প্রাকৃতিক বিনোদন স্পটগুলো এখনও জমজমাট

চাইলে অঁনেও আইত পারন

মনজুর আলম : বোয়ালখালী

সোমবার , ১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
141

নদী-পাহাড় আর সমতল ভূমির ত্রি-মাত্রিক ধারার এক বিশাল বিস্তীর্ণ জনপদ বোয়ালখালী। উত্তর-পশ্চিমে শান্ত মেজাজে বয়ে চলা গানের নদী, প্রাণের নদী কর্ণফুলী। পূর্বে সবুজ অরণ্যে ঢাকা জ্যৈষ্ঠপুরা ও কড়লডেঙ্গা পাহাড়। দক্ষিণে বিশাল সমতল ভূমি। সব মিলিয়ে বলা যায় যেন স্রষ্টার সুনিপুণ তুলির আচড়ে গড়ে উঠা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাণী বোয়ালখালী। যার তুলনা সে শুধু নিজেই। এর পূর্ব সীমান্তে কড়লডেঙ্গার সু-উচ্চ পাহাড়ি চূড়ায় রয়েছে চন্ডীর উদ্ভবস্থল হিসেবে পরিচিত নজরকাড়া বিখ্যাত মেধস মুনির আশ্রম। যেখান হতে এ উপ-মহাদেশে দুর্গা-পূজার প্রচলন হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আবার এর অল্প দূরত্বেই রয়েছে বিখ্যাত দরবেশ হযরত বোয়ালী-কালন্দর শাহের মাজার। যার নামেই বোয়ালখালী নামক বিশাল এ জনপদের নামকরণ হয়েছে বলে অনেকেরই বিশ্বাস। তারও একটু দূরত্বে আহলা বৈদ্য পাড়ায় রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বৌধিবৃক্ষ- উপসনালয়। এ তিন ধর্মীয় উপসনালয়কে ঘিরে এখানে জাতীয় তীর্থ কেন্দ্র গড়ে তোলার একটা প্রচেষ্টার কথা শুনা যাচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। আবার জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে মনমাতানো পাহাড়ি ছড়া। রয়েছে বিশাল রাবার বাগানসহ নানা রকমের শাক-সবব্জি লেবু ও ফলমূলের বিশাল-বিশাল বাগান। উত্তরে কর্ণফুলী নদীর তীরে স্থানীয়দের উদ্যোগে সামপ্রতিক সময়ে বেসরকারিভাবে গড়ে উঠেছে “মুক্তিযোদ্ধা রিভার ভিউ” নামে বিনোদনের এক পর্যটন স্পট। অপরদিকে জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড় কেটে নির্মিত রাস্তাটি নতুন করে মন কেড়েছে সবার। গুচ্ছগ্রাম থেকে শুরু করে পাহাড়ের আঁকা-বাঁকা পথ বেয়ে রাঙ্গুনিয়ার গুদামঘর পর্যন্ত চলে গেছে এটি।
পাহাড় কেটে উঁচু-নিঁচু পথ বেয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যকে ধারণ করে এগিয়ে গিয়েছে রাস্তাটি। এটির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন শত-শত লোকের সমাগম হচ্ছে এখানে। সবার ধারণা রাস্তাটি চালু হলে খুলে যাবে সম্ভাবনার দুয়ার। পাহাড়ে উৎপাদিত পণ্য কম খরচে লোকালয়ে আসতে পারলে কাঁচা বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তাছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য রাস্তাটি দিয়ে সহজেই বোয়ালখালীসহ শহরের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি দুই অঞ্চলের দূরত্ব কমবে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এগুলোকে ঘিরে এখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের প্রচুর পর্যটক ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের ঈদে অনেক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। এখন ও রাত-দিন সমানতালে চলছে নারী-পুরুষ,আবাল-বৃদ্ধ বনিতার জমজমাট মিলনমেলা। চাইলে তাঁদের সাথে অঁনেও আইত পারন শিল্পীর গাওয়া গানের এ কলিটির মতন,”যদি মন চায় তবে চলে এসো-একটু নিরালায়”। কিছুক্ষণ সময় ধরে এখানকার প্রকৃতির রূপ, রস-রং অঙ্গে মাখিয়ে আপনিও সুন্দর মন নিয়ে ফিরে যেতে পারেন নিজ গন্তব্যে। তখন কিছুটা হলেও ভাল লাগবে।

x