প্রমথ চৌধুরী : আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান স্থপতি

রবিবার , ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
687

বাংলা সাহিত্যে একজন অনন্য সাধারণ সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী। ‘বীরবল’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে তিনি বাংলা ভাষারীতিতে বিশেষ পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর মাধ্যমেই প্রথম বিদেশী সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাথে বাঙালির পরিচয় ঘটে। তাঁর রচনায় মেলে চিরায়ত বাঙালির স্বরূপের সন্ধান। আজ তাঁর ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

প্রমথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার বংশের সন্তান। পৈত্রিক বাড়ি পাবনা জেলার হরিপুরে। তবে তাঁর জন্ম যশোরে, ১৮৬৮ সালের ৭ই আগস্ট। ১৮৯০ সালে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ সম্পন্ন করে পরবর্তীকালে বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি পড়ে আসেন। কলকাতায় ফিরে হাইকোর্টে যোগদান করলেও শিল্পমনা প্রমথ এই ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে পারেন নি। তাঁর বাবার সংগ্রহে ছিল প্রচুর বই। শৈশব থেকেই দেশীবিদেশী বিখ্যাত সব লেখকদের লেখার সাথে পরিচয় ঘটেছিল তাঁর। পারিবারিক মননশীল আবহাওয়া, রাজবাড়ির ঐশ্বর্য, ধনী ও বিলাসী লোকদের সাথে নিত্য মেলামেশা, আত্মীয়তার সুত্রে ঠাকুরবাড়ির সাথে যোগাযোগ সব মিলিয়ে প্রমথ চৌধুরী হয়ে উঠেছিলেন রসিক সাহিত্যপ্রেমী। তিনি প্রধানত গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর রচনা চিন্তার অভিনবত্ব, ভাষার কারুকাজ, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, নির্ভার অথচ অভিনব গদ্যশৈলী এবং পরিহাসপ্রিয়তার বৈশিষ্ট্যে অনন্য। বিশেষ করে, প্রবন্ধগুলো কূপমণ্ডূকতা, অন্ধবিশ্বাস ইত্যাদির বিরুদ্ধে বিজ্ঞানমনস্কতা, মানবতা আর যুক্তিবাদ প্রতিষ্ঠায় সফল। তাঁর রচনার মধ্যে কাব্যগ্রন্থ: ‘সনেট পঞ্চাশৎ’, ‘পদচারণা’; গল্পসংগ্রহ: ‘চার ইয়ারী কথা’, ‘গল্প সংকলন’, ‘নীললোহিত’; প্রবন্ধ: ‘তেলনুনলাকড়ি’, ‘বীরবলের হালখাতা’, ‘প্রাচীন সাহিত্যে হিন্দু মুসলমান’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘বীরবলের টিপ্পনী’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ‘সবুজপত্র’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন প্রমথ চৌধুরী। কবিতা, গল্প আর প্রবন্ধের সম্মিলনে পত্রিকাটিতে ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া। ১৯৪৬ সালের ২রা সেপ্টেম্বর প্রমথ চৌধুরী প্রয়াত হন। কিন্তু কৌতুকরসে সমৃদ্ধ লঘু মেজাজের হাসিখুশি রচনায় আজও তিনি জীবন্ত।

x