প্রিয়া সাহাকে ঐক্য পরিষদ থেকে বহিষ্কার

তার বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক ও নীতি গর্হিত : বারকাত

মঙ্গলবার , ২৩ জুলাই, ২০১৯ at ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
866

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ জানানোর পর সমালোচনায় থাকা প্রিয়া সাহাকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সংগঠনের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘সংগঠনের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাকে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রিয়া সাহা যার গবেষণা থেকে তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন, সেই অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতই তার বিরুদ্ধে ‘তথ্য বিকৃতির’ অভিযোগ করেছেন। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘একজন সমাজ গবেষক হিসেবে আমি নিশ্চিত হতে চাই যে প্রিয়া সাহা আমার নাম উল্লেখপূর্বক যেসব বিভ্রান্তিমূলক ও নীতি গর্হিত বক্তব্য দিয়েছেন তিনি অতি দ্রুত তা প্রত্যাহার করবেন।’ খবর বিডিনিউজের।
ওয়াশিংটনে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ নিয়ে এক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া প্রিয়া সাহা গত ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহায্য চেয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। তার ওই কথা প্রচার হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে। প্রিয়া সাহাকে নিয়ে ঐক্য পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং সার্বিক বিষয়ে বুধবার (আগামীকাল) সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি, আমাদের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বিভিন্নভাবে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। আসলে এর মধ্য দিয়ে সাংগঠনিকভাবে না হলেও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের অবস্থান ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছি। বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে আনু্‌ষ্ঠানিকভাবে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব।’ রানা দাশগুপ্ত এর আগে জানিয়েছিলেন, ওই সম্মেলনে তাদের প্রতিনিধি হয়ে প্রিয়া সাহা যাননি। তিনি যা বলেছেন, তাও সাংগঠনিক বক্তব্য নয়।
সমালোচনার মুখে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রিয়া সাহা বলেছেন, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার যাতে ‘একসঙ্গে কাজ করতে পারে’- সেজন্যই তিনি হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগিতা চেয়েছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।
গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, ‘একজন সমাজ গবেষক হিসেবে আমি নিশ্চিত হতে চাই যে প্রিয়া সাহা আমার নাম উল্লেখপূর্বক যেসব বিভ্রান্তিমূলক ও নীতি গর্হিত বক্তব্য দিয়েছেন তিনি অতি দ্রুত তা প্রত্যাহার করবেন।’
একজন সাংবাদিককে প্রিয়ার সাক্ষাৎকার দেওয়ার একটি ভিডিও গত রোববার তার এনজিও শারির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়; সেখানে তিনি নিজের বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দেন। প্রিয়া সাহা বলেন, ‘সরকারের আদমশুমারি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দেশভাগের সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২৯.৭ শতাংশ ছিল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের নাগরিক। ওই হার এখন নেমে এসেছে ৯.৭ শতাংশে। এখন দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ মিলিয়ন। সংখ্যালঘু জনসংখ্যা যদি একই হারে বৃদ্ধি পেত, তাহলে অবশ্যই যে জনসংখ্যা আছে, এবং যে জনসংখ্যার কথা আমি বলেছি ক্রমাগত হারিয়ে গেছে, সেই তথ্যটা মিলে যায়।’
প্রিয়া সাহা বলেন, সরকারের ওই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করেই অধ্যাপক আবুল বারকাত ২০১১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল, প্রতিদিন ৬৩২ জন হিন্দু দেশ ছাড়ছেন। ২০১১ সালে ওই গবেষণার সময় আবুল বারকাতের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন বলেও বলে দাবি করেন এই এনজিওকর্মী।
কিন্তু বারকাত বলছেন, প্রিয়া সাহা কখনও তার সহ-গবেষক, গবেষণা সহযোগী অথবা গবেষণা সহকারী ছিলেন না। আর তার বক্তব্যের সঙ্গে গবেষণায় পাওয়া তথ্য-উপাত্তেরও কোনো মিল নেই। বারকাত বলেছেন, ওই গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি ২০১১ সালের সরকারি আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে ১৯০১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মোট জনসংখ্যায় বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠির আনুপাতিক হারই কেবল উল্লেখ করেছেন।

x