ফাঁসির জন্য আপিলের ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর

এ রায় বেআইনি : তারেকের আইনজীবী

ঢাকা ব্যুরো

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
60

প্রায় দেড় দশক আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনার বিচারে আদালত যে রায় ঘোষণা করেছে সেটাকে ‘অন্যায় ও বেআইনি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন দণ্ডিত তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের আইনজীবী। গতকাল আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তারেক রহমানের যাবজ্জীবন ও অন্যান্যদের ফাঁসির যে রায় দেওয়া হয়েছে তা অন্যায় ও বেআইনি।’ তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের জন্য আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ‘হামলার হোতা তারেকের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল’ বলেও মন্তব্য করেন। মামলার বিচার শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রায়ের কাগজপত্র পাওয়ার পরে আমরা চিন্তা-ভাবনা করব যে এই রায়ে তারেক রহমানকে এবং আরও দুজন- কায়কোবাদ এবং হারিছ চৌধুরীকে যে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে সেটার জন্য আমরা উচ্চতর আদালতে গিয়ে তাদের ফাঁসির জন্য আমরা…এনহান্সমেন্ট বলে সেটা আইনে…এনহান্সমেন্টের জন্য আমরা আপিল করব কি না। এই হামলার মূল নায়ক তারেক রহমান। তিনি আওয়ামী লীগকে ও শেখ হাসিনাকে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের নায়ক ছিলেন। মূল হোতা তারেকের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল।’
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায়ে তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি মন্তব্য করে বিএনপির আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘হাওয়া ভবন বা আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে কোনো স্বাক্ষী আইসা এ মামলায় সাক্ষ্য দেয় নাই। তারা এখানে বসে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছে- এটা কোনো সাক্ষী বলে নাই।’ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে’ তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের জড়িত করে দেওয়া বক্তব্য মুফতি হান্নান পরে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে দাবি করেন বিএনপির এই আইনজীবী।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘মুফতি হান্নানকে ৪০০ দিন রিমান্ডে রেখে যে জবানবন্দি নিয়েছে, সেই জবানবন্দি প্রত্যাহার করে সে বলেছে, তারেক রহমানের সাথে, বিএনপি নেতাদের সাথে তার কোনো দিন দেখাই হয় নাই।’ এই মামলার কোনো সাক্ষী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও গোপন বৈঠকের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য দেননি বলেও দাবি করেন তিনি। বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে আসলে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে তখন জজ মিয়া নাটকের ব্যাপারটি উদঘাটিত হলে আবার তদন্ত করা হয়। সুষ্ঠু তদন্তের পর যারা যারা এ মামলায় ষড়যন্ত্রে হত্যার কাজে এবং আলামত গুম করার জন্য দায়ী তাদেরকে বিচারে সোপর্দ করা হয়।’ পলাতক ১৮ আসামিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।

x