প্রবৃদ্ধির সুফল ভোগ করছে ধনাঢ্য গোষ্ঠী

আইএলওর শতবর্ষ অনুষ্ঠানে ড. মইনুল ইসলাম

শনিবার , ২০ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
54

অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধির সুফল ভোগ করছে মুষ্টিমেয় কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তি। দেশের শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষ জাতীয় উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশ এখন আয় বৈষম্যের দেশ হয়েছে। দেশে ধনস্ফীতির হার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। স্বজনতোষী ধনবানদের জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। দেশে কোটিপতির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের অর্থনীতি বাঁচানো যাবে না।
গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে আইএলও এবং আইএলও প্রথম কনভেশন গৃহীত ৮ ঘন্টা কর্মদিবসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মইনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী বান্ধব সরকার, শ্রমজীবীদের সরকার নয়। অথচ দেশের অর্থনীতির যে সমৃদ্ধির চিত্র তার কারিগর হচ্ছেন দেশের কৃষক সমাজ, প্রবাসী কর্মজীবী ও গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত শ্রমজীবী নানা স্তরের মানুষ। বৈষম্যমূলক শিক্ষার কারণে প্রশিক্ষিত শ্রমজীবী সৃষ্টি করা যাচ্ছেনা।
ঢাকাস্থ আইএলও কান্ট্রি অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন, পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে পরিস্থিতির উন্নতিতে আইএলও কাজ করছে। অর্তনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশ সকল ক্ষেত্রেই টেকসই উন্নয়নের জন্য আইএলও গুরুত্ব দেবে। সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে শ্রমক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে আইএলও তৎপর থাকবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত। বিষয় ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক সুভাষ দে। সভায় বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, আইএলও ঢাকা কান্ট্রি অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার সাইদুল ইসলাম, নারী নেত্রী নূরজাহান খান, সিইউজে সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শফিকুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান।
সভায় আনোয়ার হোসেন পিন্টুর চিত্রনাট্য ও পরিচালিত স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক প্রদর্শন করা হয়।
মূল প্রবন্ধকার সুভাষ দে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরে দৈনিক ১২ থেকে ১৫ ঘন্টা পর্যন্ত শ্রম দিতে হয়। এতে তাদের স্বাস্থ্য ও মানসিক ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত পরিশ্রম করেও পুষ্টি সামর্থ্য অনেক কম। সকল সেক্টরে আইএলও এবং দেশীয় আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের কর্মঘন্টা ও জীবনমান অনুসারে মজুরি প্রদান আবশ্যক। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x