর যথাযথ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী নিজেই। এখনো ঈদ যাত্রা শুরু হতে এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় বাকি আছে। এখনই ফিটনেসবিহীন গাড়ির রাশ টেনে না ধরলে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে বাড়ি যাওয়া কঠিন হবে। কাজেই বিআরটি’র আর ন্যূনতম উদাসীনতার সুযোগ নেই। আমরা চাই, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করুক।

সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, কয়েক মাস ধরে পড়ে থাকা অচল বাসগুলো বিভিন্ন গ্যারেজে জোরেশোরে দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। বিশেষ করে লক্করঝক্কর গাড়িগুলোকে রঙতুলির আঁচড়ে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি এড়ানোর কৌশল স্বরূপ মেরামত ও রঙতুলির এ আঁচড় দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদ মৌসুমে ফিটনেসবিহীন যানবাহন নতুন করে সাজানো এবং এগুলোর চলাচল যেন নিয়মে দাঁড়িয়েছে।

আইন প্রয়োগের ঘাটতিতেই মূলত পরিবহন মালিকেরা বারবার এ ধরনের অপকর্মের সুযোগ পাচ্ছেন। ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রতিরোধ করতে হলে গ্যারেজে গ্যারেজে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। উৎসমুখে প্রতিরোধ করা গেলে কাজটি অনেকটাই সহজ হবে। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশের নজরদারিও বাড়াতে হবে। তারচেয়েও বড় কথা, ফিটনেসবিহীন যান চালানোর মতো অনৈতিক কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে এ ধরনের অপকর্ম আপনাতেই নিরুৎসাহিত হবে।

ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো শুধু দুর্ঘটনার কারণ নয়, ঈদের ব্যস্ত মহাসড়কে এইসব গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে দুঃসহ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। কেননা রাস্তায় এসব গাড়ি বিকল হয়ে অচল হয়ে পড়লে রেকার দিয়ে সরাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ কারণে যাত্রীদের তীব্র যানজটে পড়তে হয়। কাজেই সড়ক ও যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থেই ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রতিরোধ অবশ্যই করণীয় কাজ। এক্ষেত্রে কালক্ষেপণ একেবারেই কাম্য নয়।

x