ফারহানা আনন্দময়ীর কবিতা

শুক্রবার , ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
28

দয়িতার অভিশাপ

যখন চাই এক অনিবার্য ভাঙচুর-চুরমার
ভেঙে যাবে মগজের কার্ফ্যু…কবি আর কবিতার,
নখর উৎসব শেষে তখন শোকযাত্রার নীরবতা কেন?
কবিরা কি সবাই অভিযাত্রী
মূক ও বধিরতার চূড়ায় ওঠার অভিযানে?

আমি জানি, হে কবি, তোমরা নিশ্চয়ই ফিরবে স্তিমিত তর্কে।
এরপরের বার…এরপরের বর্ষায়, তোমার প্রিয় ঋতুতে
তুমি যখন খুব ঝুঁকে দেখতে চাইবে আমার নাভির অতল
এক চকিতে দেখে ফেলবো আমি
তোমার নাভির ভিতরে দগদগে জন্ম-ঘা।
তুমি যখন শুদ্ধাশুদ্ধির খেলায়
আমার নগ্ন পিঠে কবিতার শান্তিজল ছিটাতে আসবে
কবি, আমি ঠিক বুঝে নেবো তোমার অক্ষমতার হস্তসুখ।
আগামী বসন্তে তুমি যখন আবার আমাকে ডাকবে
সন্ধ্যার মেঘমালা,
দেখো নিয়ো কবি, পরদিন তোমার কবিতার খাতায়
সুখী সূর্যমুখী হাসবে না আর।
হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে কবিতাঘরের কড়ি-বর্গা-ছাদ,
মিলিয়ে নিয়ো কবি…
এই বিবস্ত্র বৈশাখে এ তোমার বান্ধবী-কন্যা-দয়িতার অভিশাপ।

প্রতিবাদবার্তা

আমি উঁচুস্তরের মুখোশজীবী,
ভীরুতার দেয়ালের ওপার থেকে উঁকি দিয়ে
প্রতিবাদ জানিয়েছি।
সন্ধি-পতাকা উড়িয়েই তবে প্রতিবাদ জানিয়েছি
বার্তার শুরুতে ‘মানবিক’ ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি
তোমাকে মানুষ নয়,
অবিশ্বাসী বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি।
তোমাকে ‘আমরা’ নই,
ঊন-জাতি চিহ্নিত ক’রে প্ল্যাকার্ড ধরেছি।
নিজেকে ‘সুরক্ষিত’ সুনিশ্চিত ক’রেই প্রতিবাদ জানিয়েছি,
তবুও তো জানিয়েছি।

তলানি থেকে একটু উপরে ভেসে উঠে
প্রতিবাদ জানিয়েছি।
‘তবে কিন্তু’র অলংকারে সাজিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি
হয়তো আমার প্রতিবাদকে অশক্তের কাতরোক্তি মনে হয়েছে,
এমনকী, অশ্লীল। তাতে কী ?
প্রতিবাদ তো জানিয়েছি।

জয়

পৌঁছুতে চেয়েছিলাম, পৌঁছুতে পারিনি,
পৌঁছুইনি; তাতে কি
বিরুদ্ধস্রোতে আমার বেয়েচলা মিথ্যে?
বিরতিহীন ভাঙচুরে পড়ে রইলো
ভাঙাচোরা স্বপ্ন, ভঙ্‌গুর আগামী
আমার প্রতিবাদের রঙ তাতে কি
একটুও ফিকে হলো? রঙ হারালো?
নিগ্রহের কেবল রাত্রি থাকে, দিন নয়,
তবু কি কুপি নেভাবো না, সূর্য ওঠাবো না!
কে ছিল?
কে-ই বা থাকে পরাজিতের মিছিলে!
নিরন্নকে সঙ্গী ক’রে আমি একাই চলি
মুঠোবাঁধা একটিমাত্র হাতও যদি
আকাশমুখি হয়
আমি তাকেই বলি, জয়।

পুরুষনামা

কন্যা তুমি চিনে নিয়ো পিতার আদর
তুমি চিনে নিয়ো পুরুষের আদর,
কন্যা তুমি এও জেনো, পিতার শরীরেও পুরুষ।

কন্যা তুমি চিনে নিয়ো ভাইয়ের স্নেহ
তুমি চিনে নিয়ো পুরুষের স্নেহ,
সঙ্গে এটুকু মনে রেখো, ভাই কোথাও গিয়ে পুরুষ।

কন্যা তুমি চিনে নিয়ো অর্ধাঙ্গীর উষ্ণতা
তুমি চিনে নিয়ো পুরুষের সোহাগী অত্যাচার,
তুমি তো জানোই, সে-ও দাবীতে প্রথমে পুরুষ।

কন্যা তুমি চিনে নিয়ো প্রেমিকের স্পর্শ
চিনতে শেখো তুমি পুরুষের স্পর্শ,
এটুকুও জেনে রেখো, প্রেমিক কখন হয় প্রেমিকপুরুষ।

কন্যা তুমি চিনে নিয়ো মানুষের মুখ,
এও তোমার জানা হোক
কোনো কোনো পুরুষ এখনও নিশ্চিত মানুষ।

x