প্রসঙ্গ : প্রস্তাবিত নতুন যতিচিহ্ন

ড. এন. এইচ. এম. আবু বকর

শুক্রবার , ৮ মার্চ, ২০১৯ at ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
47

প্রায় একযুগ পূর্বে (২৮ এপ্রিল ১৯৮৯) দৈনিক আজাদী পত্রিকায় নিরীক্ষাপ্রিয় সৃষ্টিধর্মী লেখক চৌধুরী জহুরুল হকের ‘যতিচিহ্ন বিষয়ক নতুন প্রস্তাব” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। অনেক দিন আগে লেখকের সুবাদে প্রবন্ধটি আমার পড়ার সুযোগ হয়। বর্তমান রচনাটি এর প্রতিক্রিয়া হিসাবে লিখিত।
যতিচিহ্ন শব্দটির অর্থ থেকে যা বোঝা যায়, তাহল ছেদ্‌, বিরতি বা বিরামের চিহ্ন। এদিক থেকে যতিচিহ্ন, বিরতিচিহ্ন, ইত্যাদি সমার্থক শব্দ। বাক্যে কোথায় স্বল্প বা পূর্ণবিরতি, বাক্যে ব্যবহৃত শব্দের বা পদের সুর অর্থাৎ প্রশ্ন, বিস্ময়, নির্দেশ ইত্যাদি বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকেই সাধারণত যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন বলা হয়।১ বাংলা ভাষায় প্রায় ১৪টিরও বেশি যতিচিহ্নের প্রয়োগ দেখা যায়।২ উপরোক্ত লেখক তাঁর প্রবন্ধে প্রচলিত এই যতিচিহ্নগুলোর সঙ্গে নতুন চারটি চিহ্ন সংযোজনের প্রস্তাব করেছেন। এগুলো হচ্ছে-
১. স্মরণিকা বা স্মৃতিচিহ্ন <- ২. স্মৃতিচ্ছেদ বা স্মৃতিবিরতি চিহ্ন ।< ৩. কল্পনচিহ্ন বা কল্পনা চিহ্ন ->
৪, কল্পনাচ্ছেদ বা কল্পনা বিরতিচিহ্ন >।
এই চিহ্নগুলি নিঃসন্দেহে লেখকের দীর্ঘদিনের চিন্তা ও গবেষণার ফসল। লেখক ইতোপূর্বেও ‘চোঙ্গাগল্প’, ‘রম্য-রঙ্গ-কৌতুক নাট্য পঞ্চরং’, ‘আত্মসাক্ষাৎকার’ ইত্যাদি বিষয়ে নিরীক্ষা চালিয়ে আলোচিত ও নন্দিত হয়েছেন। তাঁর ভাষায় নতুন প্রস্তাবিত এই যতিচিহ্নগুলি ‘স্মৃতি ও ভাব-কল্পনার প্রবাহমানতা ও ছেদ জ্ঞাপক।’ নাটক ও চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘ফ্লাশ ব্যাক’ ও ‘ফ্লাশ ফরওয়ার্ড’ পদ্ধতির মত ‘সময়ের অখন্ড ত্রিকালিক সত্তা ও চেতনার সঞ্চারণশীলতা শৈল্পিকভাবে উপস্থাপনের’ জন্যও এই চিহ্নগুলো ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এই লক্ষ্যে গল্প-উপন্যাসে চিহ্নগুলো কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে তার কিছু নমুনাও তিনি প্রবন্ধে দিয়েছেন। লেখকের ধারণা, প্রচলিত যতিচিহ্নগুলোর সঙ্গে যদি তাঁর প্রস্তাবিত চিহ্নগুলো সংযোজিত ও কার্যকর করা যায় ‘ভাষার গতিপ্রবাহে’ এবং ‘কথা সাহিত্যে জীবনের প্রতিরূপ চিত্রণ ও অন্তর্লোকের ঊদ্ভাস রচনায় মৌলিক গুণগত সাফল্য অর্জিত হবে।’
প্রবন্ধের শুরুতে লেখক যতিচিহ্নের বিশেষ কোন সংজ্ঞা দেন নি। তবে এর ঐতিহাসিক পটভূমি ও গুরুত্ব সম্পর্কে
যথার্থই উল্লেখ্য করেছেন যে, বাংলা গদ্যকে বিশিষ্ট ও বোধগম্য করার মানসে এর ব্যবহার শুরু হয়। এই ব্যবহার বিশৃঙ্খল গদ্যভঙ্গিকে যেমন সুস্থির ও পরিকল্পিতভাবে বিন্যস্ত করেছে, তেমনি অর্থদ্যোতনা, ভাব প্রকাশ, বোধগম্যতা ও আবেগের মাত্রা নির্ণয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশকের ভূমিকা পালন করে ও প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের তেমন প্রচলন ছিল না। এক দাঁড়ি বা দুই দাঁড়িই ব্যবহৃত হত। কমা, সেমিকোলন, প্রশ্নচিহ্ন ও বিস্ময়চিহ্নের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। যতিচিহ্নের অপ্রতুলতা তখনকার বাংলা বাক্যরীতির দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।৩ তবে গত দুই শতাব্দীতে বানান ও বাক্যরীতিসহ ভাষাগত অবক্তব্য উৎকর্ষের সঙ্গে বাংলা যতিচিহ্নের প্রয়োগেও বড় রকমের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে যতিচিহ্নের প্রথম সচেতন ও অর্থপূর্ণ ব্যবহারের কথা ভাবেন রামরাম বসু। তাঁর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র শীর্ষক গ্রন্থের প্রথমদিকে তিনি কোনো কোনো অনুচ্ছেদের শেষে এক দাড়ি ব্যবহার করলেও শেষের দিকে প্রতিটি অনুচ্ছেদের প্রতিটি বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহার করেন। একই সালে প্রকাশিত উইলিয়াম কেরির কথোপকথন এন্ড ইংরেজি বাক্যে ব্যবহৃত যতিচিহ্নের অনুসরণে বাক্যের শেষে দাড়ি ব্যবহৃত হয়েছে। এই সময়ে খ্রিস্টান মিশনারিরা যে গদ্য রচনা করেছেন তা মূলত দু’ধরনের ইংরেজি থেকে অনূদিত ও মৌলিক বাংলা রচনা। অনূদিত রচনায়, তাঁরা মূল ইংরেজি রচনার অনুকরণে বিভিন্ন রকমের যতিচিহ্ন ব্যবহার করলেও মৌলিক বাংলা রচনায় কেবল দাড়ি ব্যবহার করেছেন। ১৮১৯ সাল থেকে প্রকাশিত রচনাসমূহে রামমোহন রায়ও ইংরেজি ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন প্রয়েগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন । এসব চিহ্নের মধ্যে দাড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, সেমিকোলন ও বিস্ময়চিহ্ন উল্লেখযোগ্য। যতিচিহ্ন প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা গদ্যকে প্রথম সরল ও গতিময় করে তোলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করেন । বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার (১৮৬৫) শীর্ষক রচনায় বিদ্যাসাগর দাড়ি, কমা ও সেমিকোলনের সূচারু প্রয়োগ দেখিয়েছেন। এমন কি প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন ইত্যাদিও তিনি ব্যবহার করেছেন।৪
ঊনবিংশ শতাব্দির শেষভাগ পর্যন্ত উদ্ধৃতিচিহ্ন, ড্যাশ ইত্যাদির ব্যবহার ছিল কম প্যারীচাঁদ মিত্রের চন্দ্র আলালের ঘরের দুলাল গ্রন্থে ড্যাশ চিহ্নের ব্যবহার রয়েছে। বাংলা যতিচিহ্নের ব্যবহারে এর পর থেকেই আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যে বাংলা যতিচিহ্নের প্রয়োগ সর্বাধিক প্রসারিত হয়। তবে বিদ্যাসাগরের পরে রবীন্দ্রনাথই যতিচিহ্নের প্রয়োগকে অধিক জনপ্রিয় করে তোলেন। তাঁর গদ্য রচনার ক্রমবিবর্তন লক্ষ করলেই বাংলা ভাষায় যতিচিহ্ন প্রয়োগের বিবর্তিত রূপটি সহজে অনুধাবন করা যায়। কমা, দাড়ি, সেমিকোলন, প্রশ্নচিহ্ন, হাইফেন ইত্যাদি প্রায় প্রত্যেকটি বিরামচিহ্নের শত শত প্রায়োগিক দৃষ্টান্ত রবীন্দ্রনাথের রচনায় ছড়িয়ে রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের পরে যতিচিহ্নের সচেতন প্রয়োগে রাজশেখর বসু ও বুদ্ধদেব বসুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কমা, সেমিকোলন ও ঊর্ধ্বকমা সম্পর্কে তাদের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের গদ্য রচনার প্রয়োগ থেকে অনুধাবন করা যায়।৫
যতিচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত চিহ্নগুলোর মধ্যে কোনো কনোটি বাক্যান্তর্গত আবার কোনো কনোটি বাক্যের বাইরে বসে। হাইফেন, কমা, কোলন, সেমিকোলন ইত্যাদি বাক্যের মধ্যেই বসে। এইজন্য এগুলোকে অভ্যন্তরীন যতিচিহ্ন বলা হয়। আবার দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বাক্যের বাইরে বসে। এগুলিকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বলা হয়। সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বকমা, প্রশ্নচিহ্ন ও বিস্ময়চিহ্ন বাক্যের শেষে বসে, আবার কখনও কখনও বাক্যের ভিতরেও বসে। এইভাবে কোনো কোনো চিহ্ন কখনও অভ্যন্তরীণ চিহ্ন হিসেবে, এবং কখনও প্রান্তিক চিহ্ন হিসেবেও কাজ করে। উদ্ধৃতিচিহ্নও এভাবে বাক্যের ভেতরে ও বাইরে বসে।৬
কিন্তু চৌধুরী জহুরুল হক প্রস্তাবিত চিহ্নগুলির অবস্থান বা প্রয়োগরীতি প্রচলিত যতিচিহ্ন সমূহের সঙ্গে তুলনায় ব্যতিক্রমধর্মী তিনি একদিকে ‘বাক্য শুরু হবার পর, অসমাপ্ত এবং বাক্য শেষে সর্বত্রই’ তার প্রস্তাবিত চিহ্নগুলি ব্যবহার করা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে বলেছেন, ‘নান্দনিক ও ভাবগত সৌন্দর্য’ রক্ষার কারণে চিহ্নগুলির আগে-পরে অন্য কোনো চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়, তাঁর প্রস্তাবিত চিহ্নগুলি প্রচলিত যতিচিহ্নের প্রাথমিক শর্তসমূহের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?
উপরের আলোচনায় দেখা যায় যে, প্রচলিত যতিচিহ্ন পাঠককে বাক্যে শ্বাসবিরতি বা পাঠবিরতির জায়গাটা নির্দেশ করে। তবে এটিই যতিচিহ্নের সর্বাধিক গুরুপূর্ণ কাজ নয়। যতিচিহ্ন বাক্যের গঠন এবং অর্থবোধেরও সহায়ক। যে কোন রচনার প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য পাঠকের কাছে লেখকের বক্তব্য সহজে ও যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া। পাঠক যখন নিঃশব্দে বা সশব্দে কিছু পড়েন তার অর্থ অভ্রান্ত ও যথাযথভাবে তাঁর মনে গেঁথে যাওয়া জরুরি। আর সেই উদ্দেশ্যেই তাঁর বাক্যে সুচিহ্নিতভাবে যতিচিহ্ন ব্যবহার করতে হয়। চৌধুরী জহুরুল হকের রচনায় ও উপরোক্ত বিষয় সমূহের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে যতিচিহ্নের সুনির্দিষ্ট প্রয়োগরীতি অদ্যাবধি নির্ণিত হয়নি। এই কারণে এর ব্যবহার নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে কিছুটা মত-পার্থক্যও লক্ষ করা যায়। যেমন: বাক্যের কোনো জায়গায় কেউ সেমিকোলন ব্যবহার করলে, সেখানে অন্য কারও পছন্দ হয়তো দাড়ি; কেউ কেউ আবার এক জাতীয় বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের পরে কমা দিতে আগ্রহী নন। অন্যদিকে কারও রচনায় আবার কমা বহুল প্রয়োগও নজর এড়ায় না। যা হোক, এটি স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, কোনো চিহ্নকে যতি চিহ্ন হতে হলে, সেই চিহ্নটিকে অবশ্যই কোনো বাক্যে পাঠবিরতির স্থান নির্দেশ করতে হবে এবং বাক্যের গঠনও অর্থবোধে সহায়ক হতে হবে। কিন্তু লেখকের প্রস্তাবিত নতুন চিহ্নগুলি যতিচিহ্নের এই প্রাথমিক শর্তগুলির পরিপূরক নয়। কারণ এই চিহ্নগুলি কোন গদ্য রচনার, বিশেষ করে গল্প-ঊপন্যাসের ঘটনা প্রবাহে কোনো অনুচ্ছেদের পরেই প্রয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাক্যের পাঠবিরতি, গঠন বা অর্থবোধে সহায়তা করার জন্য নয়। স্মৃতি ও ভাব-কল্পনার প্রবাহমানতা ও ছেদ জ্ঞাপনকে উপলক্ষ করে এক বা একাধিক অনুচ্ছেদের শেষে, অসমাপ্ত বাক্যে বা বাক্য শুরুর পর এই চিহ্নগুলি প্রয়োগের প্রস্তাব করার ফলে তা বাক্যের কাঠামোকে অতিক্রম করে সমগ্র রচনাকে পরিব্যাপ্ত করে। লেখক দুটি উদাহরণের মাধ্যমে তার প্রবন্ধে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপস্থাপনও করেছেন। কিন্তু তাতে গল্পের সাবলীলতা ও গতিপ্রবাহ আপাতঃদৃষ্টিতে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হয়। এতদ্ব্যতীত যে কোনো গল্প বা উপন্যাসে “সময়ের অষন্ড ত্রিকালিক সত্তা ও চেতনার সঞ্চরণশীলতা’ উপলব্ধিতে মনোযোগী পাঠক স্বাভাবিকভাবেই অভ্যস্ত হয়ে যায় ৷
এভাবে যতিচিহ্নের প্রচলিত সংজ্ঞার গন্ডিতে লেখকের প্রস্তাবিত চিহ্নগুলিকে বিচার করতে গেলে মূলত এর নঞ্চর্থক
দিকটাই অনেকের সামনে আসবে। কিন্তু কোনো সংজ্ঞাই চিরন্তন নয়, সময়ের প্রয়োজনে এর সীমা প্রসারিতও হতে পারে। এই বিবেচনা থেকে, প্রস্তাবিত চিহ্নগুলির একটা সদর্থক দিক আমরা খুঁজে দেখতে পারি।
এটি সত্য যে, লেখকের প্রস্তাবিত চিহ্নগুলি নিঃসন্দেহে নতুন ও আগ্রহোদ্দীপক । কারণ, অন্য কোনো ভাষায় এ ধরনের চিহ্ন উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা অদ্যাবধি লক্ষ করা যায় নি৷ তাই কিছুটা সংশোধনী সাপেক্ষে এই চিহ্নগুলির পরীক্ষামূলক ব্যবহার প্রস্তাব করা যায়। যেমনঃ
এক. বাক্য কাঠামোর বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র এক বা একাধিক অনুচ্ছেদের শেষে এই চিহ্নগুলি ব্যবহৃত হতে পারে। তবে তা অসমাপ্ত বাক্যে বা বাক্য শুরুর পরে ব্যবহৃত হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কোনো অনুচ্ছেদ শেষে নতুন অনুচ্ছেদ শুরুর আগে মাঝখানে খালি জায়গায় এই চিহ্নগুলি ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ এতে পাঠক সহজে ‘স্মৃতিচারণ বা ভাব-কল্পনার প্রবাহমানতা’ উপলব্ধি করতে পারবেন বা এ বিষয়ে অধিক সচেতন হবেন ৷ এভাবে ব্যবহৃত হলে গল্পের ধারাবাহিকতাও কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে মনে হয় না।
দুই একইভাবে এই চিহ্নগুলি নাটকে, বিশেষ করে বেতার-টিভি-চলচিত্রের জন্য ব্যবহৃত স্ক্রিপ্টে ফ্লাশব্যাক, ফ্লাশ-ফরওয়ার্ড ইত্যাদি বুঝানোর জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে।৭ প্রস্তাবিত চিহ্নগুলির প্রয়োগ এই পদ্ধতিতে যদি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা যায়, তাহলে এক পর্যায়ে সময় আমাদের বলে দেবে তা কতটা গ্রহণীয় বা বর্জনীয়।
বর্তমানে প্রস্তাবিত চিহ্নগুলি প্রয়োগ না করেও কেবল বর্ণনার মাধ্যমে সমকালীন কথাসাহিত্যে স্মৃতি, স্মৃতিচ্ছেদ,
কল্পনা, কল্পনাচ্ছেদ ইত্যাদি বুঝানো হয়ে থাকে। তাতে কোন ভাল গল্প বা উপন্যাসের ‘গতিপ্রবাহ’ খুব একটা বাধাগ্রস্ত হয় বলে শোনা যায় না।
পাদটীকা
১ সুভাষ ভট্টাচার্য, তিষ্ঠ ক্ষণকাল : বাংলা বিরামচিহ্ন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (কলকাতা : আনন্দ পাবলিশার্স, ১৯৯৯), পৃ. ১০।
২. দাড়ি, কমা, প্রশ্নচিহ্ন, সেমিকোলন, হাইফেন, কোলন, কোলন-ড্যাশ, ড্যাশচিহ্ন, ঊর্ধ্ব কমা, উদ্ধৃতিচিহ্ন,
বন্ধনী, প্যারেনথিসিস, ইটালিকস বা বক্রাক্ষর, বিন্দু, তারকাচিহ্ন, বিকল্প চিহ্ন ইত্যাদি।
৩. সুভাষ ভট্টাচার্য, পূর্বোক্ত, পৃ. ১০
৪. ঐ, পৃ. ১৫-১৯।
৫. ঐ, পৃৃ ১৯২০
৬. ঐ, পৃ: ১৬
৭. তুলনীয়: ইলু ইলিয়াস, চৌধুরী জহুরুল হকের নান্দনিক নিরীক্ষা ও নির্মিতি (চট্টগ্রাম : কৃতকীর্তি, ২০০০),
পৃৃ ৭০-৭১।

- Advertistment -