প্রার্থী অনেক, কোন্দলও বেশি নতুন চমক ইমরান

শুকলাল দাশ ও লিটন কুমার চৌধুরী

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
701

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৪ আসনে (সীতাকুণ্ড, পাহাড়তলী-আকবরশাহ আংশিক) আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের সরব পদচারণায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী বেশি হওয়ায় নেতাকর্মীদের কদর যেমন বেড়েছে তেমনি অন্যান্য নির্বাচনী এলাকার চেয়ে সীতাকুন্ড এলাকায় নির্বাচনী হওয়া আগে ভাগেই বইতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক কৌশলে এ আসনে বিএনপি কিছুটা নীরবে কাজ করলেও আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরবে মাঠে রয়েছেন। জাতীয় সংসদের ২৮১ নং চট্টগ্রাম-৪ আসনটি সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে দিদারুল আলম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৫টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাসদ থেকে আ.ফ.ম মফিজুর রহমান ভোট পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৪২টি ভোট। সীতাকুণ্ড আসনে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে এবার আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। বর্তমান এমপি দিদারুল আলমসহ ১০জন মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টি ও ইসলামিক ফ্রন্ট থেকে আছেন আরো দুই প্রার্থী। একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে রয়েছেন আ.লীগের নীতিনির্ধারকরা। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে জনগণের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে হাট-বাজার ও দোকান পাট, মাঠে-ঘাটে সবখানে আলোচনায় রয়েছে আ.লীগের মনোনয়ন কে পাচ্ছেন? এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভক্ত। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আ.লীগের টিকিট পেতে ইতিমধ্যে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- সাংসদ আলহাজ্ব দিদারুল আলম, শিল্পপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইমরান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম আল মামুন, উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল মোস্তফা কামাল চৌধুরী, আলহাজ্ব লায়ন হায়দার আলী চৌধুরী, চট্টগ্রাম তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ উদ্দিন সান্টু, আবুল কালাম চৌধুরী- তিনি আলেকজান্ডার চৌধুরী নামে বেশি পরিচিত, ঢাকাস্থ সীতাকুণ্ড সমিতির সাধারন সম্পাদক মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ও নগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম। অন্যদিকে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবির, ইসলামিক ফ্রন্ট সীতাকুণ্ড শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসাইন প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সবাই তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। প্রতিদিনই নানা অনুষ্ঠানে দেখা যায় সাংসদ দিদারুল আলম, শিল্পপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইমরান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম আল মামুনকে। সীতাকুন্ড আসনের প্রার্থীদের বিষয়ে এলাকার নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিটি গেট থেকে লোকাল গাড়ি নিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে চালক বেলালের সাথে কথা হয়। এসময় তিনি জানান- শিক্ষা দীক্ষায় এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের দিক দিয়ে একেবারে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নতুন চমক হতে পারে শিল্পপতি মোহাম্মদ ইমরান। তার মতে- শিল্পপতি মোহাম্মদ ইমরান খুবই সজ্জন ব্যক্তি। তাকে নিয়ে এলাকায় কোন বিতর্ক নেই। একইকথা জানালেন- সীতাকুন্ডের স্থানীয় সাংবাদিক সাইফুল আলম, টিপু দাশ, ব্যবসায়ী আবুল কালাম, ছাত্রনেতা রুবেলসহ অনেকেই। তাদের মতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে সৎ-পরিচ্ছন্ন সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থী খুঁজছেন। সবকিছু বিবেচনা করলে শিল্পপতি মোহাম্মদ ইমরান একজন মেধাবী সৃজনশীল উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে পড়ালেখা শেষ করে পারিবারিক শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ ও শিপিং ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেন। তার প্রতিষ্ঠানে এলাকার অনেক শিক্ষিত ও বেকার তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থান হয়েছে।
এদিকে গত ৫ বছরে এমপি দিদারুল আলম সীতাকুন্ডে কাজ করেছেন অনেক। এতো উন্নয়নের পরও তার বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশের বিরোধ লেগে আছে। আগামী নির্বাচনে আবারো মনোনয়ন লাভের আশায় দিনরাত এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে যাচ্ছেন তিনি। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে দিদারুল আলম বলেন, ২০১৩ সালের নভেম্বরে যখন সীতাকুণ্ডে অরাজকতা বিরাজ করছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনোয়ন দিয়েছিলেন। এরপর থেকে আমি দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। চেষ্টা করছি মানুষের সেবা করার।
তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, তবে ব্যবসায়ী। ২০১৩ সালের আগে রাজনীতি না করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমাদের পরিবারের যোগাযোগ ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনক্রমে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা ফাউন্ডেশন কাট্টলীতে প্রতিষ্ঠা করি। এ সংগঠনের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু বিদ্যাপীঠ ও বঙ্গবন্ধু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি। আর সেই সুবাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনোয়ন দিয়েছিলেন। মনোনোয়ন পাওয়ার পর আমি সীতাকুণ্ডবাসীকে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা পূরণ করেছি। সীতাকুণ্ডে একটি কলেজকে সরকারি করেছি। তাহের-মঞ্জুর নামে নতুন একটা কলেজের কাজ শুরু করেছি। শিবপুরে টেকনিক্যাল কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। দিদারুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন তবে মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়ন পেলে নির্বাচিত হয়ে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবো। যদি আমাকে না দিয়ে অন্যজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলে আমি দল ও নেত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে দলীয় প্রতীক নৌকাকে বিজয়ী করতে সহযোগিতা করব।
আওয়ামীলীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইমরান। ইতিমধ্যে তিনি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে সীতাকুন্ডের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনছেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে ব্যাপক অংশগ্রহণ করছেন। নানা সহযোগিতাও করছেন। মোহাম্মদ ইমরান বলেন, সীতাকুণ্ডের সম্ভাবনা অনেক। উন্নয়নে দেশ এগিয়ে গেলেও সীতাকুণ্ডের সার্বিক উন্নয়ন হয়নি। তাই এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে আমি একটি সমৃদ্ধ সীতাকুণ্ড গড়তে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে যে সামর্থ, যোগ্যতা, সাহস ও ত্যাগের শক্তি দিয়েছেন তা আমি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে সীতাকুণ্ডবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের সকলকে আপনারা চিনেন। আমার বড়ভাই আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইকবালকে সীতাকুণ্ডের শীপ ব্রেকিং শিল্পের জনক বলা হয়। আমার অপর ভাই মোহাম্মদ ইমতিয়াজ ইকরাম সীতাকুণ্ডের জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। আমিও ব্যবসা করছি গত ত্রিশ বছরেরও বেশি। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কোনদিন কোনো ধরনের দুনীর্তির অভিযোগ কেউ করতে পারেনি। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা যদি নৌকার মাঝি হওয়ার সুযোগ দেন তাহলে এ আসন আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেব।
শিল্পপতি মোহাম্মদ ইমরান আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেয়ার পরপরই এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। দিনদিন তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। প্রতিদিন যেই এলাকায় যাচ্ছেন সেই এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। তার ইমেজের কারণে এলাকার মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
মুক্তিযোদ্ধা ও নগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বদিউল আলমও সীতাকুন্ড আসন থেকে মনোনয়ন চান। নিজেকে প্রার্থী হিসেবে দাবি করে নগরীর ১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বদিউল আলম বলেন- আমি ৫৫ বছর নিজেকে রাজনীতিতে নিয়োজিত রেখেছি। ছাত্রজীবন থেকে এখনো পর্যন্ত আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে আছি। চট্টগ্রামের গণমানুষের নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতিটি সংগ্রামে ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবে কাজ করেছি। এখনো দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করছি। দলের জন্য দীর্ঘত্যাগের পর এখন নিজ এলাকা সীতাকুন্ডের জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। এজন্য আমি দলের সভাপতি ও প্র্রধানমন্ত্রীর কাছে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবো।
সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ১৯৯২সালের ১১ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড উপজেলা আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। সেই থেকে অদ্যাবধি আমি দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এলকে সিদ্দিকীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাশেম মাস্টারের বিজয় নিশ্চিত করতে আমি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলাম। এরপর ২০০৯ সালে সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এরপর পাঁচ বছর সীতাকুণ্ডের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছি। তিনি বলেন, গত ২৫বছর ধরে দলের নানা দুঃসময়েও আমি শক্ত হাতে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছি। সকল প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে সংগঠনকে মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছি। আমার এলাকার আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা চান আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি যেন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন চাই। আমাদের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেন, তাহলে আমার উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীর মিশন-ভিশন বাস্তবায়ন ও সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে এবং উন্নয়নে বিরামহীন কাজ করতে পারব।
আ.লীগ থেকে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এসএম আল মামুন। এআসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ এবিএম আবুল কাশেম তার বাবা। এবিএম আবুল কাশেম ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। আর ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে জয়ী হন এসএম আল মামুন। মাঠপর্যায়ে দিদারুল আলমের সঙ্গে আল মামুনের অনুসারীদের চরম দ্বন্দ্ব রয়েছে। এসএম আল মামুন বলেন, আমরা সীতাকুণ্ডের সবচেয়ে বেশি নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক পরিবার। আমার বাবা এরশাদের আমল থেকে শুরু করে পাঁচবার সংসদ নির্বাচনে লড়েছেন। আমি একবার উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ফলে সীতাকুণ্ডের নাড়িনক্ষত্র আমাদের নখেদর্পণে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইব। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি বলেন, মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, আমি এলাকার জন্য দিনরাত কাজ করছি। আমার বাবা আবুল কাশেম মাষ্টার একজন জনপ্রিয় সাংসদ ছিলেন। আমার বাবার অসমাপ্ত কাজ আমি এখনো করছি। আমি এলাকার আনাচে-কানাচে উন্নয়ন করেছি।
মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনোয়ন দেন তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচিত হতে পারবো। সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল মোস্তফা কামাল চৌধুরীও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। ২০০১সালে একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। গত সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ওইসময় এলাকায় তার পক্ষে নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিলও করেছিলেন। কিন্তু রাত ১০টার দিকে সর্বশেষ চুড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান। নুরুল মোস্তফা কামাল চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সীতাকুণ্ডের গণমানুষের পাশে আছি। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। আমি যেহেতু গতবার মনোনয়ন পেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত সভানেত্রী আবার আমাকে বাদ দিয়ে আর একজনকে দিয়েছেন আমি মেনে নিয়েছি দলের জন্য। দলের জন্য কাজও করেছি। তাই আমি আশা করি- এবার নেত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। তরুণ শিল্পপতি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন সান্টুও নির্বাচন করার জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি উপজেলার দলীয় কর্মকান্ডে জড়িত না থাকলেও দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থের যোগান দিয়েছেন। নানা সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি সহযোগিতা করেন। তিনি বলেন- মানুষের কল্যাণে কাজ করতে তার ভালো লাগে। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। মনোনয়ন পেলে নির্বাচিত হয়ে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানসহ সীতাকুণ্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখার কথাও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ থেকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সীতাকুণ্ড সমিতি-ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেছি, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিগত ২০০১ সালে মনোনয়নের জন্য আবেদন করলে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পরবর্তী সময়ে মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। তাই এবার মনোনয়ন চাইবো। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এই আসনে মনোনয়ন দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। সীতাকুণ্ড উপজেলাকে বেকার ও নিরক্ষরমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে সীতাকুণ্ড আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকীয় উপ-কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা লায়ন আলহাজ্ব হায়দার আলী চৌধুরী। তিনি নগরীর ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের নাজির বাড়ির সন্তান। মুক্তিযোদ্ধা লায়ন হায়দার আলী চৌধুরী বলেন, আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একজন কর্মী। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছি। সেই থেকে জাতির পিতার আর্দশকে লালন করে চলেছি। নগর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এই চট্টগ্রামের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আমি একজন সক্রিয় নেতা ছিলাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমস্ত সফলতা ও অর্জনগুলো আমি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছি। বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক হিসেবে আমি এবার দল থেকে মনোনয়ন চাইবো। আমি মনোনয়ন পেলে সীতাকুন্ডকে শিপ ব্রেকিং শিল্প ও পর্যটন নগরীতে পরিণত করবো। একটি আধুনিক উপশহর হিসেবে সীতাকুণ্ডকে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। আমেরিকা থেকে নৌকার প্রার্থী হতে চান আলেকজান্ডার চৌধুরী। তাঁর পুরো নাম আবুল কালাম চৌধুরী, তবে আলেকজান্ডার চৌধুরী নামে এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি উপজেলা আ’লীগ সদস্য ও সাবেক সহ-সভাপতি। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেও দেশে ফিরে এলাকাবাসীর কাছে তিনি নিজে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ওইসময় নির্বাচনের আগে সীতাকুণ্ড এলাকা তাঁর ছবি সম্বলিত পোষ্টারে ছেঁয়ে যায়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে আমি ছাত্রজীবন থেকেই আ’লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। দুঃসময়ে রাজপথে সভা, সমাবেশ ও দলের সকল কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সবর্দা সচেষ্ট ছিলাম দলকে সুসংগঠিত করতে। একসময় জীবন ও জীবিকার তাগিদে আমেরিকায় গেলেও দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুৎ হয়নি। তাই বোস্টন আ’লীগের সভাপতি পদে আসীন থেকে অব্যাহত রেখেছিলাম দলীয় কর্মকান্ড। তিনি বলেন, অভিভাবকহীন সীতাকুণ্ডে আ’লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে যে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানে দলীয় কোন্দল বিবর্জিত ও তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দেবেন। দলীয় কর্মকান্ডে আমার সম্পৃক্ততা, ত্যাগের মূল্যায়ন ও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার অবদানকে বিবেচনা করা হলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আমি আশাবাদী।
এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক দল জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবিরও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড)আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি পদে মনোনয়ন লাভের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগ তিনভাগে বিভক্ত। তাদের গ্রুপিংয়ের কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হতে পারে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মনে করেন, এবারে চট্টগ্রাম-৪ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে জোট এখানে জয়ী হবে। ইসলামিক ফ্রন্ট থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব মো. মোজাম্মেল হোসেন এ আসনে শরীক দলের প্রার্থী হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, ইসলামিক ফ্রন্ট উত্তর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ফৌজদারহাট বাজার কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সেবামুলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।

x