প্রায় সব ট্রেনের বিলম্ব যাত্রা

যাত্রীর ভারে ভেঙেছে ট্রেনের স্প্রিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা

শুকলাল দাশ

মঙ্গলবার , ২১ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
89

ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোত ট্রেন ও বাস স্টেশনে। চরম বিড়ম্বনা আর দুর্ভোগ মাড়িয়ে সকাল থেকে ট্রেন ও বাসে করে চট্টগ্রাম ছাড়তে হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার লোকদের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রেল স্টেশন ও দূরপাল্লার বাস কাউন্টার ও টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের বগি নষ্ট, ছাদেইঞ্জিনে অতিরিক্ত যাত্রী এবং অতিরিক্ত বগির কারণে দীর্ঘ বিলম্বে ছাড়তে হয়েছে অনেক ট্রেন। পদে পদে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের।

এদিকে গতকাল বিকেলে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ৫টা ১৫ মিনিটের ট্রেন সাড়ে চার ঘণ্টা বিলম্বে রাত সাড়ে ৯ টার পর স্টেশন ছেড়েছে। এসময় শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে। দীর্ঘ সাড়ে চারঘন্টা পুরো ট্রেনের যাত্রীদের স্টেশনে বসে থাকতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ছাদে অতিরিক্ত যাত্রীর ভারে বগিটির স্প্রিং ভেঙ্গে যাওয়ায় এ ভোগান্তি। বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের চাঁদপুর স্পেশালও আধ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়া হয়েছে। ইঞ্জিন ও ছাদ থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নামাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে রেলের নিরাপত্তা বাহিনী ও কর্মকর্তাদের। বিকাল ৫টায় সোনার বাংলাও যথাসময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। ২৫ মিনিট দেরি হয়েছে। প্রতিদিন সোনার বাংলা ১৪টি বগি নিয়ে যাতায়াত করলেও গতকাল ৭টি অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান স্টেশন মাস্টার মো. নাজিম উদ্দিন। মোট ২১টি বগি নিয়ে সোনার বাংলা যাত্রা করেছে। এই কারণে দেরি হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার থেকে নগরী আরো ফাঁকা হয়ে যাবে। চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া অন্যান্য জেলার সকলেই ছুটে যাবেন প্রিয়জনের সাথে ঈদ করার জন্য বাড়ির পথে। ঈদ উপলক্ষে লোকজন সপরিবারে বাড়িফেরা শুরু করায় চাপ কমছে ব্যস্ত নগরীর। গত শুক্রবার থেকে ঈদে বাড়ি ফেরা শুরু হলেও গতকাল সোমবার চাকরিজীবীদের অনেকেই আগে ভাগে অফিস শেষ করে ছুটেছেন বাড়ির পথে। গতকালের মতো আজও ভিড় বাড়তে পারে বাস ও রেল স্টেশনে।

গতকাল সোমবার নগরীর কদমতলী রেল স্টেশন ও বাস স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় সামাল দিতে বেগ পেতে হয় স্টেশনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে সকাল থেকেই হিমশিম খেতে হয়েছে। চাঁদপুরগামী মেঘনা এঙপ্রেস বিকাল ৫টা ১৫ নিমিটে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে দেখা যায় একটি বগি চলে না। বগিটি মাঝখানে হওয়াতে পরিবর্তন করতেও সময় লেগেছে। পরবর্তীতে পাহাড়তলী থেকে আর একটি বগি এসে যুক্ত করার পর ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যায়।

ঈদ উপলক্ষে গত শুক্রবার থেকে ঘরমুখো মানুষ নগর ছাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত যারা বাড়ি যেতে পারেননি তারা গতকাল অফিস শেষ করে আগে ভাগেই বাড়ির পথে ছুটেছেন। গতকালও যারা যেতে পারেননি তারা আজ শেষবারের মতো পরিবারপরিজন নিয়ে ছুটবেন বাড়ির পথে। তাই গতকাল থেকে অনেকটা ফাঁকা হয়ে উঠছে নগরী।

এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার মাহবুবুর রহমান আজাদীকে জানান, সকাল থেকে সব গুলো ট্রেন স্টেশন থেকে ছেড়ে গেলেও বিকালে চাঁদপুরগামী মেঘনা এঙপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ার আগে ধরা পড়ে যে, এখানে একটি বগি চলাচল অনুপযোগী। এই বগিটি পরিবর্তন করে আর একটি বগি যুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ হয়েছে জানিয়ে স্টেশন মাস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, সকাল থেকে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া সব ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল ।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে বাস ও ট্রেনের সুযোগ পর্যাপ্ত নয়। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা এলে দেখা দেয় চরম বিড়ম্বনা। যাত্রাপথে শত ভোগান্তির কথা জেনেও প্রিয়জনের সান্নিধ্যের প্রত্যাশায় তা আমলে নিচ্ছেন না ঘরমুখো মানুষগুলো। গতকাল নগরীর কদমতলী বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে ঘরমুখো বিপুলসংখ্যক মানুষের ঢল। সবাই গন্তব্যের উদ্দেশে ছুটে চলেছেন। তাদের চলে যাওয়ায় ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছতে না পৌঁছতেই উঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয় যাত্রীদের। বাড়িফেরা বলে কথা, তাই কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারির পরও ট্রেনের ছাদে উঠছে মানুষ।

x