প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার আরো কাছে বন্দর ক্রীড়া সমিতি নিয়ম রক্ষার আরেক ম্যাচে জয় পেয়েছে ফ্রেন্ডস ক্লাব

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ
32

শিরোপার আরো কাছে চলে এসেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি একাদশ। চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের শিরোপা জিততে হলে আর একটি ম্যাচ জিততে হবে তাদেরকে। আর সে ম্যাচটি এবারের প্রিমিয়ার লিগ থেকে প্রথম বিভাগে নেমে যাওয়া শতদল ক্লাবের বিপক্ষে। অপরদিকে শিরোপার আরেক দাবিদার পাইরটেস অব চিটাগাংকে যদি শিরোপা জিততে হয় তাহলে তাদেরকে বাকি ম্যাচগুলো জিততে হবে। আর বন্দর দলকে হারতে হবে পরের ম্যাচে। দুই দলই যদি আর কোন ম্যাচ না হারে তাহলে হেড টু হেডে পাইরেটসকে হারানোর সুবাধে শিরোপা যাবে বন্দর ক্রীড়া সমিতির ঘরে। গতকাল জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই অফিস দলের লড়াইয়ে সিটি কর্পোরেশন একাদশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি একাদশ। অপরদিকে লিগের গুরুত্বহীন আরেক ম্যাচে ফ্রেন্ডস ক্লাব ৬ উইকেটে হারিয়েছে রাইজিং স্টার ক্লাবকে।
এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে রাইজিং স্টার ক্লাব। শুরুতে উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে বক্কর এবং রাব্বি মিলে যোগ করেন ৫০ রান। ১৯ রান করে ফিরেন রাব্বি। এরপর নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে ফিরেন বক্কর। দরকে ৯৮ রানে রেখে ফিরেন বক্কর ৫১ রান করে। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান মুনতাসির এবং মারুফ। এ দুজন ১০৬ রানের জুটি গড়লেও রানের গতি ছিল বেশ ধীর। ফলে ২১৫ রানের বেশি করতে পারেনি রাইজিং স্টার ক্লাব। মুনতাসির ৯৯ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৮২ রান করে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া মারুফ ৪৫ বলে ১টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪৪ রান করেন। ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষে ৩টি উইকেট নেন মেহরাব হোসেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় ফ্রেন্ডস ক্লাব। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে আলিফ এবং লিখন মিলে যোগ করেন ৯১ রান। আর তাতেই জয়ের ভিত রচিত হয় ফ্রেন্ডস ক্লাবের। ৪৭ রান করে ফিরেন লিখন। তবে আলিফকে ফেরাতে পারেনি রাইজিং স্টার ক্লাবের বোলাররা। তৃতীয় উইকেটে তানভীল সাদাতকে নিয়ে আরো ৭৭ রান যোগ করেন আলিফ। ৪৯ বলে ৩টি চার এবং ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৪৯ রান করে ফিরেন তানভীর। শেষ পর্যন্ত ৬ ওভার হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে ফ্রেন্ডস ক্লাব। ১০৬ বলে ৭০ রান করে অপরাজিত থাকেন আলিফ। ১৮ রান করেন শরীফুল। রাইজিং স্টার ক্লাবের পক্ষে ২টি উইকেট নিয়েছেন হেদায়াত উল্লাহ।
জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্টিত ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে সিটি কর্পোরেশন একাদশ। কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তটা যে ভুল ছিল সেটা প্রমাণ হতে বেশি সশয় লাগেনি। ২১ রানে প্রথম উইকেট হারানো সিটি কর্পোরেশন একাদশ ৭০ রানে হারায় ৫ উইকেট। এরপর দলের হাল ধরেন মেহেদী হাসান। মূলত তার ৭৫ রানের উপর ভর করে ১৮১ রানে অল আউট হয় সিটি কর্পোরেশন একাদশ। মেহেদী তার ১০০ বলের ইনিংসটাতে ৯টি চার এবং একটি ছক্কার মার মারেন। এছাড়া নাজিম ১৮, তাইবুর ১০, রায়হান ১৬, মামুন ১২ এবং রনি করেন ১০ রান। বন্দর কর্র্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতির পক্ষে ২১ রানে ৪টি উইকেট নেন ইফতেখার সাজ্জাদ। ২টি উইকেট নিয়েছেন তন্ময়।
জবাবে ব্যাট করতে নামা বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতিকে দারুন সূচনা এনে দেন বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়া ইফতেখার সাজ্জাদ। বন্দর দলটির হয়ে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ ব্যাট করেছেন সাজ্জাদ। গতকাল সাদিকুরকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১০৩ রান যোগ করে দলের জয়ের ভিত রচনা করে দেন ইফতেখার সাজ্জাদ। ৫৩ বলে ৮টি চার এবং একটি ছক্কার সাহায্যে ৫৮ রান করে ফিরেন সাদিকুর। এরপরও দলকে টেনে নিয়ে যান সাজ্জাদ। দলকে ১৫৮ রানে পৌছে দিয়ে ফিরেন এই ওপেনার। ফিরে আসার আগে খেলেন ৮৩ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। তার ইনিংসটিতে ছিল ১০টি চারের মার। এরপর অবশ্য বন্দর ক্রীড়া সমিতিকে জয় পেতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। ৩৮.৩ ওভারে জয় নিশ্চিত করে বন্দর ক্রীড়া সমিতি। দলের পক্ষে ইশতিয়াক ১৩ এবং রুবলে করেন ১৬ রান। সিটি কর্পোরেশন একাদশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তাইবুর এবং রনি। এখন লিগের নিজেদের শেষ ম্যাচে শতদল ক্লাবকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করার অপেক্ষায় বন্দর কর্র্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি।

x