ফটিকছড়িতে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

শ্বশুর গুরুতর জখম, গ্রেপ্তার ৩

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
282

ফটিকছড়িতে মা-মণি দেবী (২৫) নামে এক গূহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তার শ্বশুর মিলন কান্তি দে (৬০)। গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে ভূজপুর থানার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের মহানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার পরপর স্থানীয় সানি দাশ (১৮), তৈয়ন দেব (১৯) ও জয় দেব (১৮) নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয়রা জানান, নিহত মা-মণি দেবীর স্বামী রূপম কান্তি দেব প্রবাসী। তাঁর দেড় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাঁর বাপের বাড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউপির বারমাসিয়া গ্রামে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাহ করা হয়েছে। এছাড়া আহত শ্বশুর মিলন কান্তি দেব বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেকে) চিকিৎসাধীন। চুরিকাঘাতে তার নাড়িভূঁড়ি বের হয়ে গেছে।
নিহতের ভাই ইদ্রিজিৎ জানান, রাত একটার পর দেয়াল টপকে আমার বোনের বসতঘরে ৩-৪ জনের একদল সন্ত্রাসী ঢোকে তার গলায় ছুরি ধরে। এ সময় সে (মা-মণি) তাদের বাধা দেয় এবং চিৎকার দেয়। চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে তার শ্বশুর-শাশুড়ি এগিয়ে আসেন। এতে সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরিকাঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় তাঁর শাশুর মিলন কান্তি এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা করা হয়। এতে তাঁর পেটের নাড়িভূঁড়ি বের হয়ে যায়। পরে মা-মণির দেড় বছরের ছেলেকে নিয়ে পাশের ঘরে দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন তার শাশুড়ি রমনী দেবী। এসময় সন্ত্রাসীরা দু’টি মুঠোফোন ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনার টের পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে মা-মাণিকে মৃত অবস্থায় পান এবং তার শ্বশুরকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নিহতের শাশুড়ি রমনী দেবী বলেন, ডাকাতদের গতিবিধি দেখে আমি নাতিকে নিয়ে প্রথমে পাশের ঘরে, পরে বাইরের ঘরে চলে যাই। এ সময় প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করলে তারা এগিয়ে আসে। ততক্ষণে তারা আমার পুত্রবধূকে খুন এবং স্বামীকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। তবে আমি দুজনকে চিনে ফেলি। এখন তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া তিনজনই ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সম্প্রতি তাদের সাথে স্থানীয় অপর একটি পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সাক্ষী মা-মণির শ্বশুর মিলন কান্তি দে। গত রোববার ওই ঘটনার সালিশি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ইতোপূর্বে আসামিরা সাক্ষী না দিতে মিলন কান্তিকে মৌখিকভাবে নিষেধও করে।
এদিকে, খবর পেয়ে গত রোববার সকালে ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউদ্দৌলাহ রেজা। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা পরিবারের দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। আর কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শেখ আবদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের স্বীকারোক্তি মতে, স্থানীয় তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

x