প্রিমিয়ার ক্রিকেটে শাহজাহান সংঘ এবং এফএমসসির জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
37

প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের রেলিগেশন থেকে নিজেদের অনেকটাই মুক্ত করতে পেরেছে শহীদ শাহজাহান সংঘ। একে একে দুই বড় দল এফএসি স্পোর্টস এবং বন্দর ক্রীড়া সমিতি একাদশকে পরাজিত করার পর এবার শহীদ শাহজাহান সংঘের শিকার চ্যাম্পিয়ন সিটি কর্পোরেশন একাদশ। গতকাল ঘটনা বহুল এক ম্যাচে সিটি কর্পোরেশন একাদশকে ২ রানে হারিয়েছে শহীদ শাহজাহান সংঘ। দিনের আরেক ম্যাচে এফএমসি স্পোর্টসের সামনে উড়ে গেছে ইস্পাহানী এসসি। জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক তরফা ম্যাচে এফএমসি স্পোর্টস ২১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে এফএমসি স্পোর্টস।
এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে শহীদ শাহজাহান সংঘ। কিন্তু শুরুটা ভাল হয়নি তাদের। ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৫৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে শাহজাহান সংঘ। এরপর দলের হাল ধরেন আফছারুল করিম। তার ৯০ বলে ৭০ রানের লড়াকু ইনিংসের উপর ভর করে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২০২ রানের সাদামাটা স্কোর সংগ্রহ করে শহীদ শাহাজাহন সংঘ। দলের পক্ষে আফছারুল তার ৭০ রানের ইনিংসটি খেলার পথে ৮টি চার এবং একটি ছক্কা মারেন। এছাড়া দলের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে রাসেল ২২, তৌহিদ ১৭, মুন্না ২৮, শহীদুল ১৭ এবং সাগর করেন ১৬ রান। সিটি কর্পোরেশন একাদশের হারুন ৪৭ রানে নেন ৩টি উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মনিরুজ্জামান এবং মেহেদী হাসান। একটি করে উইকেট নিয়েছেন শহীদুল এবং রনি। ২০৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় সিটি কর্পোরেশন একাদশ। তবে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান মঈনুল, রবিউল এবং নাজিম উদ্দিনের দারুণ ব্যাটিং এর সুবাধে এক সময় মনে হচ্ছিল সহজেই জিতে যাবে সিটি কর্পোরশন । কিন্তু এই তিনজন আউট হওয়ার পর দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। ১৮৯ রানে ৫ম উইকেট হারানো সিটি কর্পোরেশন একাদশ পরের ৫টি উইকেট হারায় মাত্র ১১ রানে। ফলে তীরে এসে তরী ডুবে চ্যাম্পিয়নদের। ২ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শহীদ শাহজাহান সংঘ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন নাজিম উদ্দিন। এছাড়া মঈনুল ৩১, রবিউল ৪৯, মেহেদী ২৭ এবং হারুণ করেন ১০ রান। বাকিদের কেউই দুই অংকের ঘরে যেতে পারেনি। শহীদ শাহজাহান সংঘের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন শহীদুল ইসলাম এবং মাহতাব। ২টি উইকেট নিয়েছেন জুলহাজ সাগর। দিনের অপর ম্যাচে জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে এফএমসি স্পোর্টস। ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ইনিংসের সুচনা করতে নামা ইয়াছিন আরাফাত দলকে এগিয়ে নেন দুর্দান্ত গতিতে। অপর প্রান্তে আফিফ হোসেন এবং শেষ দিকে রতন দাশ ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন। মুলত আরাফাত এবং রতনের ব্যাটিং ঝড়ে রানের নিচে চাপা পড়ে ইস্পাহানী এসসি। স্কোর বোর্ডে ৩২২ রানের বিশাল পাহাড় জমা করে এফএমসি। ইয়াছিন আরাফাত ৭৮ বলে ১২টি চার এবং একটি ছক্কার সাহায্যে ৮৫ রান করেন। শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা রতন দাশ ৩৫ করেন করেন ৬৬ রান। যেখানে একটি চারের পাশাপাশি ছক্কার মার ছিল ৮টি। এছাড়া আফিফ হোসেন ৫২ বলে ৪৮, তাসামুল ৩৪ বলে ৩৭, ইমরুল করিম ৪০ বলে ৩৭ এবং খাইরুল ইসলাম ৩৭ বলে করেন ২৬ রান। ইস্পাহানীর পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছের ফাহাদ এবং রিয়াদ। ২টি উইকেট নিয়েছেন আদিল। ৩২৩ রানের পাহাড় ডিঙ্গাতে গিয়ে শুরু থেকেই এফএমসির দুই পেসার ইফরান এবং তারেক আজিজের তোপের মুখে পড়তে হয়। এদুজনের আগুনের গোলার সামনে পড়ে কোমর সোজা করে দাড়াতে পারেনি ইস্পাহানীর ব্যাটসম্যানরা। ১০ রানে প্রথম উইকেট হারানো দিয়ে শুরু ইস্পাহানীর। এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখেছিলেন পিনাক ঘোষ। কিন্তু অপর প্রান্তে ছিল কেবলই আসা যাওয়া। ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শাখাওাত হোসেন যা একটু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে কেবলই হারের ব্যাবধান কমিয়েছে মাত্র। পিনাক এবং শাখাওয়াত ছাড়া ইস্পাহানীর আর কোন ব্যাটসম্যান দুই অংকের ঘরে যেতে পারেনি। ফলে ২৫.৫ ওভারে ১০৭ রানে অল আউট হয় ইস্পাহানী এসসি। দলের পক্ষে পিনাক করেন ৬০ বলে ৪৯ রান। আর শাখাওয়াত করেন ৩২ বলে ৩৩ রান। বাকি নয়জন ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন ১৯ রান। এফএমসি স্পোর্টসের পক্ষে তারেক আজিজ নিয়েছেন ৫ উইকেট। ৮.৫ ওভার বল করে মাত্র ১৮ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। আরেক পেসার ইফরান হোসেন নিয়েছে ৪ উইকেট। ৮ ওভারে ৩৪ রান খরচ করেছেন ইফরান হোসেন।

x