প্রভুবাবারা আতঙ্কে

মোস্তফা কামাল পাশা

মঙ্গলবার , ১ অক্টোবর, ২০১৯ at ১২:২২ অপরাহ্ণ
170

খেলাটা জমেছে ভালই। নেত্রী জাতিসংঘ অধিবেশন যোগ দিয়ে এবার নিজের কীর্তির জন্য নানা বিরল সম্মাননা পাচ্ছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী, টীকাদান কর্মসূচির সাফল্যের সেরা পুরস্কারসহ আরো কত সম্মাননা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতিসংঘ মহাসচিবের ভোজসভায় নিজ থেকে এসে কথা বলছেন। তাঁর ভোজসভায় যোগ দিতে নেত্রীকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন! এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর নেত্রীর ৭৩ তম জন্মদিনটি নিউইয়র্কে কেটেছে। দেশে আওয়ামী লীগ দলীয় উদ্যোগে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সাদামাটা আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। জন্মদিন পালনে নেত্রীর কঠোর নিষেধাজ্ঞা, এবার পাড়ায় মহল্লায় অসংখ্য ভূঁইফোড় সংগঠন, ডালপালা, শিকড়-বাকড় ও পরগাছার আয়োজন থেমে গেছে। এরমাঝে টেন্ডার শামীমসহ যুবলীগ, কৃষক লীগ,আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বহু নেতার হঠাৎ করে হাজার হাজার কোটি টাকা, স্বর্ণ, অস্ত্র, ক্যাসিনো মালিকানার টাকা ও সোনার খনি আবিষ্কার হচ্ছে প্রতিদিন। টেন্ডার বাদশাহ শামীম বিএনপি থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সমবায় সম্পাদক ও নারায়নগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহসভাপতির যুগল পদ দখল নেয়ার বিরল গৌরবের অংশিদার! শুধু কী তাই, মির্জা আব্বাসের হাতেগড়া শামীম গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সব বড় টেন্ডারসহ সরকারের বড় উন্নয়ন কাজের টেন্ডার একাই নিয়ন্ত্রণ করতো বলে অভিযোগ। কয়েক মন্ত্রীসহ বড় বড় আমলা, নেতার প্র্রশ্রয়ের ছাতা থাকায় শামীম নিজেও হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। তার নাম জি কে শামীমের বদলে হয়ে গছে টেন্ডার শামীম। বান্দরবানে অবৈধভাবে কেনা ৫০ একর জমির উপর তিনতারকা মানের ট্যুরিস্ট রিসর্ট ও স্পা সেন্টার গড়েছে শামীম। বিনিয়োগ মাত্র দু’শ কোটি টাকা! সাথে আছে আরো ৯ ভাগ্যবান। শামীম ভিআইপি জীবন যাপনে অভ্যস্ত। ৬ চৌকস গাণম্যান বলয়ে থেকে মন্ত্রীর প্রটোকলে চলাচল করতো। তার বিলাসবহুল নিকেতনের অফিস থেকে বিপুল টাকা,বিদেশি মুদ্রা, অস্ত্র, মদের কার্টন, ইয়াবা এবং ৬ দেহরক্ষীসহ আটক না করলে এই মহাপুরুষকে চেনা-জানার ভাগ্য জাতির হতো না! তার লেজ ধরে সামনে আরো অনেক বিশাল বিশাল রুই, কাতলা ভেসে উঠবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, দক্ষিণ যুবলীগ নেতা খালিদ, কলাবাগান ক্লাবের ‘রাজা’ কৃষকলীগ নেতা শফিক, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ক্যাসিনোর আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত ভাইদের একাধিক বাড়ির বহু ভল্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি নগদ টাকা, সোনার খনি, অস্ত্রসহ কতকিছু। সম্রাট আটক হয়নি এখনো। মতিঝিল পাড়ার ক্যাসিনো ডন ঢাকা দক্ষিণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাঈদসহ অনেকে ভেগেছে সিঙ্গাপুর। যুবলীগ অফিসের পিয়ন থেকে দপ্তর সম্পাদকের পদে উঠে আসা অসংখ্য বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি ও শত শত কোটি টাকার মালিক আলাদিনের চেরাগওয়ালাও লাপাত্তা! মোহামেডান ক্লাবের কর্তা লোকমান হোসেনও জালে।
সব মিলিয়ে ক্যাসিনো খালেদকে ধরার পর এই ছিদ্রসহ নানা খোঁড়ল থেকে একের পর এক বেরিয়ে আসছে বিষধর অসংখ্য সাপ! খুলে যাচ্ছে দুর্নীতি ও লুঠপাটের অবিশ্বাস্য চেইনের আংটা। আংটার সাথে কত তালেবর নেতা, ন্যাতা ও আমলা, কামলার গিট আটকে আছে, ভাবতেই ঘেন্নায় বমি পায়! যতদূর জানি, নেত্রী কাউকে এবার ছাড় দিচ্ছেন না। বলেই দিয়েছেন, অনিয়ম দুর্নীতির জঞ্জাল যে- কোন মূল্যে সাফ করবেনই। কাজটা কঠিন, কিন্তু তিনি থামবেন না। খানিক প্রমাণ নিউইয়র্কে রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নেত্রীর সাক্ষাৎ পাননি। গ্রুপিং ক্ষতে জর্জরিত নেতারা এখন পেরেশানির একশেষ।
টাকা বানানোর বিশাল যাদুকর টেন্ডার শামীম এর মাঝে বলেই দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সব নেতা, আমলাকে টাকা ও অন্য রশিতে আটকানো সহজ। সাবেক ফ্রিডম পার্টি ক্যাডার, এখন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ এবং আটক বা আটকের অপেক্ষমান অন্যসব অভিযুক্ত ভিআইপি ক্রিমিনালের সুরও যদি একই হয়, তাহলে আপাতত সাফ সুতরো অনেক বড় নেতা-আমলাকে হয়তো ‘সোনারূপা ডুবানো’ পানিতে সাফাই হতেই হবে। কারণ বড় পাপ কখনো ঢাকনাচাপা থাকেনা। নেত্রী যে কাউকে আর ছাড় দেবেন না, আলামতেই স্পষ্ট। আমরাও চাই, লুঠ-দুর্নীতির হাঙর-কুমির যেন ৩০ লাখ শহীদ, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের রক্তধোয়া পবিত্র মাটিতে বংশবৃদ্ধির কোনো সুযোগই না পায়।
ব্ল্যাক হর্ণেট ভয়ঙ্কর
এবার অন্য স্বাদের খিচুড়ি। স্কুল জীবন থেকে বইপোকা। পাঠ্য বইএর মাঝে বাংলার গল্প, কবিতা গিলতাম, নতুন বইয়ের অপূর্ব সৌরভ পৃষ্ঠা ছড়িয়ে শুঁকতাম বারবার। ইতিহাস ভূগোলও রাত জেগে পড়ে ফেলি তরতাজা! শুরুতে ইংরেজি ভীতি থাকলেও পরে কেটে যায়। কিন্তু অঙ্ক, ব্যকরণ ভীতি ছিল ভয়াবহ।
বড়ভাই মরহুম মীর হাফেজ ছিলেন যেমন সৌখিন তেমনি মেধাবী। বাড়িতে দু’ গৃহশিক্ষক তাঁকে পড়াতেন। পড়তেন কাটির হাট হাইস্কুলে। আমি পিচ্চি, বয়সে তাঁর ৮ বছরের ছোট। স্যারেরা দেউড়ি ঘরে থাকতেন। শুরুতে পারিবারিক মীরবাড়ি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হই। স্লেট পেন্সিলে লেখার কসরত ওখানে শুরু, আগে কলাপাতায়ও সম্ভবত। কিন্তু অল্পদিনেই স্কুল বাদ দিয়ে পড়া শুরু হয়, বড় ভাইয়ের এক গৃহ শিক্ষকের কেয়ারে। বাড়িতেই প্রাইমারি শেষ। ৫ম শ্রেণির চূড়ান্ত পরিক্ষা দিতে হয় কাটির হাট হাইস্কুলে। বয়স কিন্তু খুব কম। ঘরে পড়ায় প্রাইমারির সব ক্লাসের সিড়ি ভাঙতে হয়নি। তবুও ভালভাবেই পাশ করে ভর্তি হই হাইস্কুলে।
বড়ভাই ততদিনে কলেজে। ওনিই আসল বইপোকা। কলকাতার উল্টোরথ, জলসা, ঢাকার পূবালী, সচিত্র সন্ধানীসহ দৈনিক আজাদী, ঢাকার দৈনিক পূর্বদেশ ছাড়াও নানা ম্যাগাজিন রাখতেন। গল্প, উপন্যাসের সংগ্রহও প্রচুর। বাংলা, ইংরেজি দুতরফেই। ওনার পাঠ সংক্রমণ ছড়ায় আমার রক্তে। গোপনে পছন্দের বই, ম্যাগাজিন পড়তাম। ক্লাস সিক্সের কথা মনে নেই। সেভেন থেকে একটু একটু মনে আছে। বয়স ক্লাসের তুলনায় খুব কম তাই। ক্লাসের পড়া বেশি পড়তে হতোনা। কিন্তু গোল বাঁধে অঙ্ক, এ্যালজেব্রায়। ব্যাকরণ মোটামুটি কব্জায় আনলেও অঙ্ক না! আলাদা শিক্ষক রাখার পরও। যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগেই শেষ। ভগ্নাংশ বা বড় বড় সুদকষাসহ অন্য অঙ্ক ঘিলু নেয়না। তালা ভেঙে ঢুকাতেই পারিনি। কীভাবে যে এসএসসি পাস করিছি, অঙ্ক শিক্ষক ও আল্লাহ জানেন! বোধহয় জ্যামিতি এবং গ্রেসট্রেস নিয়ে। ঠেলেঠুলে দ্বিতীয় বিভাগে। স্কুলেও কবিতা,গল্প লিখতাম। আলাদা খাতায়, চুপিচুপি। ক্লাস সেভেনে ধরা খাই, মরহুম মোসলেহ উদ্দিন স্যারের কাছে। যা একখান মার দেননা, তিনি। তওবা পড়ে কবিতাকে চিরতরে ছুটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। গল্প থামেনি, কলেজ ম্যাগাজিনে হিট গল্প আমার। কবিতাও এখন মশকো করি।
জীবনের শুরুতে নিহার রন্‌জন গুপ্ত, কুয়াশা সিরিজ খুউব টানতো। কিরিটি রায় রোল মডেল! তাঁর কালোভ্রমরসহ প্রায় সব বই। আসলে কালোভ্রমর নতুন করে ভেসে উঠায় এত্তো বাড়তি কাহানি! মার্কিন একটি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কালোভ্রমর’ কোড নামের নতুন ড্রোন সরবরাহ করছে মার্কিন বাহিনীকে। এটার মূল নাম ” ব্ল্যাক হর্ণেট পার্সোনাল রিকনায়ন্সাস সিস্টেম” [বিএইচপিআরএস]। নাম অনেক লম্বা হলেও কালোভ্রমর মাত্র ৩৩ গ্রাম ওজনের ৬” ইঞ্চি লম্বা খুদে একটি ড্রোন। স্থল সেনাদের বেল্টে আটকে রাখা যায়। কিন্তু পিচ্চির ক্ষমতা ভয়ংকর। এটা টানা ৪৫ মিনিট উড়তে পারে। আছে থার্মোল ইমেজিংসহ দু’ শক্তিশালী ক্যামেরা। অপারেটরকে (বাহক সেনা) আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে কোন শত্রু এ্যম্বুশ বা বিস্ফোরক থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ছবি পাঠিয়ে দেবে। রাতেও নাইট ভিশন চশমার মত সব ইমেজ পাঠাতে পারে । আফগান তালেবানদের সাথে বৈঠক ভেঙে দেয়ার পর আফগানিস্তানের বিশেষায়িত মার্কিন সেনাদের এই ড্রোন সরবরাহ করা হচ্ছে, ট্রাম্পের নির্দেশে। এটা যুক্ত হলে তালেবানদের চোরাগোপ্তা হামলা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ আড়াই কিলোমিটার এলাকা তাৎক্ষনিক স্ক্যানিং করে শত্রু অবস্থান জানিয়ে দেবে কালোভ্রমর। যাহোক, আমরা কালোভ্রমরের অবিশ্বাস্য মিশন দেখার অপেক্ষায়।

x